৩০ ঘণ্টা শূন্যরেখায়, রোদ-বৃষ্টিতে মানবেতর জীবন
পঞ্চগড় প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
বিএসএফ-এর পুশইনের চেষ্টার পর দলের সদস্যরা ভারতীয় অংশে শূন্যরেখার কাছাকাছি অবস্থান করছেন
পঞ্চগড়ের বড়বাড়ি সীমান্তে পুশইনের চেষ্টার পর তিন শিশু, দুই নারী ও পাঁচ পুরুষের দশ জনের একটি দল প্রায় ৩০ ঘণ্টা ভারতীয় সীমান্তের শূন্যরেখার কাছে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সারাদিন প্রখর রোদে পুড়েছেন, রাতভর বৃষ্টিতে ভিজেছেন, এখন তারা জলাবদ্ধ একটি ফাঁকা মাঠে অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগের মধ্যে সময় পার করছেন ।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার (৫ জুন) ভোরে পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ি সীমান্ত দিয়ে এই দলটিকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। বিজিবির বাধার মুখে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেননি। এরপর থেকে তারা সীমান্তের ভারতীয় অংশে শূন্যরেখার কাছাকাছি অবস্থান করছেন।
শনিবার (৬ জুন) সীমান্ত এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে দলটির নারী-পুরুষ ও শিশুরা। শুক্রবার দিনের তীব্র রোদে দীর্ঘ সময় কাটানোর পর রাতে বৃষ্টিতে ভিজতে বাধ্য হয়েছেন তারা। বৃষ্টির পানিতে মাঠের বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় দুর্ভোগ আরো বেড়েছে। বিশেষ করে শিশুদের নিয়ে চরম কষ্টে রয়েছেন তারা। দলটিকে কেন্দ্র করে বিজিবি-বিএসএফের তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে শূন্যরেখা এলাকায়। সকাল থেকে সেখানে স্থানীয়দের ভিড় করতে দেখা গেছে।
ঘটনার পর শুক্রবার বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমাধান হয়নি। শনিবার আবারো দুই বাহিনীর মধ্যে পতাকা বৈঠক শুরু হয়েছে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বৈঠক চলছিল।
এদিকে, টানা ৩০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে নারী, পুরুষ ও শিশুদের সীমান্তে আটকে থাকার ঘটনায় মানবিক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দ্রুত সমাধান না হলে তাদের দুর্ভোগ আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। হাড়িভাসা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সাইয়েদ নুর-ই-আলম বলেন, “নারী ও শিশুসহ ১০ জন মানুষ খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর। আমরা চাই তাদের বিষয়টি দ্রুত সমাধান হোক।”
ঢাকা/নাঈম/মাসুদ
সীমান্তে ৮ পুশইন চেষ্টা প্রতিহত করেছে বিজিবি