ঢাকা     রোববার   ১০ মে ২০২৬ ||  বৈশাখ ২৭ ১৪৩৩ || ২৩ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

আদালতে বিচারপ্রার্থীর বিষপান, হাসপাতালে ভর্তি

ফেনী প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:২৫, ১০ মে ২০২৬   আপডেট: ১৯:৩৬, ১০ মে ২০২৬
আদালতে বিচারপ্রার্থীর বিষপান, হাসপাতালে ভর্তি

ফেনীতে আদালতের এজলাসে বিচারকের সামনেই বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন তাহমিনা আক্তার মোহনা নামের এক নারী। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রবিবার (১০ মে) দুপুরে ফেনী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অধীন ফুলগাজী আমলি আদালতে এ ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনাটি ঘিরে আদালতপাড়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, প্রেমের সম্পর্কের জের ধরে ফুলগাজী উপজেলার চার সন্তানের জনক আকবর হোসেনকে ২০২৫ সালে বিয়ে করেন মোহনা। তবে, বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলছিল। 

মোহনার অভিযোগ, তিনি জানতেন না যে, আকবরের স্ত্রী ও সন্তান আছে। বিয়ের পর স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যদের হাতে একাধিকবার নির্যাতন ও হামলার শিকার হয়েছেন তিনি।

এ ঘটনায় চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি স্বামীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন মোহনা। রবিবার ছিল মামলার শুনানির তারিখ। শুনানির সময় বাদী মোহনা ও বিবাদী আকবর হোসেন উভয়ই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুনানি শেষে আদালত আকবর হোসেনকে জামিন দিলে মোহনা হঠাৎ আদালত কক্ষে বিষপান করেন। পরে তিনি ছটফট করতে শুরু করলে উপস্থিত আইনজীবী, পুলিশ ও আদালতের কর্মকর্তারা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে পাঠান। 

বাদীপক্ষের আইনজীবী জহির উদ্দিন মামুন বলেছেন, “দীর্ঘদিনের পারিবারিক অশান্তি, স্বামীর নির্যাতন ও বিচার না পাওয়ার হতাশা থেকেই মোহনা এমন চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমন সিদ্ধান্ত মানুষ একদিনে নেয় না।”

আদালতের পেশকার জসিম উদ্দিন জানান, দাম্পত্য কলহের জের ধরে মোহনা তার স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। রবিবার ছিল মামলার শুনানির দিন।

আদালতের পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিচার কার্যক্রম চলাকালে ক্ষোভ ও হতাশা থেকে হঠাৎ বিষপান করেন তাহমিনা আক্তার মোহনা। পরে আদালতে থাকা লোকজন তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মোহনা সাংবাদিকদের বলেছেন, “দুই বছর প্রেমের সম্পর্কের পর আকবর আমাকে বিয়ে করেছে। বিয়ের আগে আমি জানতাম না যে, তার স্ত্রী-সন্তান আছে। বিয়ের পর থেকে আমি মারধর ও নির্যাতনের শিকার হয়েছি। আদালতের শরণাপন্ন হয়েও বিচার পাইনি। আদালতে ওঠার আগে আমি তাকে বলেছিলাম আজ বিষ খাব, দেখিয়েছিও। পরে আদালতে ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে কথা বলার পর বিষ খেয়ে ফেলেছি।”

ফেনী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. রোকন উদ্দৌলা জানিয়েছেন, বিষক্রিয়ার লক্ষণ নিয়ে মোহনাকে হাসপাতালে আনা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার অংশ হিসেবে তার পাকস্থলি ওয়াশ করা হয়েছে। বর্তমানে তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।

ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) মু. সাইফুল ইসলাম বলেছেন, “বিষয়টি জেনেছি। সম্ভবত ওই নারী তার স্বামীর বিরুদ্ধে যৌতুক আইনে মামলা করেছেন। আদালত তার স্বামীকে জামিন দিলে সে এজলাসে বিষ পান করে। বিষয়টি আমরা তদন্ত করছি। তদন্ত সাপেক্ষ পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” 

ঢাকা/সাহাব উদ্দিন/রফিক

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়