ঢাকা     রোববার   ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  ফাল্গুন ১০ ১৪৩২ || ৫ রমজান ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

নদী মেপে ঘটনাস্থল নির্ণয়, অবশেষে মামলা

বরিশাল প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:৪১, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬  
নদী মেপে ঘটনাস্থল নির্ণয়, অবশেষে মামলা

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রচারের সময় বিএনপির প্রার্থীর সামনে থেকে তার কর্মীকে অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগে কোতয়ালি মডেল থানায় মামলা রুজু করার আদেশ দিয়েছেন আদালত। 

এর আগে বন্দর থানায় মামলা করার আদেশ দেন আদালত। কিন্তু ঘটনাস্থল নিয়ে মামলা জটিলতায় পড়ে। 

আরো পড়ুন:

মামলায় বাদী সাবেক পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী, পুলিশ কমিশনার, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বরিশাল জেলা প্রশাসকসহ ১৪ জনকে অভিযুক্ত করেছেন। 

রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বরিশালের চিফ মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জহির উদ্দিন মামলা রুজুর আদেশ দিয়েছেন বলে বেঞ্চ সহকারী আব্দুর রহমান জানিয়েছেন।

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

মামলায় আসামিরা হলেন, সাবেক পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও বরিশাল-৫ আসনের একাদশ সংসদ নির্বাচনের মহাজোট মনোনীত প্রার্থী জাহিদ ফারুক শামীম, বরিশাল মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনার মো. রুহুল আমিন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বরিশালের জেলা প্রশাসক এস এম অজিয়র রহমান, উপপুলিশ কমিশনার মোয়াজ্জেম হোসেন ভুইয়া, বরিশাল মহানগর পুলিশের বন্দর থানার ওসি মোস্তফা কামাল হায়দার, পরিদর্শক (তদন্ত) শাহ মো. ফয়সাল আহম্মেদ, এসআই আব্দুল মালেক, এএসআই সহিদুল ইসলাম, এএসআই রাসেল মিয়া, এএসআই এরফান হোসেন মিদুল, এএসআই রফিকুল ইসলাম, এএসআই মোহাম্মদ মিলন বিশ্বাস, এএসআই মেহেদী হাসান মোল্লা ও কনস্টেবল ফয়জুল। 

মামলার বাদী মো. মশিউল আলম খান পলাশ বরিশাল জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।  

মামলার বাদী বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দুঃসময় ছিল, তখন বিএনপির প্রার্থীরা প্রচারে নামতে পারেনি। ওইসময় বরিশাল-৫ আসনেও একই অবস্থা ছিল। বিএনপির প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার কোনো নেতাকর্মী নিয়ে প্রচারে যেতে পারেনি। তখন তিনি বিএনপির প্রার্থী সরোয়ারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত ছিলেন। 

সদর উপজেলার চন্দ্রমোহন এলাকায় লিফলেট বিতরণের জন্য প্রার্থীর সঙ্গে তিনিও রওনা হন। তখন তিন দিক থেকে তাদের স্পিডবোটে ধাওয়া শুরু করে।  একপর্যায়ে বিশ্বাসেরহাট এলাকায় পৌঁছলে নদীর ভিতর থেকে প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ারের সামনে থেকে সাদা পোশাকের পুলিশ তাকে জোর অপহরণ করে। পরে চোখ বেঁধে একটি অজ্ঞাতস্থানে নিয়ে অমানুষিক নির্যাতন করে।

বাদী মো. মশিউল আলম খান পলাশ আরো বলেন, ‘‘আমাকে অপহরণের ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় অপহরণকারী সাদা পোশাকের পুলিশ আমাকে সেদিন মেরে ফেলতে পারেনি। এরপর বন্দর থানায় নিয়ে আমাকে ২/৩টি মিথ্যা মামলায় আসামি করা হয়।’’

২০২৪ সালে ৫ আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের পরে আদালতে মামলা করেন বাদী। আদালত বন্দর থানার ওসিকে মামলা রুজু করার নির্দেশ দেন। 

মামলার বাদী বলেন, ‘‘ঘটনাস্থল বন্দর থানায় ছিল, টর্চারও বন্দর থানায় করা হয়। তারপরও সিভিল প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও জুডিসিয়াল বিভাগ কোথায় মামলা দায়ের হবে, তা নিয়ে বিভিন্ন তালবাহানা শুরু করে।’’ 

তিনি বলেন, ‘‘সর্বশেষ কীর্তনখোলা নদীর অপহরণেরস্থল ফিতা দিয়ে পরিমাপ করে ঘটনাস্থল কোতয়ালি মডেল থানায়, এটা নিশ্চিত করা হয়। পরবর্তীতে রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোতয়ালি মডেল থানার ওসিকে মামলা এজাহারভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন।’’ 

ঢাকা/পলাশ/বকুল 

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়