নরসিংদীর সেই কিশোরীকে হত্যা করেছিল সৎবাবা, দাবি পুলিশের
নরসিংদী প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
নরসিংদীর মাধবদীতে আলোচিত কিশোরী হত্যার ঘটনায় তার সৎবাবা আশরাফ আলীকে (৪৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর আশরাফ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
শনিবার (৭ মার্চ) নরসিংদীর পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল ফারুক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন, কিশোরী হত্যার সঙ্গে তার সৎবাবা আশরাফ আলী জড়িত।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, মাধবদীর চাঞ্চল্যকর কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রধান আসামি নুরাসহ ৮ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাদের জবানবন্দি ও তদন্ত সাপেক্ষে শুক্রবার কিশোরীর সৎবাবাকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে তিনি মেয়েকে হত্যার কথা স্বীকার করেন।
আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে আশরাফ আলী জানান, মেয়ের বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডে তিনি বিরক্ত ছিলেন এবং সামাজিকভাবে বিভিন্ন সময়ে হেয় প্রতিপন্ন হওয়ায় তাকে হত্যা করেছেন। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে পূর্বপরিকল্পনা মোতাবেক এক সহকর্মীর বাড়িতে যাওয়ার পথে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে মেয়েকে একাই হত্যা করেন আশরাফ আলী। পরে লাশ সরিষা ক্ষেতে ফেলে দেন। এ ঘটনা থেকে বাঁচতে পূর্বে হওয়া ধর্ষণের ঘটনায় জড়িতদের হত্যাকাণ্ডে ফাঁসাতে ‘নাটক’ সাজান।
আশরাফ আলী নিহতের সৎবাবা ও মাধবদী থানাধীন মহিষাশুড়া ইউনিয়নের কোতয়ালীরচর দড়িকান্দী গ্রামের মতির বাড়ির ভাড়াটিয়া।
এর আগে, গত ১০ ফেব্রুয়ারি কিশোরীকে স্থানীয় নুরা, হযরত আলী, এবায়দুল, জামান ও গাফফার সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করেন। কিশোরীকে ধর্ষণ ও পরবর্তী হত্যার ঘটনায় আশরাফ আলীসহ এখন পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ঢাকা/হৃদয়/রাজীব