ফাগুয়া উৎসবে মাতোয়ারা চা শ্রমিকরা
আব্দুল আজিজ, মৌলভীবাজার || রাইজিংবিডি.কম
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আলীনগর চা বাগানে দোল পূর্ণিমায় ফাগুয়া উৎসব উদযাপন করছেন হিন্দু সম্প্রদায়ভুক্ত শ্রমিকরা
চা বাগানের শ্রমিকদের দারিদ্র্যক্লিষ্ট সংগ্রামমুখর জীবনে খুব বেশি আনন্দের উপলক্ষ নেই। এর মধ্যেও তারা প্রতিবছর দুটি উৎসবে দুঃখ-বেদনা ভুলে মাতোয়ারা হয়ে ওঠেন। এসবের একটি হলো দুর্গাপূজা, অন্যটি ফাগুয়া উৎসব।
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আলীনগর চা বাগানে দোল পূর্ণিমায় ফাগুয়া উৎসব উদযাপন করছেন হিন্দু সম্প্রদায়ভুক্ত শ্রমিকরা। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুরে বাগানের শিবমন্দিরে চা শ্রমিকদের আয়োজনে এ উৎসব উদযাপন করা হয়। শুরুতে চা শ্রমিকরা নিজেদের উৎসবের গান ও কাঠি নৃত্যসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ফাগুয়া উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোন করেন ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার অনিরুদ্ধ দাস। বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান রামভজন কৈরীর সভাপতিত্বে ও সজল কৈরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কমলগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান, কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুল আউয়াল, আলীনগর চা বাগানের ব্যবস্থাপক এ জে এম রফিকুল আলম, সিলেটে ভারতীয় ডেপুটি হাইকমিশনের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি রাজেশ ভাটিয়া, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শ্যামল চন্দ্র দাস, মাধবপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান পুস্প কুমার কানু।
আলোচনা সভা শেষে চা বাগানের ছাত্র-যুবকরা ও প্রধান অতিথি একে উপরের গায়ে আবির মেখে দেন। কবি ও শিল্পী রোহিত কৈরী একটি স্বরচিত গান পরিবেশন করেন। এর পর চা শ্রমিকদের ঐতিহ্যবাহী ঝুমুর নাচ ও কাঠি নাচ পরিবেশিত হয়। প্রাণবন্ত এসব পরিবেশনায় উপস্থিত অতিথিরা মুগ্ধ হন।
অনেক দিন ধরেই চা বাগানগুলোতে ফাগুয়া উৎসব উদযাপন করা হয়। উৎসবে লাল আবিরসহ নানা রঙ একে অন্যের গায়ে ছিটিয়ে দেওয়া হয়। উৎসব চলে ৫ দিনব্যাপী।
ফাগুয়া উৎসবের রঙ লেগেছে যেন কমলগঞ্জের বিভিন্ন চা বাগানে। বসন্তের রঙ-রূপে সেজেছে প্রকৃতি। বৃষ্টিপাত না হওয়ায় চা গাছগুলো ধূসর বর্ণ ধারণ করলেও চা বাগানের মানুষের জীবন দোলের রঙে রঙিন হয়ে উঠেছে।
চির সবুজ চা বাগানগুলোতে হিন্দু সম্প্রদায়ভুক্ত শ্রমিকদের কাছে শারদীয় দুর্গাপূজার পর সবচেয়ে বড় উৎসব হলো দোল পূর্ণিমা। চা শ্রমিকদের ভাষায় এটি রঙের পরব বা ফাগুয়া। চা শ্রমিকরা কাদা ও রঙ খেলার মাধ্যমে ফাগুয়া উৎসব উদযাপন করে থাকেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অনুরুদ্ধ দাস বলেছেন, “এই উৎসবে এসে মনে হচ্ছে, যেন নিজের বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে উৎসব উদযাপন করছি।”
চা শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবি আদায়ের বিষয়ে তিনি সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি শ্রমিকদের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা দেখে সন্তোষ প্রকাশ করে প্রয়োজনে এসব শিল্পীদের ভারতীয় ডেপুটি হাইকমিশনে আমন্ত্রণ জানানোর কথাও বলেন। সুযোগ পেলে ভবিষ্যতে চা শ্রমিকদের মাঝে আসবেন বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।
ফাগুয়া চা শ্রমিকদের প্রাণের উৎসব। এ উৎসব উপলক্ষে চা বাগান কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের সাধারণ ছুটি দিয়ে থাকে।
ঢাকা/রফিক