কিশোরগঞ্জে কোরবানির জন্য ২ লাখ পশু প্রস্তুত
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
কিশোরগঞ্জে চাহিদার তুলনায় ৪০ হাজার পশু বেশি রয়েছে।
কিশোরগঞ্জে এবার খামার ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে কোরবানির হাটে নেওয়ার জন্য প্রায় ২ লাখ গবাদি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। যা জেলার চাহিদার তুলনায় প্রায় ৪০ হাজার বেশি। এবারও পশুর ভালো দাম পাওয়ার আশা করছেন খামারিরা।
জেলার ১৩টি উপজেলায় ছোট-বড় পশুর খামার রয়েছে ৫৪২টি। এর মধ্যে নিবন্ধিত খামার ৩০টি। এছাড়া ব্যাক্তিগত পর্যায়ে নানা শ্রেণিপেশার মানুষ পশু লালন-পালন করে থাকেন। তবে খামারিদের চেয়ে ব্যক্তিগত পর্যায়ে বেশি পশু লালন-পালন হয়। এবার খামারিরা লালন-পালন করেছেন ৩০ হাজার গবাদি পশু। বাকিটা ব্যক্তিগত পর্যায়ে লালনপালন করা।
চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে কোরবানির ঈদ। তাই ঈদের হাট সামনে রেখে চলছে পশু বেচাকেনার প্রস্তুতি। কিশোরগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্যমতে, জেলায় এবার কোরবানির পশুর চাহিদা ১ লাখ ৫২ হাজার ১৮৫টি। বিভিন্ন বাড়ি ও খামারে কোরবানির জন্য প্রস্তুত আছে ১ লাখ ৯১ হাজার ৪০৬টি গবাদি পশু। এর মধ্যে রয়েছে, ষাঁড় ৭৫ হাজার ২৬৭টি, বলদ ৪ হাজার ১৩৪টি, গাভী ১৭ হাজার ৮৮৬টি, মহিষ ৩ হাজার ৮৩৬টি, ছাগল ৮৪ হাজার ৯৪৩টি এবং ভেড়া ৫ হাজার ২৯৮টি। ফলে পশু বাড়তি রয়েছে প্রায় ৪০ হাজার। শেষ মুহূর্তে খামারে চলছে পশুর বাড়তি পরিচর্যার কাজ।
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার খামারি আবদুল বাতেন বলেন, ‘‘গরু পালতাছি লাভের আশায়। গেল বছর গরু পালন করে লোকসান হয়েছে। এবার বাজার শুরু হলে আশা করছি, ভালো দাম পাবো। এবার হয়ত লাভ হবে। তবে সবটাই নির্ভর করছে সার্বিক অবস্থার উপর।’’
কটিয়াদী উপজেলার খামারি জলিল মিয়া বলেন, ‘‘গরু পালন করতে অনেক খরচ হয়। ভুষির খরচ, এছাড়া অনেক ধরনের খরচ। বেশ কয়েকদিন ধরে ভুট্টা খাইয়ে পালতেছি বাজারে নেওয়ার আশায়। দাম বেশি পাওয়ার আশা করছি। যদি দাম কম পাই তাহলে লোকসান হবে। কষ্ট বিফলে যাবে। যাই হোক আল্লাহ ভরসা।’’
নিকলী উপজেলার খামারি খালেক মিয়া বলেন, ‘‘আমরা গরু-মহিষ একসঙ্গে দেশি খাবার খাইয়ে পালতেছি। সামনে কোরবানি। পাইকারেরা খামারে আসতেছে। দাম বেশি পাওয়ার আশা করছি। খামারে বিক্রি না হলে বাজারে নিয়ে যাব।’’
খামারিদের সকল ধরনের সহযোগিতা দেওয়ায় দিন দিন প্রাকৃতিক খাবারে রোগমুক্ত পশুর উৎপাদন বাড়ছে। এতে করে লাভবান হওয়ার পাশাপাশি দেশের চাহিদা পূরণে অবদান রাখছেন খামারিরা। এ সব কথা জানিয়ে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল মান্নান বলেন, ‘‘আমরা খামারিদের শুরু থেকে প্রশিক্ষণ দিয়েছি, তারা যেন গ্রোথ হরমোন, স্টেরয়েড বা আনইজুয়েল কোনো ড্রাগ, যেটা জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত, সেগুলো যেন তারা ব্যবহার না করে। সেজন্য আমরা উঠান বৈঠক করেছি। তাদের লিফলেট বিতরণ করেছি। আমরা তাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছি।’’
ঢাকা/রুমন/বকুল
হামে আরো ৮ শিশুর মৃত্যু