কোরবানির হাটে উঠবে পদ্মা-যমুনার চরের হাজারো গরু
জাহিদুল হক চন্দন || রাইজিংবিডি.কম
চরে গরু লালন-পালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন নারীরা। ছবি: রাইজিংবিডি
কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে মানিকগঞ্জের পদ্মা ও যমুনা নদীর বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে প্রস্তুত করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক কোরবানির গরু। সারা বছরের যত্ন আর শ্রমে লালন-পালন করা এসব পশু এখন হাটে তোলার অপেক্ষায়। ভালো দামের আশায় দিন গুণছেন প্রান্তিক খামারিরা।
জেলার শিবালয়, দৌলতপুর ও হরিরামপুর উপজেলার পদ্মা যমুনার নদীর চরগুলোতে ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই এক বা একাধিক গরু পালন করা হয়েছে। প্রাকৃতিক ঘাসে ভরা বিস্তীর্ণ মাঠ, সঙ্গে ভুট্টা, খড় ও খৈল খাইয়ে মোটাতাজা করা হয়েছে পশুগুলো। এতে তুলনামূলক কম খরচে গরু পালন সম্ভব হওয়ায় চরের গরুর চাহিদাও বেশি থাকে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় জানায়, এ বছর মানিকগঞ্জে লক্ষাধিক কোরবানির পশু প্রস্তুত হয়েছে, যার বড় একটি অংশই চরাঞ্চলে লালন-পালন করা হয়েছে। জেলার চাহিদা পূরণ করে অতিরিক্ত প্রায় ৩৩ হাজার ৮৪১টি পশু দেশের অন্যান্য জেলায়, বিশেষ করে ঢাকায় সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
শিবালয় উপজেলার আলোকদিয়াচরের প্রান্তিক খামারি আছিয়া বেগম জানান, তার খামারে এবার চারটি গরু রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সন্তানের মতো যত্ন নিয়ে বড় করেছেন এগুলো।
তিনি বলেন, “সন্তানের মতো গরু পালি। একটা বিক্রি করে সংসার চালাই, আবার কিছু টাকা জমিয়ে নতুন গরু কিনি।”
চরাঞ্চলে পশুপালনে নারীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য। পুরুষরা কৃষিকাজ ও মাছ ধরায় ব্যস্ত থাকলেও নারীরাই সংসারের কাজের পাশাপাশি গরু লালন-পালনের দায়িত্ব পালন করেন। এতে পরিবারে বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হয়।
আরেক খামারি শেফালি আক্তার বলেন, “সারা বছর কষ্ট করে গরু বড় করতে হয়। ঘাস, ভুসি, খৈল খাওয়াইয়া গরু বড় করি। ঈদের সময় বিক্রি করেই কিছু টাকা হাতে পাই।”
স্থানীয়রা জানান, প্রাকৃতিক ঘাস সহজলভ্য হওয়ায় চরাঞ্চলে গরু পালনে বাড়তি সুবিধা পাওয়া যায়। কৃষিকাজের পাশাপাশি অনেক পরিবারই বাড়িতে এক বা দুটি গরু পালন করে, যা তাদের অর্থনৈতিক সহায়তা হিসেবে কাজ করে।
মানিকগঞ্জ ডেইরি অ্যাসোসিয়েশন ফার্মের সভাপতি মাহিনুর রহমান বলেন, “চরাঞ্চলের গরু দেশের অন্যান্য এলাকার তুলনায় বেশি স্বাস্থ্যসম্মত ও প্রাকৃতিকভাবে লালন-পালন করা হয়। এখানকার খামারিরা সারা বছর কঠোর পরিশ্রম করে গরু প্রস্তুত করেন। তবে তারা যাতে ন্যায্য দাম পান, সে জন্য বাজার ব্যবস্থাপনা আরো শক্তিশালী করা প্রয়োজন। এবারের কোরবানির ঈদে চরের গরুর চাহিদা ভালো থাকবে এবং খামারিরা লাভবান হবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।”
মানিকগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ মজিবুর রহমান বলেন, “চরাঞ্চলের খামারিদের সারা বছর গরু পালনে পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়ে থাকে। এ বছর জেলার চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত পশু ঢাকাসহ অন্যান্য এলাকায় পাঠানো যাবে। আশা করছি, খামারিরা ন্যায্য মূল্য পাবেন।”
ঢাকা/চন্দন/ইভা