ঢাকা     বুধবার   ১৩ মে ২০২৬ ||  বৈশাখ ৩০ ১৪৩৩ || ২৬ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে জমি অধিগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে শুভেন্দুকে চিঠি

কলকাতা ব্যুরো || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:৪৮, ১৩ মে ২০২৬   আপডেট: ১৭:৪৯, ১৩ মে ২০২৬
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে জমি অধিগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে শুভেন্দুকে চিঠি

বাংলাদেশের কিশোরী ফেলানি খাতুন হত্যা মামলা নিয়ে ভারতে মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ (মাসুম) নামের যে সংগঠনটি লড়াই করেছে সেই সংগঠনটি বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে আইন অনুযায়ী জমি অধিগ্রহণ করতে চিঠি দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে। মঙ্গলবার চিঠিটি দেওয়া হলেও বুধবার (১৩ মে) এটি ফেসবুকে পোস্ট করা হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, “পশ্চিমবঙ্গের  নতুন মন্ত্রিসভা দায়িত্ব নিয়েই প্রথম যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা হোলো, বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতার বসানোর জন্য বিএসএফকে জমি দেওয়ার কাজ ত্বরান্বিত করা। এই বিষয়েই আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই।   ভারত বাংলাদেশ সীমান্ত ৪০০০ কিলোমিটারেরও বেশি লম্বা, যার মধ্যে ২০০০ কিলোমিটারের থেকে কিছু বেশি এই রাজ্যের মধ্যে পড়েছে। কলকাতাবাসীর মতোই সীমান্তবাসী মানুষও এই রাজ্যের বাসিন্দা। হিসেব করলে দেখা যাবে, সেখানকার মানুষও দলে দলে বিজেপিকে ভোট দিয়েছে। এই আশায় তারা ভোট দিয়েছে, বামফ্রন্ট ৩৫ বছরে বা তৃণমূল ১৫ বছরে যা কর্ণপাত করেনি, এবার যদি বিজেপি তাদের দুঃখ বোঝে।” 

চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, “আজকের আলোচনায় সীমান্ত মানে দুই রাষ্ট্রের মধ্যে সীমান্ত। ভারত-পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্মের পর ১৯৭১-এ বাংলাদেশের জন্ম। ভারত-বাংলাদেশের সীমান্ত মানচিত্র খুঁটিয়ে দেখলে বোঝা যায় র‍্যাডক্লিফ সাহেবের এক ছুরির টানে এই সীমান্ত তৈরি হয়নি; অজস্র আঁকিবুকি আছে এই সীমান্তে, সেটা কেবল দ্বিজাতিতত্ত্বের তুলির টান নয়। দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত রেখা বরাবর সীমান্ত খুঁটি প্রোথিত আছে যাকে বলে আইবিপি। ভারত বাংলাদেশের সীমান্তে কোনো স্থায়ী নির্মাণ গাঁথা সম্ভব নয়। তাই ভারত-বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশ ও চোরাকারবার রোধে কাঁটাতার তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেয়; স্বাভাবিকভাবেই এই কাঁটাতার বসেছে সীমান্ত থেকে ভারতের অভ্যন্তরে। বিএসএফের সীমান্ত চৌকি আছে, কোথাও তা ১৫০ গজ, কোথাও বা ৬/৭ কিমি অভ্যন্তরে। ভারত বাংলাদেশ সীমান্তের কোথাও সরকারের জমি নেই, সেখানে সকল জমির মালিকই হচ্ছে চাষীরা; রামা কৈবর্ত বা রহিম সেখ-এর জমি। দেশের সুরক্ষার প্রয়োজনে চাষীরা তাদের জমি দিতে চায়। কাঁটাতার যেখানে বসেছে, সেখানেই কাঁটাতারের ওপাশে সীমান্ত পর্যন্ত তাদের জমিতে তারা চাষ করতে যেতে পারে না। উর্বর জমি থেকেও জমির মালিক ভিনদেশে পরিযায়ী শ্রমিক হচ্ছে। সীমান্তে সুরক্ষার জন্য কাঁটাতার লাগানো হোক, সরকারের কাছে, শুধু একটাই বিনতি, কাঁটাতার থেকে সীমান্ত পর্যন্ত সকল জমি আইনমাফিক অধিগ্রহণ হোক।”

সংগঠনটির সম্পাদক সম্পাদক কিরীটি রায় স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, “ভারত বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফের চৌকি বা কাঁটাতারের মধ্যে কত মানুষ বসবাস করে, জানা আছে! একশ’ দুশো নয়, হাজার হাজার পরিবার শুধু মুর্শিদাদের পদ্মার চরে বসবাস করে, কুচবিহারের তুফানগঞ্জের বালাভুতে নদীর চরে শত শত পরিবার, উত্তর ২৪ পরগণার স্বরূপনগরে,গাইঘাটা, বনগাঁয়; মালদার কালিয়াচকে, দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটে কুশমন্ডিতে কাঁটাতারের ওপাশে বাস করা লাখ লাখ মানুষ, যারা পূর্বতন সরকারের ওপর বীতশ্রদ্ধ হয়ে পরিবর্তন চেয়ে বিজেপি সরকারকে ক্ষমতায় এনেছে, তাদের জন্য ভাবার সময় এসেছে। পূর্বতন সরকারের আমলে ওদের লোকেরা সীমান্ত পারাপারের বখরা ভাগাভাগিতে ব্যস্ত থাকত; আশা করব, এই সরকার ওই দোষে দুষ্ট হবে না।”

কিরীটি রায় লিখেছেন, “পূর্বে রাজ্য সরকারের প্রশাসন সীমান্তবাসীদের অভিযোগ নিয়ে নিষ্ক্রিয় থাকত। বিএসএফ কাঁটাতারের এপাশে পিচ রাস্তায় তাদের কর্তব্য পালন করে। ফলে সীমান্তে যারা বাস করে, তাদের ফসল লুট, গবাদি পশু ডাকাতি, চুরি, এমনকি মানুষ অপহরণ, প্রভৃতি ঘটনায় নীরব থাকা ছাড়া উপায় ছিল না।  আপনি ইচ্ছা করলে পূর্বের মুখ্যমন্ত্রীর, মুখ্য সচিবের, স্বরাষ্ট্র সচিবের, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ফাইলগুলি দেখতে পারেন।”

চিঠিতে সীমান্তবাসীদের জীবন-জীবিকার সুরক্ষার আবেদন জানিয়ে বলা হয়েছে, “ভারত সরকারের একটি সীমান্ত এলাকা উন্নয়ন প্রকল্প আছে, সেই প্রকল্পে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা আসে এবং যথারীতি নয়ছয় হয়। এই সরকারের হাতে সম্ভবত এখন পর্যাপ্ত অর্থ নেই। ওই বিএডিপি-এর অর্থ দিয়ে কৃষকের কাছ থেকে জমি আইনানুসারে অধিগ্রহণ করা হোক। দেশের সুরক্ষার সাথে সাথে সীমান্তবাসীদেরও জীবন, জীবিকার সুরক্ষা করা হোক।” 
 

ঢাকা/সুচরিতা/শাহেদ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়