বড়াইগ্রাম পাওয়ার গ্রিড থেকে ১ কোটি ৯৩ লাখ টাকার মালামাল লুট
নাটোর প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
নাটোরের বড়াইগ্রামে নির্মাণাধীন পাওয়ার গ্রিড।
নাটোরের বড়াইগ্রামে নির্মাণাধীন পাওয়ার গ্রিড থেকে প্রায় ১ কোটি ৯৩ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা বলে অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (২৫ মার্চ) মধ্যরাতে উপজেলা বনপাড়ায় নির্মাণাধীন গ্রিডের চারজন পাহারাদারকে বেঁধে মালামাল লুট করা হয় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ।
গ্রিডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আনাস আলী জানান, গ্রিডে বতর্মানে সিভিল কন্ট্রকশান ও ইলেকট্রিক ফিটিংসের কাজ চলছে। তাদের পক্ষ থেকে চারজন পাহারাদার নিয়োগ করা হয়েছে। ইলেকট্রিক অংশের কাজ করছে চায়না ন্যাশনাল ওয়ার এন্ড ক্যাবল ইমপোর্ট এক্সপোর্ট কর্পোরেশন (সিসি কোম্পানি)।
সিসির স্থানীয় প্রতিনিধি প্রকৌশলী সোলায়মান আলী বলেন, “আমরা চায়না কোম্পানির প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। আমাদের লুট হওয়া মালামাল তালিকা যাচাই করে দেখা গেছে ৩৬৮ পিস ব্যাটারি নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। যার মূল্য প্রায় ১ কোটি ১৩ লাখ টাকা। এছাড়া, ২ হাজার মিটার তামার তার লুট হয়েছে। যার মূল প্রায় ৫৩ লাখ টাকা। অন্যান্য মামলাম মিলে ১ কোটি ৯২ লাখ ৬০ হাজার ২৮৯ টাকার মালামাল লুট হয়েছে।”
তিনি জানান, এখানে দুটি ডিভিয়ার দ্বারা সিসিটিভি ক্যামেরা পরিচালতি হতো। দুর্বৃত্তরা দুটি ডিভিয়ারই নিয়ে গেছে। পাশাপাশি পাহারাদারদের কাছে থাকা মোবাইল ফোনও নিয়ে গেছে।
পাহারাদার আবুল কাশেম বলেন, “আমি, শফিকুল, তার ছেলে সোহাগ ও মছেদ আলী পাহারাদার হিসেবে কাজ করি। সবার বাড়ি আশেপাশেই। বুধবার সন্ধায় আমি ডিউটিতে আসি পরে অন্য তিনজন আসে। সাড়ে ৭ টার দিকে শফিকুল খেতে যায়। ২০ মিনিট পরে গেট খোলার জন্য নক করলে খুলে দেই। এসময় পেছন থেকে ৫-৬ জন শফিকুলের কলার ধরে ভিতরে নিয়ে এসে বলেন, ছাত্তার কে এখানে কাজ করে। আমরা ছাত্তার নামে কেউ নেই জানালে তারা ঘরে চেক করার নামে চারজনকেই নিয়ে আসে।”
তিনি বলেন, “ওই ব্যক্তিরা অস্ত্র বের করে আমাদের জিম্মি করে বেঁধে ফেলেন। হাত, মুখ, চোখ, পা বেঁধে হুমকি দেয় কোনো শব্দ করলে প্রাণে মেরে ফেলার। এরপর ভেতরে গাড়ি ঢোকা এবং কাজ করার শব্দ পাই। প্রায় ৪-৫ ঘণ্টা পরে গাড়ি বেড় হয়ে যাওয়ার শব্দ পাই। অনেকক্ষণ শব্দ না পেয়ে রাত আড়াইটার দিকে চেষ্টা করে সোহাগ তার বাবা শফিকুলের পা ও হাতের বাঁধন খুলে দেয়। পরে শফিকুল সবার বাঁধান খুলে দেয়। আমাদেরকে একটা ঘরে আটকে বাইরে থেকে ছিটকিনি দিয়ে রাখা হয়েছিল।”
পাহারাদার আবুল কাশেম বলেন, “আমরা পর্দার ষ্ট্যান্ড খুলে সেটা দিয়ে ছিটকিনি খুলে ভোর সাড়ে ৪টার দিকে বের হই। এরপর আমরা বাইরে গিয়ে একজনের ফোন নিয়ে ৯৯৯ এ ফোন দেই একই সাথে ইঞ্জিনিয়ার স্যারদের জানাই।”
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বড়াইগ্রাম সার্কেল) শোভন চন্দ্র হোড় বলেন, “আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ঘটনা রহস্য উদঘাটনে ডিবি টিম কাজ শুরু করেছে। পিজিসিবির পক্ষ থেকে অভিযোগ দাখিলের প্রক্রিয়া চলছে। জড়িতদের আটক এবং মালামাল উদ্ধারে কাজ করছে পুলিশ।”
ঢাকা/আরিফুল/মাসুদ