ঢাকা     মঙ্গলবার   ৩১ মার্চ ২০২৬ ||  চৈত্র ১৮ ১৪৩২ || ১১ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

মেঘনায় দিনে-দুপুরে লাইটার ভেসেল থেকে ডিজেল পাচারের অভিযোগ

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:১২, ৩১ মার্চ ২০২৬   আপডেট: ১২:১৩, ৩১ মার্চ ২০২৬
মেঘনায় দিনে-দুপুরে লাইটার ভেসেল থেকে ডিজেল পাচারের অভিযোগ

জাহাজ থেকে জ্বালানি তেল ট্রলারে উঠিয়ে পাচারের অভিযোগ উঠেছে।

মেঘনা নদী ঘিরে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় লাইটার ভেসেল থেকে ডিজেল চোরাচালানের অভিযোগ উঠেছে। জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে নৌপথকে পাচারের নিরাপদ রুট হিসেবে বেছে নিয়েছে একটি চক্র। ইতোমধ্যে দিনে-দুপুরে লাইটার ভেসেল থেকে তেল চুরির ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। 

স্থানীয় সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আসা বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন বিপিসির লাইটার ভেসেল থেকে ডিজেল চুরি হয়। জেলার গজারিয়া উপজেলার ভাটিবলাকী এলাকা সংলগ্ন মেঘনাবক্ষে লাইটার জাহাজ থেকে ডিজেল তোলা হয়ে থাকে ট্রলারে। পরে একই উপজেলার তেতৈতলা পুরাতন ফেরিঘাটে সেই ডিজেল খালাস হয়ে থাকে।

আরো পড়ুন:

স্থানীয়দের অভিযোগ, ১৮ বছর আগে মেঘনা নদীতে তেল চোরাচালানের চক্র গড়ে তোলেন জিএম বোরহান নামে এক ব্যক্তি। তিনি স্থানীয়ভাবে ‘গোপালী বোরহান’ নামে পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, বিগত সরকারের সময় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক এক পুলিশ কমিশনারের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে মেঘনা পুরাতন ফেরিঘাট এলাকায় ডিজেল চুরির সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন তিনি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জনরোষে পড়ে বোরহান কিছুদিন আত্মগোপনে থাকলেও বর্তমানে স্থানীয় কয়েকজনকে ম্যানেজ করে আবারো সক্রিয় হয়েছেন।

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে এমভি আকিজ-বশির-৪ নামে ভেসেল থেকে ডিজেল পাচারের দৃশ্য ধরা পড়েছে। ভিডিওতে এক যুবককে বলতে শোনা যায়, স্থানীয় ‘মাসুম’ নামে এক ব্যক্তিকে ম্যানেজ করেই এই কারবার চালছে। 

স্থানীয় বাসিন্দা খোকন মিয়া বলেন, “মেঘনার মোহনায় বিশেষ করে নদীর ভাটিবলাকী এলাকায় লাইটার ভেসেল বা জাহাজ থেকে তেল নামানোর দৃশ্য আমরা দেখে আসছি। কখনো পাইপ দিয়ে আবার কখনো গ্যালনে করে জাহাজ থেকে হাজার হাজার লিটার তেল নামানো হয়। আগে রাতের আঁধারে এই অপকর্ম চলত, এখন তা দিনের আলোতেই ঘটছে।” 

অপর বাসিন্দা নূর মোহাম্মদ বলেন, “মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের পরিস্থিতিতে এখন চোরাকারবারিরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। নদীপথে জাহাজ থেকে ডিজেল পাচার করা হচ্ছে।”

এ ব্যাপারে জানতে যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত জিএম বোরহান বলেন, “আমি এখন এই ব্যবসায় জড়িত নই। বর্তমানে আমি ঢাকায় থাকি। দীর্ঘদিন গজারিয়া উপজেলায় যাইনি। কারো সঙ্গে মিলে বা অন্য কারো মাধ্যমে আমি এই ব্যবসা করছি না।” 

অন্য অভিযুক্ত ভাটিবলাকী গ্রামের মাসুম বলেন, “ভিডিওতে কেন আমার নাম বলা হয়েছে- তা জানা নেই। আমার বৈধ ব্যবসা রয়েছে। আমি কোনো অপকর্মের সঙ্গে জড়িত নই।”

আকিজ-বশির গ্রুপের মানব সম্পদ বিভাগের ব্যবস্থাপক মো. কবির হাসান বলেন, “এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও আমাদের হাতে এসেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, আমাদের একটি লাইটার ভেসেল থেকে তেল নামিয়ে ফেলা হচ্ছে। বিষয়টি আমি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। এ ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, “ঘটনাটি সাংবাদিকদের মাধ্যমেই প্রথম জানলাম। তাৎক্ষনিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এ ব্যাপারে অবগত করা হয়েছে। শিগগিরই নৌ-পুলিশ, থানা পুলিশ এবং গোয়েন্দা বাহিনীর সমন্বয়ে অভিযান চালানো হবে।”

ঢাকা/রতন/মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়