ঢাকা     সোমবার   ১৫ জুন ২০২৬ ||  আষাঢ় ১ ১৪৩৩ || ২৯ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ, মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:১৩, ১৫ জুন ২০২৬  
৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ, মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর নিশামনি (৫) নামে এক শিশুর মরদেহ কংস নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। শিশুটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন ও বিশেষ স্থানে রক্তক্ষরণের আলামত দেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ তুলেছেন স্বজনরা। 

আরো পড়ুন:

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

রবিবার (১৪ জুন) বিকেলে ধোবাউড়া উপজেলার গোয়াতলা ইউনিয়নের টাঙ্গাহাটি গ্রামের তাজু মিয়ার মেয়ে নিশামনি বাড়ির পাশ থেকে নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। 

পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে স্থানীয়রা কংস নদীতে একটি শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখতে পান। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি নিশামনির বলে শনাক্ত করেন।

স্বজনদের ভাষ্য, মরদেহ উদ্ধারের পর রাতেই গোসল করানোর সময় তারা শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। বিশেষ করে গলা ও বুকে কামড়ের মতো দাগ এবং শরীর বিশেষ স্থান থেকে রক্তক্ষরণের আলামত লক্ষ্য করা যায়। এতে তাদের সন্দেহ হয় যে, শিশুটিকে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।

খবর পেয়ে ধোবাউড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। পরবর্তীতে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

নিহত শিশুটির স্বজন ফারহানা ইসলাম ঈষিতা বলেন, “মাত্র পাঁচ বছরের একটি নিষ্পাপ শিশুকে ধর্ষণ করে কংস নদীতে ভাসিয়ে এভাবে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”

ধোবাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, “খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে যাই। শিশুটির শরীরে কিছু আলামত পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে দেখে ধর্ষণের ঘটনা ঘটতে পারে বলে সন্দেহ হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। “

তিনি আরো বলেন, “ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এদিকে শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় পুরো টাঙ্গাহাটি গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় শোক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। 

স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন, প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার এবং তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

ঢাকা/মিলন/ফিরোজ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়