ঢাকা     বুধবার   ০১ এপ্রিল ২০২৬ ||  চৈত্র ১৮ ১৪৩২ || ১২ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

নেত্রকোণা হাসপাতালে হামে আক্রান্ত ৫ শিশু

নেত্রকোণা সংবাদদাতা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৮:৩৯, ১ এপ্রিল ২০২৬   আপডেট: ০৮:৪৪, ১ এপ্রিল ২০২৬
নেত্রকোণা হাসপাতালে হামে আক্রান্ত ৫ শিশু

ফাইল ফটো

দেশের অন্যান্য জেলার মতো নেত্রকোণাতেও ধীরে ধীরে বাড়ছে হামের সংক্রমণ। জেলায় এখন পর্যন্ত ৯ শিশুর শরীরে এ রোগ শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও বর্তমানে পাঁচ শিশু নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় ও হাসপাতাল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

আরো পড়ুন:

আক্রান্ত শিশুদের বয়স ছয় মাস থেকে তিন বছরের মধ্যে। শনাক্তদের মধ্যে সদর উপজেলায় চারজন, পূর্বধলায় দুইজন, আটপাড়ায় দুইজন এবং কলমাকান্দায় একজনের বাড়ি।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি জ্বর, সর্দি-কাশি ও শরীরে লালচে ফুসকুড়ি নিয়ে শিশুদের হাসপাতালে আনা হচ্ছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাদের হাম শনাক্ত হচ্ছে। আক্রান্তদের অধিকাংশই শূন্য থেকে পাঁচ বছর বয়সী। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রোগীদের আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া এক শিশুর অভিভাবক ফুলন রাণী সরকার বলেন, ‍“আমার বাচ্চার তিনদিন ধরে জ্বর ছিল, পরে শরীরে দানা ওঠে। হাসপাতালে ভর্তি করার পর চিকিৎসকরা জানান, এটি হাম। আইসোলেশন ওয়ার্ডে প্রয়োজনীয় কিছু ওষুধের ঘাটতি রয়েছে।”

শিশু বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. আবু রায়হান খান জানান, হাম আক্রান্ত রোগীদের জন্য হাসপাতালে আলাদা কর্ণার চালু করা হয়েছে। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও রোগীদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, বর্তমানে হাসপাতালে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল, প্যারাসিটামল (নাপা) সিরাপ, অ্যান্টিবায়োটিক ও চোখের ড্রপের সরবরাহ নেই। ফলে অভিভাবকদের বাইরে থেকে এসব ওষুধ সংগ্রহ করতে হচ্ছে। অক্সিজেন সরবরাহে সাময়িক সমস্যা থাকলেও তা এখন স্বাভাবিক হয়েছে।

চিকিৎসকদের মতে, হাম অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। সময়মতো টিকা না নিলে এটি শিশুদের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে যারা নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আসেনি, তারা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।

নেত্রকোণার সিভিল সার্জন গোলাম মাওলা জানান, আক্রান্ত শিশুদের হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা হচ্ছে। হাসপাতালে টিকার কোনো সংকট নেই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ঢাকা/ইবাদ/মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়