ঢাকা     শনিবার   ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  ফাল্গুন ৮ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

রাঙামাটির শহীদ মিনারে বিভিন্ন জাতিসত্তার অনন্য সম্মিলন

রাঙামাটি প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৩:৪২, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ১৩:৪৫, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রাঙামাটির শহীদ মিনারে বিভিন্ন জাতিসত্তার অনন্য সম্মিলন

ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রথম পুষ্পস্তবক অর্পণ

‘ম ভেইয়োর লো’লোই রাঙেয়ি একুশে ফেব্রুয়ারি, মুই হি পুরি ফেলে পারিম’- নিজস্ব মাতৃভাষায় আব্দুল গাফফার চৌধুরীর অমর একুশের গানটি গাইতে গাইতে শহীদ মিনারের দিকে এগুচ্ছে একদল চাকমা শিক্ষার্থী। ঠিক তাদের পেছনেই আরেকদল শিক্ষার্থী বাংলা ভাষায় ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’ গাইতে গাইতে শহীদ মিনারের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

এভাবেই একুশের সকালে রাঙামাটির শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ চাকমা, মারমা, তঞ্চঙ্গ্যা, ত্রিপুরাসহ বিভিন্ন নৃ গোষ্ঠীর মানুষ এবং বাঙালি ভাষাভাষীর মানুষের মেলবন্ধনে মুখরিত হয়ে ওঠে। মাতৃভাষা রক্ষার দাবীতে ১৯৫২ সালে যারা জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, তাদের সেই আত্মত্যাগ যেন সার্থক হয়ে উঠেছে পাহাড়ের এই বৈচিত্র্যময় ভাষা ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনে। বিভিন্ন জাতিসত্তার মানুষের এই সরব উপস্থিতি একুশের চেতনাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

আরো পড়ুন:

ভোর থেকে জেলা সদরের বিভিন্ন বিদ্যালয়, কলেজ, সামাজিক, পেশাজীবি, সরকারি-বেসরকারি দপ্তর ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো লাইনে ধরে রাঙামাটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এর আগে একুশের প্রথম প্রহরে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রথম পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী এবং পুলিশ সুপার মুহম্মদ রকিব উদ্দিন। এসময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, সহকারী পুলিশ সুপার, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেবৃন্দসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। জেলা প্রশাসন পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে তারা ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন। প্রশাসনের শ্রদ্ধা নিবেদনের পরপরই একে একে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলো। 

শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাতে শহীদ মিনারে আসা রেবিকা চাকমা বলেন, মাতৃভাষার জন্য আমাদের দেশের মানুষ রক্ত দিয়েছেন। আমরাও আমাদের মাতৃভাষা চাকমায় কথা বলছি। প্রত্যেক জনগোষ্ঠী তাদের নিজস্ব মাতৃভাষায় কথা বলুক এবং এর লিখিত রূপও যেন সংরক্ষণ করে, সেদিকে সরকারের নজর দেওয়া দরকার।

মং চিং মারমা বলেন, অনেক ভাষা হারিয়ে যাচ্ছে, বিশেষ করে পাহাড়িদের ছোট ছোট নৃ গোষ্ঠীগুলোর লিখিত রূপ সংরক্ষণ করা হচ্ছে না, এতে একসময় এসব ভাষা হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এসব ভাষা বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করতে হবে।

সেলিনা সুমি নামে এক পেশাজীবি নারী বলেন, রাঙামাটির শহীদ মিনার আসলে বোঝা যায় একুশে ফেব্রুয়ারির মর্মার্থ। কারণ এখানে বিভিন্ন ভাষাভাষীর মানুষ একসাথে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। মাতৃভাষায় কথা বলার জন্য যারা রক্ত দিয়েছেন, এই দৃশ্য তাদের জন্য স্বস্তির। পৃথিবীর সব মায়ের ভাষা বেঁচে থাকুক।

ঢাকা/শংকর/ফিরোজ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়