সামলানো যাচ্ছে না রাহুলের মাকে, বাকরুদ্ধ অভিনেতার ছেলে
মা, ছেলে ও স্ত্রীর সঙ্গে রাহুল (বাঁ থেকে)
ভারতীয় বাংলা সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকস্মাৎ মৃত্যুতে হতভম্ভ তার পরিবার, ভক্ত-অনুরাগী ও সহকর্মীরা। কলকাতার বিজয়গড়ের বাড়িতে বেড়ে উঠেন রাহুল। তারকা খ্যাতির পরও এ বাড়ি ছাড়েননি। তার মাও এখানেই বসবাস করেন। রাহুলের পরিবার ও পাড়াপড়শিরা তাকে ‘বাবিন’ নামে ডাকেন। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পুরো পাড়ার পরিবেশই বদলে যায়।
গত রবিবার রাতে এ বাড়িতে রাহুলের মায়ের কাছে পৌঁছান প্রিয়াঙ্কা সরকার। তারপর একে একে জড়ো হন অভিনেতার বন্ধুরা। অভিনেত্রী দেবলীনা দত্ত সারাক্ষণ ছিলেন অভিনেতার মায়ের সঙ্গে। উপস্থিত হয়েছিলেন জয়জিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, সুদীপ্তা চক্রবর্তী, সৌরভ দাস, ঋদ্ধিমা ঘোষ, গৌরব চক্রবর্তীসহ অনেকে।
রাহুলের মায়ের সামনে যেতে পারেননি সৌরভ দাস। বাইরেই বসেছিলেন। ভেবে পাচ্ছিলেন না কী করলে ঠিক হবে। কোনোভাবেই রাহুলের চলে যাওয়ার খবর মেনে নিতে পারছেন না তার মা। অভিনেত্রী চৈতি ঘোষাল বলেন, “সন্তানহারা মা কি আর ঠিক থাকে?”
রবিবার রাত থেকে রাহুলের মাকে বিছানায় শুইয়ে রাখা যাচ্ছে না। বার বার ছেলে বাবিনকে খুঁজছেন। দেবলীনা বলেন, “চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ দেওয়া হয়েছে। তাতেও ঘুমোচ্ছেন না, খাচ্ছেন না রাহুলের মা। বুধবার দাদাভাই আসবেন। তারপর যদি একটু সামলানো যায়।”
বলে রাখা ভালো, রাহুলের বড় ভাই আয়ারল্যান্ডে বসবাস করেন। ভাইয়ের মৃত্যুর খবর পেয়েছেন। বুধবার কলকাতা শহরে ফিরবেন তিনি।
একদিকে যেমন রাহুলের মাকে সামলানো যাচ্ছে না, অন্যদিকে একেবারে চুপ হয়ে গিয়েছে রাহুলের ১৩ বছরে ছেলে সহজ। অনিন্দিতা রায়চৌধুরী বলেন, “একটা শব্দও মুখ থেকে বার করেনি সহজ। পুরোপুরি চুপ হয়ে গিয়েছে। আর সবকিছু একাহাতে সামলাচ্ছে প্রিয়াঙ্কা। ওকে সত্যিই কুর্নিশ জানাই।”
গতকাল দুপুর ৩টার দিকে তমলুক মহকুমা হাসপাতাল থেকে কলকাতা নেওয়া হয় রাহুলের মরদেহ। শেষ বিদায় জানাতে, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশাপাশি শোবিজ অঙ্গনের তারকারাও উপস্থিত হন। গতকাল বিকাল সাড়ে ৫টার পর তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।
ঢাকা/শান্ত