রাজশাহীতে এক মাসে হামে ১২ শিশুর মৃত্যু, উদ্বেগ বাড়ছে
রাজশাহী সংবাদদাতা || রাইজিংবিডি.কম
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হামে আক্রান্ত শিশুরা
রাজশাহীতে শিশুদের মধ্যে সংক্রামক রোগ হাম উদ্বেগজনক হারে ছড়িয়ে পড়েছে। চলতি মার্চ মাসে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হামে আক্রান্ত অন্তত ১২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সংক্রমণ বাড়তে থাকায় হাসপাতালগুলোতে চাপ বেড়েছে। আইসিইউ ও আইসোলেশন সুবিধার সংকট পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ হাম রাজশাহী অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। এখন পর্যন্ত রাজশাহী বিভাগের ২৪৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৭৭ জনকে হাম পজিটিভ পাওয়া গেছে। সংক্রমণের হার দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ৩০ শতাংশ। গত ২৬ মার্চ পর্যন্ত এই নমুনা নেওয়া হয়।
রামেক হাসপাতাল থেকে জানানো হয়েছে, ১ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত রাজশাহীতে ৮৪ জন হামের রোগীকে আইসিইউতে নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে আইসিইউতে নেওয়ার পরও ৯ জন মারা গেছে।
গত বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) হামে আক্রান্ত চার শিশুকে নেওয়া হয়েছিল আইসিইউতে। তাদের মধ্যে বেঁচে আছেন শুধু এক শিশু। বাকি তিন শিশুই মারা গেছে। শনিবারও (২৮ মার্চ) আরো তিন শিশুকে আইসিইউতে নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
হামের রোগীদের আলাদা করে চিকিৎসা না দেওয়ার বিষয়ে রামেক হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক শাহিদা ইয়াসমিন জানান, হাসপাতালে দুটি আইসোলেশন ওয়ার্ড থাকলেও সেখানে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ নেই। এছাড়া, ২০০ শয্যার বিপরীতে ঈদের আগে ৭০০ এর বেশি রোগী ভর্তি থাকায় পরিস্থিতি সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে।
রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, “মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে রাজশাহী অঞ্চলে হাম রোগ ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি জানা যায়। ২৬ মার্চ পর্যন্ত ২৪৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৭৭ জনের শরীরে হামের উপস্থিতি পাওয়া যায়। এরপরে আরো কিছু শিশুর নমুনা পরীক্ষা হয়েছে এবং আরো নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।”
তিনি জানান, রাজশাহী বিভাগের আটটি জেলাতেই শিশুরা হাম রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। কয়েকদিন আগেও পাবনায় রোগী বাড়ছিল। এখন একটু কমছে। হাসপাতালে হামের রোগীদের আলাদা ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন। সবখানে এটা শুরুতে সম্ভব হয়নি।
শনিবার রাত থেকে হাসপাতালের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডকে হামের রোগীদের জন্য ‘আইসোলেশন ওয়ার্ড’ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এই ওয়ার্ডে ২৬ জন রোগী ভর্তি ছিল।
ঢাকা/মাহী ইলাহি/ইভা