ঢাকা     মঙ্গলবার   ১২ মে ২০২৬ ||  বৈশাখ ২৯ ১৪৩৩ || ২৪ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

ড্রাগন চাষে সৌরভের বছরে আয় ২০ লাখ টাকা

পটুয়াখালী (উপকূল) প্রতিনিধি  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:০৪, ১২ মে ২০২৬   আপডেট: ১১:০৫, ১২ মে ২০২৬
ড্রাগন চাষে সৌরভের বছরে আয় ২০ লাখ টাকা

কৃত্রিম আলো ব্যবহার করে আধুনিক পদ্ধতিতে ড্রাগন চাষ করে সফল সৌরভ।

রাতভর বাগানজুড়ে আলোর ঝলকানি। দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন এক আলোর স্বপ্নরাজ্য। এমন কৃত্রিম আলো ব্যবহার করে আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ করা হচ্ছে ড্রাগন। ব্যতিক্রমী এ পদ্ধতিতে ড্রাগন চাষ করে সফল হয়েছেন এক যুবক। বছরে তিনি আয় করছেন প্রায় ২০ লাখ টাকা।

পটুয়াখালীর লতাচাপলী ইউনিয়নের তুলাতলী গ্রামের শিক্ষিত যুবক সৌরভ কুমার বিশ্বাস (৩০)। ২০১৮ সালে সখের বসে তার এক শিক্ষকের কাছ থেকে ১২টি কাটিং সংগ্রহ করে শুরু করেন ড্রাগন চাষ। পড়ালেখার পাশাপাশি স্বল্প পরিসরে চলছিল তার ফল চাষ। ২০২২ সালে উচ্চ মাধ্যমিক শেষে শৈশবের স্বপ্ন পূরণে পুলিশ বাহিনীতে যোগদানের চেষ্টা করেন। নানা কারণে পূরণ হয়নি তার সেই স্বপ্ন। 

আরো পড়ুন:

বাগানে ফল পরিচর্যায় ব্যাস্ত সৌরভ


২০২৩ সালে বাবা স্বপন কুমার বিশ্বাসের পরামর্শে বড় পরিসরে ২ বিঘা জমিতে সৌরভ শুরু করেন ড্রাগন চাষ। বর্তমানে তার বাগানে রয়েছে ইলোরা, পালোরা, রেড বেলভেট, বোল্ডার ও থাইরেড প্রজাতির অন্তত দুই হাজার গাছ। রাতভর মনোরম লাইটিং পদ্ধতি ব্যবহার করায় বছরের ১২ মাসই তার বাগানে উৎপাদন হচ্ছে ফল। 

বর্তমানে ড্রাগন বিক্রি থেকে সৌরভের বছরে আয় হচ্ছে ২০ লাখ টাকা। এতে অনেকটা উচ্ছ্বসিত সৌরভ। পাশাপাশি প্রতিদিন তার বাগান দেখতে ভিড় করছেন দূর-দূরান্তের মানুষ। অনেকেই তার বাগান দেখে ড্রাগন চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

কুয়াকাটা থেকে সৌরভের ড্রাগন বাগান দেখতে আসা আলমগীর হোসেন বলেন, “আমি আগে কখনো সুশৃঙ্খল এবং এতো বড় ড্রাগন বাগান কোথাও দেখিনি। আজ এই বাগানে এসে ড্রাগন গাছের ফল দেখেছি। রাতে এখানে এসে আমার মনে হয়েছে, এটি একটি স্বপ্নরাজ্য। সৌরভের বাগান দেখে আমি অনুপ্রাণিত হয়েছি। এ ধরনের বাগান করতে পারলে অনেক লাভবান হওয়া যাবে।” 

নেট দিয়ে ঢেকে রাখা ড্রাগনের গাছ


বালিয়াতলী ইউনিয়নের সোহেল সিকদার বলেন, “আমাদের এলাকার সবচেয়ে বড় ড্রাগন বাগান এটি। এখানে এসে জানতে পারলাম, সৌরভ বছরের ১২ মাস গাছ থেকে ফল পান। আমার ছোট পরিসরে হলেও এ ধরনের বাগান করার ইচ্ছা রয়েছে।”

ড্রাগন চাষি সৌরভ কুমার বিশ্বাস বলেন, “ছোট থেকেই আমার স্বপ্ন ছিল পুলিশ চাকরি করব। নানা সংকটের কারণে সেই স্বপ্ন আর পূরণ হয়নি। পরে বাবার পরামর্শে আমি ড্রাগন বাগান গড়ে তুলেছি। আমার বাগানে এখন দুই হাজার গাছ রয়েছে। ড্রাগন বিক্রি করে বছরে আমার প্রায় ২০ লাখ টাকা ইনকাম হচ্ছে। এখন আর সরকারি চাকরি করার ইচ্ছে নেই।” 

আলো ঝলমলে ড্রাগন বাগান


পটুয়াখালী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কষিবিদ ড. মো. আসানুল ইসলাম বলেন, “সৌরভকে শুরু থেকেই কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে সব ধরনের  পরামর্শ ও সহযোগিতা করা হচ্ছে। তার বাগানটি একটি আধুনিক বাগান। জেলায় সৌরভের বাগানসহ মোট ২৩ হেক্টর জমিতে ড্রাগন চাষ হচ্ছে। ড্রাগন চাষর সম্প্রসারণ  বাড়াতে কৃষকদের প্রশিক্ষণসহ নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।”

ঢাকা/ইমরান/মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়