খাগড়াছড়িতে জ্বালানি সংকটে বিপাকে পর্যটকরা
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
খাগড়াছড়িতে জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকরা। ঈদুল ফিতরের দ্বিতীয় দিনে বিপুল সংখ্যক ভ্রমণপিপাসু মানুষ পাহাড়ি জনপদ খাগড়াছড়িতে ঘুরতে এসেছেন। যারা নিজস্ব গাড়ি বা মোটরসাইকেল নিয়ে এসেছেন, তারা জ্বালানি সংকটের কারণে চলাচল করতে পারছেন না। পাম্পগুলোতে নেই পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ না থাকায় অন্যান্য পরিবহনও চলাচল করতে পারছে না ঠিকমতো। ঘুরে বেড়ানোর আনন্দ মাটি হওয়ায় হতাশ হয়ে ঘরে ফিরেছেন অনেকে।
রবিবার (২২ মার্চ) সকাল থেকেই খাগড়াছড়ির পর্যটন স্পটগুলোতে স্থানীয় দশনার্থীর পাশাপাশি, বাইরের পর্যটকের উপস্থিতি মোটামুটি ভালো। তবে, পর্যটক যারা নিজস্ব গাড়ি বা বাইক নিয়ে এসেছেন, তাদের পড়তে হয়েছে বিপাকে। তারা যা তেল নিয়ে এসেছেন, অনেকেরে খাগড়াছড়িতে এসে শেষ হয়ে গেছে। ফিলিং স্টেশনগুলোতে লম্বা লাইন দিয়েও তেল না পাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে তাদের, বিশেষ করে সাজেকগামী যাত্রীরা সেখানে যেতে পারছেন না।
দীঘিনালা উপজেলায় তেল সংকট হলে সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় কিছুটা তেল সরবরাহ করা হলেও তা পর্যাপ্ত নয়।
ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে এসেছে ১২ জনের একটি বাইকার দল। তাদের মধ্যে মো. রিফাত হোসেন ও মো. জামাল হোসেন জানান, তেল সংকটের কারণে তারা সাজেকে যেতে পারছেন না। খাগড়াছড়ি পর্যন্ত এসে ফিরে যেতে হচ্ছে। খাগড়াছড়িতে ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পাওয়া যায়নি। তাদের মতো অনেকই সাজেক যেতে পারেনি।
চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ থেকে আসা ব্যবসায়ী মো. রবিউল ইসলাম জানান, তিনি ঈদের ছুটিতে পরিবার নিয়ে এসেছেন সাজেকে যাওয়ার উদ্দেশে । কিন্তু, তেল সংকটের কারণে যাওয়া হলো না।
তিনি বলেন, “ঈদে পর্যটকদের কথা চিন্তা করে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল সরবরাহ করা উচিত ছিল প্রশাসনের। একইসঙ্গে জোর তদারকি অব্যাহত রাখার প্রয়োজন।” তিনি খাগড়াছড়ির কোনো পাম্পে প্রশাসনের লোককে দেখতে পাননি বলে অভিযোগ করেন।
খাগড়াছড়ি সদরের মেহেরুন নেছা ফিলিং স্টেশনরের ম্যানেজার প্রবীর কুমার দাশ জানান, তাদের তেল গতকাল শনিবার বিকেলে শেষ হয়েছে। চট্টগ্রামের ডিপোতে গাড়ি পাঠানো হয়েছে। সোমবার সকালে তেল আসতে পারে।
খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেছেন, “খাগড়াছড়িতে তেল সংকট নেই। তবে, ঈদে বাড়তি চাপ রয়েছে ফিলিং স্টেশনে। তাই, লম্বা লাইনে অপেক্ষা করে তেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে। চাহিদামতো তেল সরবরাহ করার জন্য ফিলিং স্টেশনগুলোতে নির্দেশ দেওয়া আছে।”
তবে, জ্বালানি তেল সংকটের মধ্যেও রবিবার দেড় শতাধিক মোটরসাইকেল এবং দুই হাজারের অধিক পর্যটক সাজেকে প্রবেশ করেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন সাজেক রিসোর্ট ও কটেজ অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মতিজয় ত্রিপুরা।
ঢাকা/রূপায়ন/রফিক