লেবুর রাজ্য ঝালকাঠিতে সিন্ডিকেট, প্রতি হালি ৮০ টাকা
অলোক সাহা, ঝালকাঠি || রাইজিংবিডি.কম
ঝালকাঠির সদর উপজেলার কীর্ত্তিপাশা ইউনিয়নের ভীমরুলী এলাকায় ভাসমান হাটে নৌকায় করে এনে লেবু বিক্রি করেন চাষিরা
ঝালকাঠির সদর উপজেলার কীর্ত্তিপাশা ইউনিয়নের ভীমরুলী এলাকায় লেবু উৎপাদন বেশি হওয়ায় এটি ‘লেবুর রাজ্য’ নামে পরিচিত। এ এলাকার কৃষকরা বাণিজ্যিকভাবে লেবু চাষ করেন। ভীমরুলীর লেবুর চাহিদা এবং সুখ্যাতি দেশজুড়ে। কৃষকরা এখানে ভাসমান হাটে নৌকায় করে এবং স্থলে গাড়িতে করে পাইকারি দরে লেবু বিক্রি করেন। যদিও বর্ষাকালের তুলনায় এ মৌসুমে লেবু উৎপাদন কিছুটা কম হয়। তব, বাজারের পুরনো সিন্ডিকেটের কারণেই লেবুর দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে।
রমজান মাসে ঝালকাঠির হাট-বাজারগুলোতে লেবুর দাম চড়া। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে চায়না, কাগজি, দেশি এবং এলাচি লেবুর দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। সাধারণ ক্রেতাদের অভিযোগ, রোজাদারদের ইফতারে লেবুর শরবতের চাহিদাকে পুঁজি করে সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ানো হচ্ছে। কয়েকদিন আগেও প্রতি হালি লেবু ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি হতো। বর্তমানে তা ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
লেবুচাষি এবং পাইকারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, লেবুর দাম বেড়েছে সরবরাহে ঘাটতির কারণে। রমজান মাসে হঠাৎ করেই চাহিদা বাড়ায় মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে।
লেবুবাগানের মালিকরা জানিয়েছেন, এবছর বৃষ্টিপাত না হওয়ায় লেবুর ফলন কম হয়েছে। পর্যাপ্ত পানির অভাবে লেবুর ফুল ঝড়ে গেছে।
লেবুচাষি হৃদয় গাইন জানিয়েছেন, তিনি ১০০ লেবু বিক্রি করেছেন ১৪ হাজার ৮০০ টাকায়। সে হিসেবে প্রতি পিস লেবুর দাম ১৪ টাকা ৮০ পয়সা। সপ্তাহ খানেক আগে একই লেবু বিক্রি করেছেন ১০ টাকায়।
ক্রেতাদের অভিযোগ বছরের অন্যান্য সময়ে লেবুর তেমন চাহিদা না থাকলেও রমজান মাস ইফতারের জন্য লেবুর শরবতের ব্যাপক চাহিদা থাকে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অসাধু ব্যাবসায়ীরা পরিকল্পিতভাবে দাম বাড়াচ্ছেন। সিন্ডিকেট ভাঙতে না পারলে বাজারে স্বস্তি ফিরবে না।
লেবু ক্রেতা এনামুল হক বলেন, “ঝালকাঠিতে লেবুর উৎপাদন বেশি হয়। তবু, এখানে এত বেশি দামে লেবু বিক্রি হচ্ছে, যা চিন্তার বাইরে। লেবুর বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের মনিটরিং করা উচিত।”
লেবু বিক্রেতা গোপাল চন্দ্র বলেন, “বাজার থেকে আমাদের বেশি দামে লেবু কিনতে হয়। তাই, বিক্রিও করতে হয় বেশি দামে। আমাদের করার কিছু নেই।”
লেবুচাষি সুবেদ চন্দ্র বলেন, “শুনছি, শহরে অনেক বেশি দামে লেবু বিক্রি হয়। কিন্তু, আমরা তেমন দাম পাই না। এখান থেকে প্রতি হালি লেবু ২০ থেকে ৩০ টাকা দরে কিনে নেয়। আমরা নায্য মূল্য কখনোই পাই না।”
ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন বলেছেন, “লেবুসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঢাকা/রফিক