ঢাকা     সোমবার   ২৫ মে ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ১১ ১৪৩৩ || ৯ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান

যোগাযোগ ব্যবস্থায় সমস্যার সুযোগে পালিয়েছে সন্ত্রাসীরা: র‍্যাব

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:১৭, ২৫ মে ২০২৬   আপডেট: ১৯:২৫, ২৫ মে ২০২৬
যোগাযোগ ব্যবস্থায় সমস্যার সুযোগে পালিয়েছে সন্ত্রাসীরা: র‍্যাব

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে হামলার পর সেখানে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চালানো হয়েছে। তবে, অভিযানে দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। 

র‍্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান বলেছেন, “যোগাযোগ ব্যবস্থায় দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।”

আরো পড়ুন:

সোমবার (২৫ মে) সকালে জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান-পরবর্তী প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

র‍্যাব-৭ এর অধিনায়ক বলেন, “আমরা যখন রবিবার গভীর রাতে ঘটনাস্থলে প্রবেশ করি, তখন দেখি বিভিন্ন স্থানে রাস্তা কেটে রাখা হয়েছে। ফলে, যানবাহন নিয়ে এগোনো সম্ভব হয়নি। সদস্যদের হেঁটে যেতে হয়েছে। এতে সময় নষ্ট হয়েছে এবং সেই সুযোগে সন্ত্রাসীরা পাহাড়ি এলাকায় সরে যায়।”

তিনি জানান, হামলার ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ২০ থেকে ২৫ জন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে যারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিরীহ ব্যক্তিদের মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হবে।

বর্তমানে এলাকায় যৌথ বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছেন বলে জানান তিনি। র‍্যাব, জেলা পুলিশ, এপিবিএন ও রেঞ্জ রিজার্ভ পুলিশের সদস্যরা পুরো এলাকায় মোতায়েন রয়েছেন।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান জানান, হামলায় ২০০ থেকে ৩০০ সশস্ত্র সন্ত্রাসী অংশ নেয়। তারা এলএমজি সদৃশ অস্ত্র, রাইফেল, দেশীয় অস্ত্র ও ককটেল ব্যবহার করে হামলা চালায়। তবে, যৌথ বাহিনীর সদস্যরা সাহসিকতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছেন।

তিনি বলেন, “আমাদের সদস্যরা পাল্টা গুলি চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। কোনো সদস্য নিহত হয়নি। তবে, ইট-পাটকেল ও ককটেল বিস্ফোরণে কয়েকজন সদস্য সামান্য আহত হয়েছেন।” র‍্যাব সদস্য নিখোঁজ হওয়ার গুঞ্জন নাকচ করে দেন তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান বলেন, “ইয়াসিন ও তার সহযোগীরা আলীনগর-সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় অবস্থান পরিবর্তন করে লুকিয়ে থাকে। মূল সড়ক থেকে আলীনগর পর্যন্ত যেতে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট সময় লাগে। ভাঙা রাস্তার কারণে দ্রুত অভিযান পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ে।”

তিনি বলেন, “যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হলে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করা অনেক সহজ হবে।”

সন্ত্রাসীদের কাছে আগে থেকেই অভিযানের তথ্য পৌঁছে যায় কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে র‍্যাব-৭ অধিনায়ক বলেন, “প্রশাসনের ভেতর থেকে তথ্য ফাঁসের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে, মূল সড়কের প্রবেশমুখে অবস্থান নেওয়া লোকজন মোবাইল ফোনে তথ্য সরবরাহ করে থাকতে পারে।”

তিনি বলেন, “র‍্যাব শতভাগ দায়িত্ব পালন করছে। হত্যা, ধর্ষণসহ বিভিন্ন মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। কিন্তু, অনেকেই জামিনে বের হয়ে আবার অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা গেলে পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে।”

রবিবার (২৪ মে) দিবাগত রাত ২টার দিকে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে গুলি ছোড়ে ইয়াসিন বাহিনীর সদস্যরা। ওই রাতে অভিযান শুরু করে যৌথ বাহিনী।

ঢাকা/রেজাউল/রফিক

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়