ঢাকা     শনিবার   ১১ এপ্রিল ২০২৬ ||  চৈত্র ২৮ ১৪৩২ || ২২ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

কৃত্রিম পায়ের আশায় ইসমাইল

পটুয়াখালী (উপকূল) প্রতিনিধি  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:৫৩, ৭ এপ্রিল ২০২৬  
কৃত্রিম পায়ের আশায় ইসমাইল

ইসমাইল তালুকদার।

ট্রাকচাপায় এক পা হারিয়েও জীবনযুদ্ধে হার মানেননি ইসমাইল তালুকদার। ক্রাচে ভর দিয়ে হাঁটলেও ভিক্ষাবৃত্তিকে বেছে নেননি বরং ইজিবাইক চালিয়েই জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি। তবে, একটি কৃত্রিম পা পেলে তার চলাফেরা যেমন সহজ হবে, তেমনি বদলে যেতে পারে পুরো জীবন। কৃত্রিম পায়ের ব্যবস্থা করে দিতে সরকার ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এই ব্যক্তি।

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নের ইটবাড়িয়া গ্রামের জালাল তালুকদারের ছেলে ইসমাইল। একসময় ট্রাক চালকের সহকারী হিসেবে কাজ করতেন তিনি। 

পরিবার জানায়, প্রায় সাত বছর আগে সড়কের পাশে ট্রাক সরানোর সংকেত দিতে গিয়ে ট্রাকের চাকা ইসমাইলের ডান পায়ের ওপর উঠে যায়। গুরুতর আহত হন তিনি। পরে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে একটি পা কেটে ফেলতে হয় তার। চিকিৎসা খরচে নিঃস্ব হয়ে পড়ে পরিবার।

তিন বছর আগে ইসমাইলকে ছেড়ে যান স্ত্রী। তবুও মনোবল হারাননি। এক পায়ে ভর দিয়েই জীবিকার তাগিয়ে ভাড়ায় ইজিবাইক চালাচ্ছেন তিনি।  

ইটবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা সিফাত আকন বলেন, “ইসমাইলকে দেখে আমাদের খুব খারাপ লাগে। তিনি ভিক্ষা না করে নিজের এক পায়ে ভর দিয়ে ইজিবাইক চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। সমাজের বিত্তবানসহ সরকারের কাছে অনুরোধ জানাই, তাকে যেন একটি কৃত্রিম পায়ের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়।” 

অপর বাসিন্দা তোফাজ্জেল হোসেন বলেন, “ইসমাইলের জীবনটা আসলেই অনেক কষ্টের। পা না থাকায় স্ত্রী চলে গেছে। নিজের চিকিৎসা করানোর জন্য জমি পর্যন্ত বিক্রি করেছেন। তারপরও হেরে যাননি। ভিক্ষার পরিবর্তে বেছে নিয়েছেন ইজিবাইক চালকের পেশা। আমরা অনেক স্থানে দেখেছি, সরকার অনেক পঙ্গু মানুষকে কৃত্রিম পায়ের ব্যবস্থা করে দেয়। আমরা ইসমাইলকেও একটি কৃত্রিম পায়ের ব্যবস্থা করে দিতে সরকারের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি।”

জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন ইজিবাইক নিয়ে সড়কে যেতে হয় ইসমাইলকে


ইসমাইল তালুকদার বলেন, “প্রায় সাত বছর আগে আমি যখন চালককে সিগনাল দিয়ে ট্রাকটি পাশে সারাতে বলেছি, তখন ভুলবসত চালক ট্রাকের একটি চাকা আমার পায়ের ওপরে উঠিয়ে দেন। কলাপাড়া, পটুয়াখালী এবং ঢাকার পঙ্গু হাসপাতাল চিকিৎসা করিয়েছি। চিকিৎসা করতে গিয়ে আমি এখন দায়-দেনায় জর্জরিত। এ কারণে জীবিকা চালাতে ইজিবাইক চালানো পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছি।” 

তিনি বলেন, “আমার কৃত্রিম পা কেনার সমর্থ্য নেই। সরকার অথবা যদি কোন সামর্থ্যবান ব্যক্তি আমাকে কৃত্রিম পায়ের ব্যবস্থা করে দেন তাহলে অনেক উপকার হতো।”

কলাপাড়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম বলেন, “ইসমাইল প্রতিবন্ধী ভাতার আওতাভুক্ত। তার জন্য কৃত্রিম পায়ের ব্যবস্থা করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।”

ঢাকা/ইমরান/মাসুদ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়