ঢাকা     বুধবার   ০১ এপ্রিল ২০২৬ ||  চৈত্র ১৯ ১৪৩২ || ১৩ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

হৃতিক-সুজানের বিচ্ছেদ: বোনের ভাঙা সংসার নিয়ে মুখ খুললেন জায়েদ

বিনোদন ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:১৮, ১ এপ্রিল ২০২৬   আপডেট: ২০:২৩, ১ এপ্রিল ২০২৬
হৃতিক-সুজানের বিচ্ছেদ: বোনের ভাঙা সংসার নিয়ে মুখ খুললেন জায়েদ

হৃতিক-সুজান, জায়েদ খান

ভালোবেসে ঘর বেঁধেছিলেন বলিউড অভিনেতা হৃতিক রোশান ও সুজান খান। একসময় বলিউডের সবচেয়ে আলোচিত জুটিগুলোর একটি ছিলেন তারা। দুই সন্তান জন্মের পরও এ দম্পতির সংসার স্থায়ী হয়নি। বরং এক দশক আগে ১৩ বছরের সংসার জীবনের ইতি টানেন তারা। 

কেন সংসার ভেঙেছে হৃতিক-সুজানের? এ প্রশ্নের উত্তর আজও দেননি এই দম্পতির কেউই। তবে সুজানের ভাই অভিনেতা জায়েদ খান বোনের ভাঙা সংসার নিয়ে বেশ খোলামেলা কথা বলেছেন। কয়েক দিন আগে জুমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন এই অভিনেতা। 

আরো পড়ুন:

জায়েদ খান বলেন, “এটা হওয়ার ছিল না। যা থাকার নয়, এমন কিছু ধরে রাখার চেষ্টা করলে দুজন মানুষই কষ্ট পায়। এমনটা কেন হবে? শেষ পর্যন্ত সন্তানদের দিকেই তাকাতে হয়। তাদের জীবনের অংশ হওয়া, বড় হয়ে উঠতে দেখা, ভালো মানুষ হয়ে উঠতে দেখা—এসবই তখন মূল লক্ষ্য হয়ে যায়।” 

বিবাহবিচ্ছেদের পর দুই পরিবারই যথেষ্ট পরিণত আচরণ করেছে, যাতে হৃতিক ও সুজান নিজেদের মতো করে সুখ খুঁজে নিতে পারেন। এসব তথ্য উল্লেখ করে জায়েদ খান বলেন, “সবকিছু শেষ হয়ে গেছে, এখন সামনে এগিয়ে যাওয়ার সময়। নিজের মতো করে সুখ খুঁজে নাও। সমাজের মানুষের চাপে চলা পরিবারের মানুষ আমরা নই। আমরা কিছু বিষয়ে বেশি সচেতন ও শিক্ষিত। অনেকেই এটাকে অদ্ভুত মনে করতে পারেন। কেউ তরুণ, কেউ নিজেরাই অসুখী, কেউ বোঝে না—তাতে সমস্যা নেই, এটা স্বাভাবিক।” 

বিবাহবিচ্ছেদ হলেও হৃতিক-সুজানের মাঝে শ্রদ্ধার সম্পর্ক এখনো বিরাজমান বলে জানান জায়েদ খান। তিনি বলেন, “আমার মনে হয়, ভালোবাসা একটি বিস্তৃত বিষয়। তাদের পরস্পরের মধ্যে যে সম্মান ও যত্ন আছে, সেটা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। তাদের দুজনেরই দারুণ সঙ্গী (প্রেমিক-প্রেমিকা) রয়েছে। আমি হৃতিকের সঙ্গী সাবা আজাদকে খুব পছন্দ করি, সে অসাধারণ একজন মানুষ। আর সুজানের সঙ্গী আর্সলান গণিও আমার খুব কাছের, ছোট ভাইয়ের মতো। আপনি জানেন, জীবন চলতেই থাকে।” 

বিচ্ছেদের পর সুজান-হৃতিক নতুন করে সম্পর্কে জড়িয়েছেন। বিষয়টির জন্য গর্ববোধ করেন জায়েদ খান। তার মতে—“তারা কেমন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গিয়েছে, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। তবে তারা সবকিছু সামলে যেভাবে এগিয়েছে, নিজেদের লক্ষ্য অর্জন করেছে, আবার ভালোবাসা খুঁজে পেয়েছে—এ জায়গা থেকে আমি তাদের সম্মান জানাই। আমি সত্যি তাদের সম্মান জানাই। কারণ এটা খুবই কঠিন। দিন শেষে বিশ্বস্ত একজন মানুষের উপস্থিতি খুব প্রয়োজন; যার সঙ্গে সবকিছু খোলাখুলিভাবে বলা যায়।” 

বিশ্বস্ত একজন মানুষ পাশে থাকার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে জায়েদ খান বলেন, “প্রত্যেক মানুষ কোনো না কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে চলে। আপনার পাশে যদি শক্ত একজন মানুষ না থাকে, তাহলে এই পৃথিবীতে চলা খুব কঠিন!” 

২০০০ সালের ২০ ডিসেম্বর বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন হৃতিক-সুজান। ভিন্ন ধর্মের হওয়ায় পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে আংটি বদল ও শপথ গ্রহণের মাধ্যমে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন তারা।  

২০০৬ সালের মার্চে এই দম্পতি আনন্দের সাগরে ভাসেন প্রথম পুত্র হৃহানের জন্মের পর। ২০০৮ সালের মে মাসে দ্বিতীয় পুত্র হৃদান জন্মগ্রহণ করেন। এর মধ্য দিয়ে তাদের পরিবার পূর্ণতা পায়। ২০১৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহবিচ্ছেদ হয় সুজান-হৃতিকের। সংসার ভেঙে গেলেও প্রায়ই দু’জন মিলে সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটান। 

ঢাকা/শান্ত

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়