ঢাকা     সোমবার   ৩০ মার্চ ২০২৬ ||  চৈত্র ১৭ ১৪৩২ || ১০ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

সিলেটে বাড়ছে হামের সংক্রমণ, পরীক্ষার ফল পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা 

সিলেট প্রতিনিধি  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৯:৪২, ৩০ মার্চ ২০২৬   আপডেট: ০৯:৪৪, ৩০ মার্চ ২০২৬
সিলেটে বাড়ছে হামের সংক্রমণ, পরীক্ষার ফল পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা 

সিলেট বিভাগে হাম রোগের লক্ষণ নিয়ে রোগীর সংখ্যা বাড়লেও স্থানীয়ভাবে নমুনা পরীক্ষার কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে সন্দেহভাজন রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠাতে হচ্ছে এবং চূড়ান্ত ফল পেতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে অন্তত সাতদিন। এর মধ্যে সিলেটের তিনটি হাসপাতালে হাম সন্দেহে ২০ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন, যাদের বিশেষ পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

রবিবার (২৯ মার্চ) পর্যন্ত সরকারি হিসাব অনুযায়ী, সিলেট বিভাগের তিনটি হাসপাতালে হাম রোগের লক্ষণ নিয়ে ২০ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৬ জন, মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে দুইজন এবং সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুইজন চিকিৎসাধীন আছেন।

আরো পড়ুন:

সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. মোহাম্মদ নূরে আলম শামীম জানান, সিলেটে হামের নমুনা পরীক্ষা আগে কখনোই হতো না, এখনও হচ্ছে না। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সংগৃহীত নমুনা ঢাকার মহাখালীর ল্যাবে পাঠানো হয়। পরীক্ষার আগ পর্যন্ত নমুনাগুলো সুরক্ষিতভাবে সংরক্ষণ করা হয়।

সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. মো. নাসির উদ্দিন বলেন, “যেহেতু স্থানীয়ভাবে হামের পরীক্ষা করা যায় না, তাই রোগীর শরীরে নির্দিষ্ট লক্ষণ দেখা গেলে রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে নিশ্চিত হওয়ার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। চূড়ান্ত ফলাফল পেতে সর্বনিম্ন সাতদিন সময় লাগে। এ সময় সন্দেহভাজন রোগীদের বিশেষ পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।”

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সিলেট বিভাগে শুধু শিশু নয়, তরুণদের মধ্যেও হাম সংক্রমণের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। এদিকে, নমুনা পরীক্ষায় আরো চারজনের হাম শনাক্ত হয়েছে। তারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শনাক্তদের মধ্যে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় একজন, বাহুবলে একজন, মাধবপুরে একজন এবং সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় একজন রয়েছেন।

হাম রোগীদের চিকিৎসার জন্য সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে একটি আইসোলেশন সেন্টার চালু করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) কেন্দ্রটি চালু হওয়ার পর রবিবার পর্যন্ত সেখানে ১৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

হাসপাতালটির তত্ত্বাবধায়ক ডা. মিজানুর রহমান বলেন, চিকিৎসাধীন ১৬ জনের মধ্যে ১৪ জন শিশু এবং দুজন ১৮ বছরের বেশি বয়সী। তাদের সবার নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তিনি জানান, চিকিৎসাধীন দুই শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক।

এদিকে, স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, হাম প্রতিরোধে আগামী মাসের ৫ থেকে ৭ তারিখের মধ্যে একটি বিশেষ ক্যাম্পেইন পরিচালনার প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি টিকাদান কর্মসূচিও নেওয়া হতে পারে। এ লক্ষ্যে বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু করেছে।

সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. জসিম উদ্দিন বলেন, “জেলায় এখনো হামের বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়নি। হাসপাতালে রোগী ভর্তির সংখ্যাও স্বাভাবিক রয়েছে। তবে ছাতক উপজেলায় একজন রোগী শনাক্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।”

ঢাকা/রাহাত/ইভা 

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়