ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ১৯ মার্চ ২০২৬ ||  চৈত্র ৬ ১৪৩২ || ২৯ রমজান ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

ফাঁকা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, নেই ভোগান্তি

কুমিল্লা প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:২৩, ১৯ মার্চ ২০২৬  
ফাঁকা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, নেই ভোগান্তি

যানজট না থাকায় যাত্রীরা স্বস্তিতে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন। ছবি: রাইজিংবিডি

পবিত্র ঈদুল ফিতরের আর মাত্র একদিন বাকি। সরকার ঘোষিত টানা সাত দিনের ছুটির তৃতীয় দিনে ঘরমুখো মানুষের চাপ থাকলেও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। প্রতি বছরের চিরচেনা যানজটের ভোগান্তি ছাড়াই এবারের ঈদযাত্রা এখন পর্যন্ত অনেকটাই স্বস্তিদায়ক ও নির্বিঘ্ন।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মহাসড়কের কুমিল্লা অংশের বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে দেখা যায়, কোথাও দীর্ঘ যানজট নেই। ফাঁকা সড়কে স্বাভাবিক গতিতে চলাচল করছে যানবাহন। দাউদকান্দি থেকে ফেনীর মহিপাল পর্যন্ত এবং ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকা পর্যন্ত কোথাও ফাঁকা, কোথাও কম যান চলাচল লক্ষ্য করা গেছে।

আরো পড়ুন:

তবে গত রাতে কুমিল্লায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ‘একুশে পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাস উল্টে অন্তত পাঁচ যাত্রী আহত হয়েছেন। হাইওয়ে পুলিশের ধারণা, হঠাৎ বৃষ্টি ও অতিরিক্ত গতির কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।

হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মহাসড়কের মূল অংশে কোনো যানজট না থাকলেও বিভিন্ন সাইড লেন, স্ট্যান্ড ও বাজার এলাকায় কিছুটা জটলা দেখা গেছে। এছাড়া ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাঁচপুর, মুরাপাড়া ও বরপা এলাকায় আংশিক চাপ রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কুমিল্লার দাউদকান্দি, চান্দিনা, নিমসার বাজার, ক্যান্টনমেন্ট, আলেখারচর, কোটবাড়ি ও পদুয়ার বাজার- যেসব স্থানে সাধারণত যানজট লেগে থাকে, সেখানে এবার নেই দীর্ঘ যানবাহনের সারি বা স্থবিরতা। ফলে যাত্রীরা স্বস্তিতে এবং সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন।

তিশা পরিবহনের বাসচালক আব্দুর রহিম বলেন, “সকাল থেকে এখন পর্যন্ত কোথাও যানজট পাইনি। তবে সন্ধ্যার পর চাপ বাড়লে পরিস্থিতি বদলাতে পারে।”

চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দেওয়া যাত্রী আল-আমিন মিয়া বলেন, “আগেভাগেই রওনা দিয়েছি। আজ মহাসড়কে কোনো ভোগান্তি নেই। আশা করছি নির্বিঘ্নে বাড়ি পৌঁছাতে পারবো।”

ঢাকা থেকে কুমিল্লায় আসা কলেজ শিক্ষক রায়হান জানান, “সায়েদাবাদ থেকে মাত্র ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিটে কুমিল্লায় পৌঁছেছি। কোথাও যানজট পাইনি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো।”

আলেখারচর বিশ্বরোড এলাকায় দায়িত্ব পালনরত রোভার স্কাউট সদস্য সাজিদুর রহমান জ্যামস বলেন, “গতকালের তুলনায় আজ চাপ কম। তবে দুপুরের পর কিছুটা বাড়ে। স্থানীয় যানবাহনগুলো বাজার এলাকায় জটলা তৈরি করছে।”

দাউদকান্দি আমিরাবাদ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার মজুমদার জানান, “গত দুই দিন চাপ বেশি থাকলেও যানজট হয়নি। বড় কোনো দুর্ঘটনা না ঘটলে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন থাকবে।”

হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি ও কুমিল্লা হাইওয়ে পুলিশ সুপার শাহিনুর আলম বলেন, “দাউদকান্দি থেকে টেকনাফ পর্যন্ত মহাসড়কে প্রায় ৯০০ পুলিশ সদস্য কাজ করছেন। এখন পর্যন্ত বড় কোনো যানজট হয়নি, ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চলছে।”

সব মিলিয়ে, কুমিল্লা অংশে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বর্তমান পরিস্থিতি যাত্রীদের জন্য স্বস্তিদায়ক এক অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে যেখানে নেই দীর্ঘ যানজট, আছে নির্বিঘ্ন যাত্রার। 

ঢাকা/রুবেল/ফিরোজ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়