১৫ মণের ‘রাজা বাহাদুরের’ দাম হাঁকা হচ্ছে ৫ লাখ টাকা
পটুয়াখালী (উপকূল) প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
খামার মালিক কামাল গাজী ৫ লাখ টাকায় বিক্রি করতে চান রাজা বাহাদুরকে। ছবি: রাইজিংবিডি
পটুয়াখালীর উপকূলে কোরবানির হাটকে ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে বিশালাকৃতির শাহীওয়াল জাতের ষাঁড় ‘রাজা বাহাদুর’। প্রায় ১৫ মণ ওজনের এ ষাঁড়টির দাম হাঁকা হচ্ছে ৫ লাখ টাকা। রাজকীয় চলাফেরা, দাপুটে স্বভাব ও আকর্ষণীয় গঠনের কারণে স্থানীয়দের কাছে বেশ পরিচিতি পেয়েছে ‘রাজা বাহাদুর’। তাকে এক নজর দেখতে প্রতিদিনই খামার মালিক কামাল গাজীর বাড়িতে ভিড় করছেন বিভিন্ন এলাকার মানুষ।
প্রায় ৩ বছর আগে পটুয়াখালীর নীলগঞ্জ ইউনিয়নের কুমিরমারা গ্রামের কৃষক কামাল গাজীর খামারের শাহীওয়াল জাতের একটি বাছুরের জন্ম দেয়। বয়স এক বছর পার হওয়ার পর বাছুরটিকে মাঠে নামানো হলে তার দাপট ও আচরণে অন্য সব গরু আতঙ্কিত হয়ে মাঠ ছাড়ে। এছাড়া, ষাঁড়টির শরীরের গঠন, শক্তি ও রাজকীয় চলাফেরার কারণে নাম দেয়া হয় ‘রাজা বাহাদুর’। প্রতিদিন ষাঁড়টিকে গম, ভুট্টা, ভূষি ও সবুজ ঘাসসহ প্রায় ৩ মণ খাবার দেওয়া হয়। নিজের সন্তানের মতো লালন পালন করায় প্রায় ৭ ফুট দৈর্ঘ্য ও সাড়ে ৪ ফুট উচ্চতার লাল বর্ণের এ ষাঁড়টির ওজন হয়েছে প্রায় ৬০০ কেজি। এবার ষাঁড়টিকে কোরবানির হাটে তুলতে চান মালিক কামাল গাজী। রাজা বাহাদুরের দাম হাঁকছেন ৫ লাখ টাকা। এদিকে, ষাঁড়টিকে দেখতে কামালের বাড়িতে প্রতিনিয়ত ভিড় করছেন আশাপাশের মানুষ। তার দেখাদেখি অনেকে আগ্রহী হচ্ছেন ষাঁড় পালনে।
কুমিরমারা গ্রামের কৃষক শাহআলম বলেন, “এ ষাঁড়টির ভাবসাব ও চাল-চলন সবই রাজকীয় স্টাইলের। ষাঁড়টি মাঠে ছেড়ে দিলে সে অন্যান্য গরু দৌড়ানি দিয়ে মাঠ দখলে নেয়। এজন্য আমরা সবাই মিলে ষাঁড়টির নাম দিয়েছি রাজা বাহাদুর। ভবিষ্যতে আমাদেরও ইচ্ছা রয়েছে কামাল গাজীর মতো গরুর খামার গড়ে তোলার।”
অপর কৃষক সোহেল বলেন, “কামাল গাজী ষাঁড়টি ভালো দামে বিক্রি করতে পারলে লাভবান হবেন। আমরা আশা করছি, প্রতিবেশী রাষ্ট্র থেকে অবৈধভাবে গরু প্রবেশ না করলে সে ভালো দাম পাবে। আমারও শাহীওয়াল জাতের ষাঁড় পালনের ইচ্ছা রয়েছে।”
কৃষক কামাল গাজী বলেন, “আমরা ষাঁড়টি পাখিমারা, মহিপুর ও কলাপাড়া বাজারে উঠাতে চাই। তবে তার আগে ষাঁড়টি কেউ ক্রয় করতে চাইলে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে এবং আমার খামার ভিজিট করতে পারে। ষাঁড়টির ওজন প্রায় ১৫ মণ। দাম চাচ্ছি ৫ লাখ টাকা।”
পটুয়াখালী জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, “কামাল গাজীর একটি গরুর খামার রয়েছে। মাঠ কর্মীরা তাকে পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করে যাচ্ছে। ওই খামারের একটি বড় ষাঁড় রয়েছে। আশা করছি, সে ভালো দামে বিক্রি করতে পারবে। আমরা ষাঁড়টি বিক্রির জন্য তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।”
ঢাকা/ইমরান/ইভা