তালাবদ্ধ এআই কেন্দ্র, বিপাকে কাপাসিয়ার খামারিরা
গাজীপুর (পূর্ব) প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র।
গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার আমরাইদ এলাকায় একসময় গবাদিপশুর প্রজনন সেবার গুরুত্বপূর্ণ ভরসা ছিল প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কৃত্রিম প্রজনন (এআই) কেন্দ্র। গ্রামের খামারিরা স্বল্প খরচে এখান থেকেই পেতেন গরুর প্রজনন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সেবা। তবে, সেই কেন্দ্রের দরজায় এখন ঝুলছে তালা। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা কেন্দ্রটি বর্তমানে এক পরিত্যক্ত স্থাপনায় পরিণত হয়েছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে তদারকি ও সংস্কারের অভাবেই কেন্দ্রটির এই করুণ অবস্থা। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভবন ও অবকাঠামো পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যেতে পারে এমন আশঙ্কা তাদের।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভবনের দেয়ালে বড় বড় ফাটল, সিলিং থেকে খসে পড়ছে প্লাস্টার। ল্যাবরেটরির কক্ষগুলো অযত্নে পড়ে আছে। যেসব সরঞ্জাম একসময় গরুর প্রজনন কার্যক্রমে ব্যবহৃত হতো, সেগুলো এখন মরিচা পড়ে নষ্ট হওয়ার পথে। কেন্দ্রের চারপাশে জন্মেছে ঝোপঝাড়, যা জায়গাটিকে আরো ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।
স্থানীয় খামারিদের অভিযোগ, সরকারি এই সেবা কেন্দ্র বন্ধ থাকায় তারা এখন বাধ্য হয়ে বেসরকারি পশু চিকিৎসকদের দ্বারস্থ হচ্ছেন। ফলে খরচ যেমন বাড়ছে, তেমনি অনেক সময় মানসম্মত সেবাও মিলছে না।
আমরাইদ এলাকার খামারি জাকির হোসেন বলেন, “সরকারি কেন্দ্র থাকলেও আমরা কোনো সুবিধা পাচ্ছি না। গরুর প্রজননের জন্য বাইরে যেতে হচ্ছে। খরচ আগের চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে।”
হতাশা প্রকাশ করে আরেক খামারি আবুল কালাম বলেন, “আগে কম টাকায় এই কেন্দ্রে ভালো সেবা পাওয়া যেত। এখন কেন্দ্র বন্ধ থাকায় ছোট খামারিরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন।”
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. একেএম আতিকুর রহমান জানান, কেন্দ্রটির বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। সংস্কার ও প্রয়োজনীয় জনবল সংকট সমাধান হলে পুনরায় কার্যক্রম চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ঢাকা/রফিক/মাসুদ
হাম ও উপসর্গে মৃত্যু ১৭, মোট মৃত্যু সাড়ে ৫০০ ছুঁইছুঁই