ঢাকা     সোমবার   ১১ মে ২০২৬ ||  বৈশাখ ২৮ ১৪৩৩ || ২৪ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

আদালতে রাফির স্বীকারোক্তি

‘মা-বাবার ভালোবাসা বঞ্চিত হওয়ার ক্ষোভে মাকে হত্যা’

ফেনী প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:১০, ১১ মে ২০২৬  
‘মা-বাবার ভালোবাসা বঞ্চিত হওয়ার ক্ষোভে মাকে হত্যা’

মোশারফ হোসেন রাফি।

ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলায় মা লাকি বেগম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ছেলে মোশারফ হোসেন রাফি (২২) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, পরিবারের ভালোবাসা ও স্বাভাবিক আচরণ থেকে বঞ্চিত হওয়ার ক্ষোভ থেকে তিনি মাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন।

সোমবার (১১ মে) দুপুরে দাগনভূঞা আমলী আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শহীদুল ইসলামের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে রাফি এ সব কথা বলেন বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দাগনভূঞা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোতালেব।

আরো পড়ুন:

আদালত সূত্র জানা যায়, জবানবন্দিতে রাফি দাবি করেন, তিনি সিগারেট ছাড়া অন্য কোনো মাদক গ্রহণ করতেন না। তবে পরিবারের সদস্যরা তাকে মাদকাসক্ত ও বখাটে বলে অবজ্ঞা করতেন। এতে তিনি মানসিকভাবে ক্ষুব্ধ ছিলেন। 

তার ভাষ্যমতে, মা লাকি বেগম (৪০) তার সঙ্গে আপন সন্তানের মতো আচরণ করতেন না এবং রবিবার (১০ মে) রাতে কথা বলতে গেলে তাকে দূরে সরিয়ে দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রথমে মাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন। পরে চিৎকার শুনে এগিয়ে এলে বাবা মোস্তফা ভূঞা (৫০) ও বোন মিথিলা মোস্তফা সাহারা (১৮)-কেও এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করেন।

জবানবন্দিতে রাফি আরো জানান, পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখানোর পরিকল্পনা থেকে তিনি অনলাইনে দুটি ছুরি অর্ডার করেন। শনিবার (৯ মে) ছুরি দুটি হাতে পাওয়ার পর রবিবার রাতে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেন। একপর্যায়ে গুরুতর আহত মা মাটিতে লুটিয়ে পড়লে খাটের নিচে লুকানোর চেষ্টা করেন তিনি। এ সময় বোন দেখে ফেললে তাকেও আঘাত করেন। 

রবিবার (১০ মে) রাত ৯টার দিকে উপজেলার সিন্দুরপুর ইউনিয়নের দিলপুর গ্রামের মকবুল আহমদ সুপারিন্টেন্ডেন্টের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা আহত তিনজনকে উদ্ধার করে দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে পরে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানোর পথে লাকি বেগম মারা যান। আহত বাবা ও মেয়ে বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

তবে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে রাফি মাদকাসক্ত ও বখাটে জীবনযাপন করছিলেন। এ কারণে বাবা-মা তাকে প্রায়ই শাসন করতেন এবং ভালো পথে ফেরার পরামর্শ দিতেন। এতে পরিবারের সঙ্গে তার দূরত্ব ও ক্ষোভ তৈরি হয়।

বাড়ির বয়োবৃদ্ধ সোলেমান মিয়া বলেন, ‘‘৩/৪ বছর আগে রাফি মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে যায়। ঠিকভাবে লেখাপড়াও করত না। এসব নিয়ে প্রায়ই তার মার সঙ্গে ঝগড়া হতো। হঠাৎ তাদের বাড়ি থেকে শোর চিৎকার শুনে গিয়ে দেখি তাদের ঘরের মেঝেতে লাকি ও মোস্তফা পড়ে আছে। মিথিলাকে বাথরুমে আটকে রেখেছে৷ মাদকাসক্ত একটা পরিবারকে শেষ করে দিলো।’’

এ ঘটনায় রাফিকে একমাত্র আসামি করে দাগনভূঞা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন তার ফুফু শরীফা বেগম। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি ছুরি পুলিশ আলামত হিসেবে জব্দ করেছে।

দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম নোমান জানান, গ্রেপ্তার রাফি ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন এবং আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

ঢাকা/সাহাব/বকুল

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়