ঢাকা     সোমবার   ০৬ এপ্রিল ২০২৬ ||  চৈত্র ২৪ ১৪৩২ || ১৮ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

টেকনাফ স্থলবন্দরের কার্যক্রম পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত

কক্সবাজার প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:৪৫, ৬ এপ্রিল ২০২৬  
টেকনাফ স্থলবন্দরের কার্যক্রম পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত

সোমবার দুপুরে টেকনাফ স্থলবন্দর পরিদর্শন করেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান

প্রায় এক বছর বন্ধ থাকার পর কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। 

সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে টেকনাফ স্থলবন্দর পরিদর্শন শেষে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান।

প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, “টেকনাফ বন্দরের কার্যক্রম পুনরায় সচল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ, কাস্টমস, কোস্ট গার্ড, বিজিবি, পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে জনগণের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে মিয়ানমারের সঙ্গে সীমান্ত বাণিজ্য সচল রাখতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

আরাকান আর্মির বিষয়ে তিনি বলেন, “ভবিষ্যত পরিস্থিতির আশঙ্কায় বন্দর বন্ধ রাখার সুযোগ নেই। সবকিছু বিবেচনায় নিয়েই কার্যক্রম চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে বন্দরের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছিল। এর পর ব্যবসায়ী ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে বন্দর চালুর প্রত্যাশা তৈরি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল অনুষ্ঠিত এক সভায় বন্দর, কাস্টমস, কোস্ট গার্ড, বিজিবি, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও এনবিআর কর্মকর্তারা অংশ নেন। ওই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে বন্দর চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বন্দরকে কেন্দ্র করে সরকার সতর্ক অবস্থানে আছে। বন্দরের কার্যক্রমে কোনোভাবেই রোহিঙ্গাদের সম্পৃক্ত হতে দেওয়া হবে না। শুধু বাংলাদেশি নাগরিকরাই এখানে কাজ করতে পারবেন। বন্দরে কর্মরতদের জন্য স্থানীয় প্রশাসন থেকে নাগরিকত্ব সনদ নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কোনো রোহিঙ্গার সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি আরো বলেন, “সীমান্ত পরিস্থিতি সংবেদনশীল হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক আছে এবং বন্দর কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

পরিদর্শনকালে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নুরুন্নাহার, টেকনাফ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমামুল হাফিজ নাদিম, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ হানিফুর রহমান ভূঁইয়া, কোস্ট গার্ডের টেকনাফ স্টেশনের লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আরাফাত হোসেন, ইউনাইটেড ল্যান্ড পোর্টের মহাব্যবস্থাপক জসীম উদ্দিন চৌধুরী, কাস্টমস কর্মকর্তা মাহামুদুল রহমান, অপারেশন অফিসার কামাল হোসেন, কক্সবাজার জেলা বিএনপির অর্থ সম্পাদক মো. আব্দুল্লাহ, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাদাত হোসেনসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর মিয়ানমারের মংডুসহ প্রায় ২৭০ বর্গকিলোমিটার এলাকা দখলের পর নাফ নদীতে আধিপত্য বিস্তার করে আরাকান আর্মি। এর ফলে আকিয়াব ও ইয়াঙ্গুন থেকে আসা পণ্যবাহী ট্রলার বিভিন্ন সময় আটকে রেখে চাঁদা দাবি করা হচ্ছে।

সর্বশেষ ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল মিয়ানমার থেকে একটি কাঠবোঝাই ট্রলার টেকনাফ বন্দরে পৌঁছানোর পর আর কোনো পণ্য আমদানি হয়নি। প্রায় এক বছর ধরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম কার্যত বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত বাণিজ্য ১৯৯৫ সালে শুরু হয়। ২০০৩ সালের ৫ নভেম্বর ২৭ একর জমির ওপর টেকনাফ স্থলবন্দরের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম চালু করা হয়।

ঢাকা/তারেকুর/রফিক

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়