বরিশালে আ.লীগ নেতার জামিনের জেরে আদালতে তুলকালাম
বরিশাল প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বরিশাল-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুছকে জামিন দেওয়া নিয়ে বরিশাল আদালতে তুলকালাম কাণ্ড ঘটেছে। তাকে জামিন দেওয়ার প্রতিবাদে আদালত কক্ষের চেয়ার-টেবিল ও কাগজপত্র তছনছ করার অভিযোগ উঠেছে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের বিরুদ্ধে।
আইনজীবীদের হট্টগোল ও তোপের মুখে এজলাসের চেয়ার ছেড়ে খাসকামরায় চলে যান অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের বিচারক সারাফাতউল্লাহ। এ সময় মামলার শুনানিতে অংশ নেওয়া আইনজীবীদেরও লাঞ্ছিত করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বেলা আড়াইটার দিকে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের এজলাস কক্ষে এসব ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে আদালতের বিচারক বা কোনো কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সোমবার দুপুরে বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বরিশাল-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুছকে একটি মারামারি মামলায় জামিন দেন অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সারাফাতউল্লাহ। এতে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির বিএনপিপন্থি সদস্যরা। জামিন দেওয়ার প্রতিবাদে মঙ্গলবার দুপুরে বরিশাল অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন তারা।
আওয়ামী লীগ নেতাকে জামিন দেওয়ায় অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সারাফাতউল্লাহর অপসারণ দাবি করেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা। ওই বিচারককে অপসারণ না করা পর্যন্ত আদালতের কার্যক্রম বর্জন করার ঘোষণা দেন তারা।
বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সাদিকুর রহমান লিংকনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আহ্বায়ক অ্যাডভোটেক নাজিম উদ্দিন আহম্মেদ পান্না, জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোটেক আবুল কালাম আজাদ, আইনজীবী ফোরামের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোটেক মহসীন মন্টু, আইনজীবী সমিতির সম্পাদক মীর্জা রিয়াজ হোসেন, জেলা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হাফিজ আহমেদ বাবলু আইনজীবী ফোরামের ফোরামের সদস্য সচিব আবুল কালাম আজাদ ইমন প্রমুখ।
দুপুর আড়াইটার দিকে এজলাসে ওঠেন অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সারাফাতউল্লাহ। এ সময় কয়েক জন আইনজীবী মামলার শুনানির জন্য আদালতে অবস্থান করছিলেন। খবর পেয়ে বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা একজোট হয়ে আদালতে ঢোকেন। বিচারকের সামনেই বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা ব্যাপক হট্টোগোল শুরু করলে চেয়ার থেকে উঠে দ্রুত খাসকামরায় চলে যান বিচারক। এ সময় আদালতে শুনানিতে অংশ নেওয়া কয়েকজন আইনজীবীকে লাঞ্ছিত করা হয়।
এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিচারকের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে ওই কোর্টের নাজির ও ভারপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম আদালতে বেঞ্চ, টেবিল ও কাগজপত্র তছনছের বিষয়টি স্বীকার করলেও কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
কোর্ট ইন্সপেক্টর তারক বিশ্বাস সাংবাদিকদের বলেছেন, “বিজ্ঞ আইনজীবীরা আদালতে প্রবেশ করলে তাদের বাধা দেওয়ার এখতিয়ার পুলিশের নেই।”
বরিশাল জেলা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হাফিজ আহমেদ বাবলু বলেছেন, “অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের বিচারকের অপসারণের দাবিতে আমরা বিক্ষোভ সমাবেশ করে আদালত বর্জন কর্মসূচি পালন করেছি। দুপুরের পর আদালতে কিছু হয়েছে কি না, তা আমার জানা নেই।”
ঢাকা/পলাশ/রফিক