ঢাকা     বুধবার   ০১ এপ্রিল ২০২৬ ||  চৈত্র ১৯ ১৪৩২ || ১৩ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

সেচপাম্প নিয়ে ফিলিং স্টেশনে কৃষকরা, ঠাকুরগাঁওয়ে ‘হায় হায়’ অবস্থা

মঈনুদ্দীন তালুকদার হিমেল, ঠাকুরগাঁও || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:২৫, ১ এপ্রিল ২০২৬   আপডেট: ২০:২৫, ১ এপ্রিল ২০২৬
সেচপাম্প নিয়ে ফিলিং স্টেশনে কৃষকরা, ঠাকুরগাঁওয়ে ‘হায় হায়’ অবস্থা

কৃষিনির্ভর জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। ফিলিং স্টেশনগুলোতে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন চাষিরা। এতে ‘হায় হায়’ অবস্থায় পড়েছেন তারা।

বুধবার (১ এপ্রিল) ঠাকুরগাঁওয়ের কাদের ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল নিতে সেচপাম্প নিয়ে কৃষকদের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। তাদের অনেকেই পর্যাপ্ত তেল না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন।

কৃষকরা জানান, মোটরসাইকেলে জ্বালানী তেল নিতে ‘জ্বালানি কার্ড’ চালু করা হলেও কৃষকদের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত কোনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ সময় বোরো ও ভুট্টা চাষের জন্য জমিতে সেচ দেয়া প্রয়োজন। কিন্তু, বোতল বা আলাদাভাবে জ্বালানি তেল সংগ্রহ নিষিদ্ধ হওয়ায় অনেক চাষি সেচপাম্প নিয়েই ফিলিং স্টেশনে এসেছেন। তবে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল পাওয়া যাচ্ছে না।

বোরো চাষি রাজকুমার রাধে বলেন, “সব কাজ ছেড়ে দিয়ে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও জ্বালানি তেল পাওয়া যাচ্ছে না। মোটরসাইকেল আরোহীদের কথা চিন্তা করলেও কৃষকদের কথা কেউ ভাবেনি। এতে জমির ফসল নষ্ট হওয়ার শঙ্কায় পড়েছি।”

তিনি বলেন, “কিছু পাম্পে দেড়শ টাকার জ্বালানি তেল দিলেও সেটা আমাদের জন্য অপ্রতুল। দৈনিক আমাদের ১০-১৫ লিটার জ্বালানি তেলের প্রয়োজন। আমরাও বিশেষ জ্বালানি কার্ডের দাবি জানাচ্ছি।”

ঠাকুরগাঁও রায়পুর ইউনিয়নের বাসিন্দা তারেক রহমান বলেন, “দেশে কি সত্যি জ্বালানি সংকট, নাকি বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে বুঝছি না। সরকার বলছে, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই; অথচ পাম্পে গেলে তেল পাওয়া যাচ্ছে না।”

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ মাজেদুর ইসলাম বলেন, “জ্বালানি সংকটের কারণে সেচে সমস্যা হলে কৃষিতে খারাপ প্রভাব পড়বে। কোনো কৃষক যদি আমাদের কাছে আসেন, আমরা তাকে প্রত্যয়নপত্র দেব—এর মাধ্যমে তিনি জ্বালানি তেল সংগ্রহ করতে পারবেন।”

কৃষি কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রত্যায়নপত্র পাওয়ার সুযোগের বিষয়টি জানা নেই বলে জানিয়েছেন মাঠ পর্যায়ের চাষিরা। তারা বলছেন, এমন বিষয়ে কোনো প্রকার প্রজ্ঞাপন বা মাইকিং করে কৃষকদের জানানো হয়নি।

আকচা এলাকার কৃষক সোহেল রানা বলেন, “প্রত্যায়নপত্রের মাধ্যমে জ্বালানি তেল পেলে তো কষ্ট করে সঙ্গে পাম্প নিয়ে আসতে হয় না। এটা এই প্রথম শুনলাম।”

ঠাকুরগাঁওয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সরদার মোস্তফা শাহীন বলেন, “কৃষকদের বিষয়ে আমরা কাজ করছি। ইতোমধ্যে ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে। তারা প্রত্যায়নপত্র দিলে কৃষকরা জ্বালানি নিতে পারবেন। দ্রুতই বিষয়টি কৃষকদের জানানোর জন্য প্রচারের ব্যবস্থা করব।”

ঠাকুরগাঁওয়ে বর্তমানে ৩৭টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। এর মধ্যে, সদর উপজেলায় ২৪টি, বালিয়াডাঙ্গীতে ২টি, হরিপুরে ২টি, রাণীশংকৈলে ৫টি এবং পীরগঞ্জে রয়েছে ৪টি ফিলিং স্টেশন।

ঢাকা/রাজীব

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়