ঢাকা     শুক্রবার   ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ||  বৈশাখ ১১ ১৪৩৩ || ৬ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

বিএনপি নেতাকে ‌‘থাপ্পড়’, শিক্ষিকাকে ‘জুতাপেটা’

রাজশাহী প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৩:০৩, ২৪ এপ্রিল ২০২৬   আপডেট: ১৩:২৬, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
বিএনপি নেতাকে ‌‘থাপ্পড়’, শিক্ষিকাকে ‘জুতাপেটা’

রাজশাহীর দুর্গাপুরের দাওকান্দি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে বিএনপি নেতাকর্মীদের মারধরে আহত দুই শিক্ষক।

রাজশাহীর দুর্গাপুরে একটি সরকারি কলেজে তুলকালাম কাণ্ড ঘটেছে। স্থানীয় বিএনপি নেতার সঙ্গে শিক্ষিকার হাতাহাতি এবং পরবর্তীতে দলীয় নেতাকর্মীদের হামলায় অধ্যক্ষসহ পাঁচজন আহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) উপজেলার দাওকান্দি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ঘটনাটি ঘটে। ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নিন্দার ঝড় ওঠে।  

আরো পড়ুন:

কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানান, দুপুরের দিকে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাকের কক্ষে গিয়ে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাকবিতণ্ডায় জড়ান। বিশেষ করে আগের অধ্যক্ষের সময়ে কলেজের আয়-ব্যয়ের হিসাব চান তারা। এ নিয়ে তাদের মধ্য কথা কাটাকাটি হয়।

ভিডিওতে দেখা যায়, বিএনপি নেতারা কলেজের অধ্যক্ষের কক্ষে রয়েছেন। প্রভাষক আলেয়া খাতুন সেখানে ভিডিও করছিলেন। এসময় উপজেলার জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আকবর আলী কলেজের প্রভাষক আলেয়া খাতুনকে নিয়ে ‘কটূক্তি’ করেন। এরপর তিনি নিজের পা থেকে স্যান্ডেল খুলে তাকে মারতে শুরু করেন।

ভাইরাল হওয়া আরেক ভিডিওতে দেখা যায়, কলেজের মাঠের মধ্যে আলেয়া খাতুনের সঙ্গে আরেকজনের হাতাহাতি হচ্ছে। যিনি ভিডিও করছিলেন তাকে বলতে শোনা যায়, “এই দেখেন- এটা কলেজ না পতিতালয়। এটা পতিতালয়ের মহিলা। দাওকান্দি কলেজের ম্যাডাম পতিতা, নষ্ট পল্লীর মহিলা।” এই ভিডিও কে করেছেন তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এই ভিডিওটি কলেজের অধ্যক্ষের রুমে হামলা চালানোর আগের।

শিক্ষককে জুতা দিয়ে মারার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা আকবর আলীর বিরুদ্ধে


ঘটনার পর বিএনপির নেতাকর্মীরা গিয়ে অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাকসহ কয়েকজন শিক্ষকের ওপর হামলা চালান। এসময় অফিস কক্ষে ভাঙচুরও করা হয়। হামলায় আহতদের মধ্যে রয়েছেন অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক, প্রভাষক আলেয়া খাতুন, অধ্যাপক রেজাউল করিম আলমসহ আরো দুই কর্মচারী। তাদের কয়েকজনকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রভাষক আলেয়া খাতুন বলেন, “বিভিন্ন সময় কলেজে এসে তারা আমাদের বিরক্ত করতেন। কারণে-অকারণে তারা হিসাব চাইতেন। তারা ইসলামী জলসা করবেন বলে কলেজ থেকে টাকা চাইতে এসেছিলেন। একই সঙ্গে তারা কলেজের মাঠ ব্যবহার করতে চান। কলেজের সব শিক্ষককে টাকা দিতে হবে বলে জানান। আমাদের পক্ষে টাকা দেওয়া সম্ভব না বলে তাদের জানানো হয়।”

তিনি বলেন, “তারা চাঁদা চাইতে এসেছিল সেই ভিডিও আমি করছিলাম। আকবর আলী আমার চরিত্র নিয়ে কথা বলেন, তাই ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে থাপ্পড় মেরেছিলাম। এরপর তিনি তার পায়ের স্যান্ডেল খুলে আমাকে পেটাতে থাকেন। আমাকে বিবস্ত্রও করতে চেয়েছিলেন। আমি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছি। এদের বিরুদ্ধে মামলা করব।”  

অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাকের অভিযোগ, চার মাস আগে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দেওয়ার পর থেকেই বিএনপির বিভিন্ন গ্রুপ তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। কোনো সময় একুশে ফেব্রুয়ারি, ২৬ মার্চের দিবসের জন্য টাকা চাইতে আসতো। পহেলা বৈশাখ পালন করার জন্যও তারা টাকা চেয়েছিল। টাকা দিতে রাজি হয়নি। সবশেষ তারা জলসার নামে টাকা দাবি করে।

তিনি বলেন, “টাকা চাওয়া ভিডিও করায় তারা ক্ষিপ্ত হয়ে নারী শিক্ষকের ওপরে হামলা করে। এরপর আমার রুমও ভাঙচুর ও আমাকে মারধর করা হয়। এতে বেশ ক্ষতি হয়েছে। ঘটনার পর থেকে তারা আমাকে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। কলেজে গেলে প্রাণে মেরে ফেলারও হুমকি দিচ্ছে।”  

অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আকবর আলী দাবি করেন, “কলেজের আগের বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির হিসাব চাইতে গেলে উল্টো আমাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। শিক্ষিকা আলেয়া খাতুন প্রথমে আমাদের ওপর হামলা করেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।”

দুর্গাপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামরুজ্জামান আয়নাল বলেন, “বৃহস্পতিবারের বিষয়টি নিয়ে অবগত আছি। দুপুরে সংসদ সদস্য সাহেবের সাথে আমরা বসব। এরপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আকবর আলীকে বহিষ্কারের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কিছু জানানো হয়নি। কেন্দ্র থেকে বহিষ্কার করলে আমাদের করার কিছু নেই।”

দুর্গাপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম বলেন, “অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কায় পুলিশ আগে থেকেই সেখানে উপস্থিত ছিল। উভয়পক্ষকে নিবৃত করার চেষ্টা করা হয়। তবে কিছু লোক জোরপূর্বক প্রবেশ করে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করছি।”

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, “কলেজে পুলিশ পাঠানো হয়েছে তদন্ত করার জন্য। ফোর্সসহ তারা গেছে। কি পরিমাণে ক্ষতি হয়েছে তা বোঝা যাবে। অভিযুক্তদের আটকের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অধ্যক্ষ ও শিক্ষকরা এখন পর্যন্ত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ দিলে মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হবে।”

ঢাকা/মাহী/মাসুদ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়