ঢাকা     বুধবার   ১১ মার্চ ২০২৬ ||  ফাল্গুন ২৬ ১৪৩২ || ২১ রমজান ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা-নড়াইল-খুলনা ও ঢাকা-নড়াইল-বেনাপোল, এক ট্রেনই ভরসা

এস এম শরিফুল ইসলাম, নড়াইল || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:৩৫, ১১ মার্চ ২০২৬   আপডেট: ১৪:৩৮, ১১ মার্চ ২০২৬
ঢাকা-নড়াইল-খুলনা ও ঢাকা-নড়াইল-বেনাপোল, এক ট্রেনই ভরসা

ফাইল ফটো

একটি ট্রেন দিয়েই চলছে ঢাকা-নড়াইল-খুলনা ও ঢাকা-নড়াইল-বেনাপোল রেলপথের যাত্রীসেবা। একই ট্রেন ভিন্ন রুটে ভিন্ন নামে চলায় দিনে শুধু নির্দিষ্ট সময়েই যাত্রা করা যায়। ফলে যাত্রীদের দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়। এ কারণে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে ,পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের আওতায় প্রথমবারের মতো রেলপথের সঙ্গে যুক্ত হয় নড়াইল জেলা। ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর এই রুটে ট্রেন চলাচল শুরু হয়। বর্তমানে একটি মাত্র ট্রেন ‘রূপসী বাংলা’ ও ‘জাহানাবাদ’ এই দুটি নামে ঢাকা থেকে যশোরের বেনাপোল এবং খুলনায় চলাচল করছে।

আরো পড়ুন:

‘জাহানাবাদ এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি সকাল ৬টায় খুলনা থেকে ছেড়ে ৭টা ১৫ মিনিটে নড়াইলে পৌঁছায়। বেনাপোল থেকে ‘রূপসী বাংলা’ নাম নিয়ে একই ট্রেন ৩টায় ছেড়ে আস। সেটি ৪টা ৪৫ মিনিটে নড়াইলে পৌঁছায়। নড়াইল থেকে প্রায় আড়াই ঘণ্টায় ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশনে পৌঁছানো যায়। রাতে রাজধানীতে যাওয়ার সুযোগ না থাকায় যাত্রীদের পরদিন সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। 

রেলযাত্রী রেজাউল করিম বলেন, “নড়াইল থেকে স্বল্প সময়ে ঢাকায় যাতায়াতের আরামদায়ক মাধ্যম হলো রেলপথ। সকাল ও বিকেল ছাড়া অন্য সময়ে ট্রেনে যাওয়ার সুযোগ নেই। তাই দ্রুত ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো দাবি জানাই।”

অপর যাত্রী আ. আল-মারজান বলেন, ‘কয়েক হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এই রেলপথ নির্মাণ করা হয়েছে। এতে যোগাযোগের সুবিধা হয়েছে ঠিকই, তবে মাত্র একটি ট্রেন দুটি নামে চলাচল করায় আমরা পুরো সুবিধা পাচ্ছি না। নতুন সরকার এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে এমনটি আশা করছি।”

ঢাকায় ফিরতে নড়াইল রেলস্টেশনে অপেক্ষারত যাত্রীরা


আমেনা বেগম বলেন, “রেল চালু হওয়ায় অনেক সুবিধা হয়েছে। সকালে নড়াইল থেকে ঢাকায় গিয়ে অফিস করতে পারছি, আবার রাতে বাড়ি ফিরতে পারছি। ট্রেনের সংখ্যা বাড়লে যাতায়াত আরো সহজ হবে।”

নড়াইল রেলস্টেশনের মাস্টার উজ্জ্বল বিশ্বাস জানান, ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রেন চলাচল শুরু হয়। ট্রেন চালু হওয়ায় এ অঞ্চলের মানুষের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন হচ্ছে। ভবিষ্যতে ট্রেনের সংখ্যা বাড়তে পারে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বুধবার (১১মার্চ) সকালে নড়াইলের জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আবদুল ছালাম বলেন, “ঢাকা-নড়াইল-খুলনা রুটে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর চিঠি পাঠানো হয়েছে।”

নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান বাচ্চু বলেন, “নড়াইলবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হয় ট্রেন চালুর মধ্য দিয়ে। তবে, চাহিদা অনুযায়ী রেলসেবা পাওয়া যাচ্ছে না। দ্রুত ট্রেনের সংখ্যা যেন বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।”

পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের মাধ্যমে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকে রেলওয়ে নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হয়। ২০২৪ সালে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়। পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে রেললাইন নির্মাণসহ পুরো প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩৯ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার অর্থায়ন করেছে ১৮ হাজার ২১০ কোটি টাকা এবং বাকি ২১ হাজার ৩৬ কোটি টাকা দিয়েছে চীন।

ঢাকা/মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়