১০ বছরেও অগ্রগতি নেই পাহাড়ি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মাতৃভাষা শিক্ষায়
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
দীর্ঘ দশ বছরেও পাহাড়ের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিশুদের মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা রুটিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকে গেছে। ২০১৭ সালে সরকার ১ম থেকে ৩য় শ্রেণি পর্যন্ত মাতৃভাষা শিক্ষা কার্যক্রম চালু করলেও নয় বছর পর অন্তবর্তীকালীন সরকার এটি রুটিনে অন্তর্ভুক্ত করলেও সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে। মূল সমস্যা হলো প্রশিক্ষিত শিক্ষক না থাকা, যার কারণে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।
নয় বছর পর রুটিনে অর্ন্তভুক্ত আর সেই রুটিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ পাহাড়ের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী শিশুদের মাতৃভাষার প্রাথমিক শিক্ষা। একদিকে সরকারের নির্দেশনা অন্যদিকে প্রতি বছর কোটি টাকার বই ছাপিয়ে শিশুদের বিতরণ করা হচ্ছে। তবে এসবের কিছুই কাজেই আসছে না দক্ষ ও প্রশিক্ষিত মাতৃভাষার শিক্ষক না থাকায়। প্রশিক্ষিত শিক্ষক না থাকার কারনে পড়তে ও পড়াতে না পাড়ার কথা বলছে নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থী-শিক্ষকেরা।
মহাজন পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষাথী পারিজাত চাকমা, প্রিয়ানজিতা চাকমা, কমলছড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী কমল বিকাশ চাকমা, কমলছড়ি হেডম্যান পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী চাইহ্লাউ মারমা জানান তাদের কোন মাতৃভাষার বই পড়ানো হয় নাই তাই তাদের ইচ্ছে থাকা সত্তেও তারা মাতৃভাষায় লিখতে ও পড়তে পারে।
আর মহাজন পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহাকরী শিক্ষক পারিকা চাকমা, ক্রাসিনু মারমা ও চম্পা চাকমা জানান, তাদের প্রশিক্ষণ না থাকায় তারা পড়াতে পারছেন না। তবে নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশা, সরকার নিশ্চয় এ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবেন।
খাগড়াছড়ি মহাজন পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিলন কান্তি চাকমা জানান, মাতৃভাষা পড়ানোর জন্য স্ব স্ব মাতৃভাষার শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ না থাকার কারণে তাদের শিক্ষকেরা পড়াতে পারছেন না ফলে শিশুরা মাতৃভাষা শেখা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। শিক্ষকদের দীর্ঘ মেয়াদী প্রশিক্ষণ দরকার।
ভাষা গবেষক ও এনসিটিবির ত্রিপুরা ভাষার প্যানেল সদস্য, মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা বলেন সরকার ২০১৭ যে মাতৃভাষার বই দিচ্ছে এটা একটা ভালো দিক, তবে ২০২৭ সাল থেকে ২০২৬ পর্যন্ত যে কার্যক্রম চলছে এটা মূল্যায়নের সুযোগ এসেছে কতটুকু সফল হয়েছে আর কী কী করলে এটা এগিয়ে নেয়া যাবে।
এছাড়াও, ক্ষার্থীদের পড়ানোর জন্য পিটিআইয়ের মাধমে শিক্ষকদের দীর্ঘ মেয়াদী প্রশিক্ষণের দরকার।
এ বিষয়ে খাগড়াছড়ি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নিখিল মৃদাও স্বীকার করেন, মাতৃভাষার পড়ানোর মতো শিক্ষক নেই, তবে তাদের তিন মাস বা বছরে বছরে প্রশিক্ষণ দিলে তারা পড়াতে পারবেন।
সর্বপরি পাহাড়ের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠিদের মাতৃভাষার প্রাথমিক শিক্ষাকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য বর্তমান সরকার অচিরেই দ্রুত পদক্ষেপ নেবেন এমটাই প্রত্যাশা সকলের।
ঢাকা/রূপায়ন/জান্নাত