ঢাকা     সোমবার   ০৬ এপ্রিল ২০২৬ ||  চৈত্র ২৪ ১৪৩২ || ১৮ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

মৌলভীবাজারের দুই হাওরে জলাবদ্ধতা, ডুবেছে ৫০০ বিঘা ধানক্ষেত

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:৩৬, ৬ এপ্রিল ২০২৬  
মৌলভীবাজারের দুই হাওরে জলাবদ্ধতা, ডুবেছে ৫০০ বিঘা ধানক্ষেত

ভারী বৃষ্টির কারণে মৌলভীবাজারের হাকালুকি ও কাউয়া দীঘি হাওর এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। তলিয়ে গেছে ৫০০ বিঘা জমির আধপাকা বোরো ধান। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন অনেক চাষি। 

কৃষকরা জানিয়েছেন, কয়েক দফা ভারী বৃষ্টির ফলে হাওরের নিচু জমিগুলো দ্রুত পানিতে তলিয়ে যায়। প্রায় ৫০০ বিঘা জমির আধপাকা ধান পানিতে ডুবে গেছে। এতে ধানের শীষ পচে যেতে পারে।

কৃষকদের অভিযোগ, কাশিমপুর পাম্প হাউজে ঠিকমতো পানি সেচ দেওয়া হচ্ছে না। প্রভাবশালী একটি মহল কাউয়াদিঘি হাওরের মাঝের বান্দ ও শালকাটুয়া বিলের কাছে মালবন্দ এলাকায় বাঁধ নির্মাণ করে মাছ চাষের জন্য পানি আটকে রেখেছে। সময়মতো পানি না নামলে ক্ষতির পরিমাণ আরো বাড়বে। বিশেষ করে, যেসব জমিতে ধান কাটার প্রস্তুতি চলছিল, সেগুলো বেশি ঝুঁকির মধ্যে আছে।  

সোমবার দুপুরে হাওর এলাকায় গেলে কথা হয় কাউয়াদিঘি হাওর পারের চাষি ছালেক মিয়ার সঙ্গে। তিনি জানান, মাঝের বান্দ এলাকায় ৮০ বিঘা জমিতে ৪ লাখ টাকা ব্যয় করে বোরো ধান চাষ করেছেন। এখন তার ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। যদি ধান গোলায় না ওঠে, তাহলে মহাজনের দেনা কী দিয়ে পরিশোধ করবেন, এমন চিন্তায় তিনি দিশেহারা। 

রক্তা গ্রামের চাষি রিয়ান উদ্দিন বলেন, “২৫ বিঘা বোরো ধানের জমি পানিতে ডুবু-ডবু করছে। তলিয়ে গেলে বড় ক্ষতির মধ্যে পড়ব।” 

ধানখেত পরিদর্শন শেষে বাড়ি ফিরছিলেন সাইদুল ও শিপন। কথা হয় তাদের সঙ্গে। তারা বলেন, “কাউয়াদিঘি হাওরের মাঝের বান্দ, শালকাটুয়া, বদির পাড়া, মাটিকুড়া এলাকায় আমাদের ২২ বিঘা জমি জলমগ্ন হয়ে গেছে। মালবন্দ এলাকায় ফিসারির সাথে জড়িতরা বাঁধ দিয়ে পানি আকে রেখেছে। ওই পানি নালায় না যাওয়ায় পাম্প হাউজ দিয়ে পানি বের হচ্ছে না। পানি দ্রুত না নামলে ধান পচে যাবে। হাওরের ওই এলাকায় প্রায় ৪০০ বিঘা জমি তলিয়ে গেছে।”

এদিকে, হাকালুকি হাওরের উগলা ও হাসিরডিবি বিলের ১০০ বিঘা বোরো ধানের ক্ষেত পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। 

ভুকশিমইল ইউনিয়নের বাসিন্দা আব্দুল্লাহ ও আলাউদ্দিন জানান, কয়েক দফা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে হাকালুকি হাওরের নিম্নাঞ্চালের চাউঙ্গুয়া, উগলা ও হাসিরডিবি বিলের আধপাকা বোরো ধানের ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। দ্রুত পানি না নামলে তারা ক্ষতির মধ্যে পড়বেন। 

রাজনগর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেছেন, “কাউয়াদিঘি হাওরে আমাদের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ১৪ হাজার ৪২০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। আমরা হাওরের ফসল রক্ষার জন্য তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছি। মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড পানি সেচের ৩ ব্যান্ড ও ৬ ব্যান্ড খোলা রেখেছে। হাওর থেকে পানি বের হচ্ছে। কোথাও কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” 

কুলাউড়া উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেছেন, “চলতি মৌসুমে হাকালুকি হাওরসহ বিভিন্ন নিচু এলাকায় ৮ হাজার ৭০৪ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করা হয়েছে। ভারী বৃষ্টিতে নিচু এলাকায় পানিতে ধানক্ষেত তলিয়ে যেতে পারে। আমরা খোঁজ নিয়ে দেখব। আবহাওয়ার উন্নতি হলে পানি দ্রুত নেমে যাবে।” 

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন অলিদ বলেছেন, “আমরা কাশিমপুর পাম্প হাউজ নিয়মিত সচল রাখার চেষ্টা করছি। পানি সেচ হচ্ছে। কোনো প্রতিবন্ধকতা আমাদের জনা নেই। যদি এরকম কোন সমস্যা পাওয়া যায়, তাহলে ফসল রক্ষার স্বার্থে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঢাকা/আজিজ/রফিক

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়