ঢাকা     বুধবার   ০১ এপ্রিল ২০২৬ ||  চৈত্র ১৯ ১৪৩২ || ১৩ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

বাংলাদেশ আমাদের ভাই, শুধু উদ্বেগ নয় নিন্দা চাই: ইরানি রাষ্ট্রদূত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:৫৪, ১ এপ্রিল ২০২৬   আপডেট: ২১:০৬, ১ এপ্রিল ২০২৬
বাংলাদেশ আমাদের ভাই, শুধু উদ্বেগ নয় নিন্দা চাই: ইরানি রাষ্ট্রদূত

ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদি

ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকারের দেওয়া বিবৃতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদি।

বুধবার (১ এপ্রিল) ইরান দূতাবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, বাংলাদেশের ‘অপষ্ট’ অবস্থানে ইরানের ‘কষ্টের জায়গা’ রয়েছে। খবর বিবিসি বাংলার।

আরো পড়ুন:

রাষ্ট্রদূত জাহানাবাদি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষও এই যুদ্ধের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছেন। স্পেনসহ ইউরোপের অনেক দেশ সরাসরি নিন্দা জানাচ্ছে। অথচ বাংলাদেশের বিবৃতিতে কেবল ‘উদ্বেগ’ প্রকাশ করা হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, “যুক্তরাষ্ট্র এখানে সরাসরি আগ্রাসী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে এবং যেকোনো আগ্রাসন নিন্দার যোগ্য। বাংলাদেশ আমাদের ভাই। তাই আমরা আশা করি, অস্পষ্ট বিবৃতি না দিয়ে বাংলাদেশ একটি সুস্পষ্ট অবস্থান গ্রহণ করবে এবং এই আগ্রাসনের নিন্দা জানাবে।”

ইরান কোনো মুসলিম দেশের সঙ্গে যুদ্ধ চায় না উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, মিশর, পাকিস্তান, তুরস্কসহ অনেক মুসলিম দেশ ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার নিন্দা করেছে এবং আলোচনার পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে।” 

তিনি আরো বলেন, “পাকিস্তান আমাদের বন্ধু ও ভাই। সে হিসেবে পাকিস্তান ছাড়াও তুরস্ক-মিশর কোনো উদ্যোগ করলে সেটিকে আমরা স্বাগত জানাই।” আমেরিকারা ১৫টি শর্তসহ আমাদের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছে একটা। আসলে এটা ছিল আমেরিকানদের চাওয়া-পাওয়ার বিষয়। যুদ্ধের মাধ্যমে তারা যা অর্জন করতে পারে নাই, এভাবে এখন তা তারা অর্জন করার চেষ্টা করছে। আমেরিকার সাথে আমাদের কোনো ধরনের আলোচনা হয় নাই। আমেরিকার ১৫ দফা প্রস্তাবের কোনো ধরনের উত্তর আমরা দেই নাই। তবে মুসলিম দেশগুলোকে আমরা বলেছি, ইরান কখনোই যুদ্ধের পক্ষে নয়, ইরান যুদ্ধ চায় না।”

“তবে ইরান এমনভাবে যুদ্ধকে শেষ করতে চায়, যাতে পুরো অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং জনগণের অধিকারও অর্জিত হয়”, এক সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

তার মতে, “যতক্ষণ পর্যন্ত আমেরিকা ও ইসরায়েলের অস্ত্রের জোর থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত তারা আক্রমণ করে। যখন অস্ত্রের ঘাটতি আসে, তখন তারা শান্তির কথা বলে। এটা হতে পারে না যে তাদের বিপদের সময় তারা যুদ্ধ বন্ধ করতে বলবে, আর আমাদের মেনে নিতে বলবে।”

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অসংলগ্ন কথাবার্তার সমালোচনা করে রাষ্ট্রদূত বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেকে ১১২ বারের বেশি বিজয়ী ঘোষণা করেছেন। তিনি সকালে জয়ের কথা বলেন, দুপুরে আলোচনার কথা বলেন এবং রাতে সব ধ্বংস করার হুমকি দেন। আমাদের বড় সমস্যা হলো, আমেরিকায় বর্তমানে এমন একজন প্রেসিডেন্ট আছে, যে নিজেকেও বুঝেন না এবং বিশ্ব পরিস্থিতিকেও বুঝতে পারেন না। অথচ তিনি নিজেকে, মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্বের স্বার্থকে বিপজ্জনক অবস্থায় নিয়ে গেছেন।”

হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া বাংলাদেশের পতাকাবাহী ছয়টি জাহাজের বিষয়ে অগ্রগতি জানতে চাইলে রাষ্ট্রদূত ইতিবাচক বার্তা দেন। তিনি জানান, গত সপ্তাহে বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে জাহাজগুলোর বিস্তারিত তথ্য (স্পেসিফিকেশন ও রুট নম্বর) পাওয়া গেছে এবং সেগুলো ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ চলছে।

তবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে নতুন করে ‘টোল’ আরোপের বিষয়টি ইরানের বিবেচনাধীন রয়েছে বলে তিনি জানান। টোল চূড়ান্ত না হলেও ওই এলাকা দিয়ে চলাচলের সময় ইরানের সঙ্গে সমন্বয় করা বাধ্যতামূলক হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।

ঢাকা/ফিরোজ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়