ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ১৮ জুন ২০২৬ ||  আষাঢ় ৪ ১৪৩৩ || ২ মহররম ১৪৪৮ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

খুলনায় গৃহকর্মী নির্যাত‌নকারী নারী পুলিশ কর্মকর্তা প্রিজন সেলে, স্বামী কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:৩৯, ১৮ জুন ২০২৬   আপডেট: ১৬:৪৭, ১৮ জুন ২০২৬
খুলনায় গৃহকর্মী নির্যাত‌নকারী নারী পুলিশ কর্মকর্তা প্রিজন সেলে, স্বামী কারাগারে

অভিযুক্ত পুলিশ দম্পতি

খুলনায় গৃহপরিচারিকার ওপর শারীরিক নির্যাতনকারী নারী পুলিশ কর্মকর্তা এএসআই পপি মিত্র গ্রেপ্তার হওয়ার পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। ফলে আদালতের অনুমতি নিয়ে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে ভর্তি করা হয়েছে। তবে, অপর অভিযুক্ত তার স্বামী এএসআই সঞ্জয় মিত্রকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। 

এর আগে গৃহপরিচারিকা মিলন চন্দ্র দাশের ওপর শারীরিক নির্যাতনের ঘটনায় তার মা মিনতি রানী দাশ বাদি হয়ে বৃহস্পতিবার সকালে সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপরই আগে থেকে হেফাজতে থাকা একই থানায় কর্মরত পুলিশ দম্পতি সঞ্জয় মিত্র ও পপি মিত্রকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সোনাডাঙ্গা থানার এসআই সাইফুর রহমান এ প্রতিবেদককে বলেন, আসামিদের আদালতের অনুমতিক্রমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। তবে, পপি মিত্র অসুস্থ বোধ করায় তাকে প্রিজন সেলে রাখা হয়েছে। অসুস্থতার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার ডান হাতে সমস্যা হয়েছে, যা ডাক্তার ভালো বলতে পারবে। 

এর আগে বুধবার দুপুুরে তরকারি পুড়ে যাওয়ার কারণে গৃহকর্মী মিলনকে মারধর করে পপি মিত্র। অভিযোগ রয়েছে মিলনের শরীরে গরম কড়াইয়ের ছ্যাকা দেন তিনি।

সোনাডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মো: রফিকুল ইসলাম জানান, নরসিংদী জেলার মনোহরদী উপজেলার নিশ্চিন্তপুর এলাকার বাসিন্দা উকিল চন্দ্রের মেয়ে মিলন। গত ৫ বছর তিনি সঞ্জয় মিত্রের বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করছেন। গত বুধবার বিষয়টি জানাজানি হলে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে গৃহকর্মী মিলনকে উদ্ধার করে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার আনা হয়। এবং বিকালে অভিযুক্তদের থানা হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে ভুক্তভোগীর মা মিনতি রানী বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিক রবিউল গাজী উজ্জ্বল জানান, বুধবার বিকালে খুলনার সোনাডাঙ্গা আবাসিকের সোলার পার্কে একটি সেমিনারে অংশ নেওয়ার সময় তিনি পাশের একটি ভবনের ভেতরে এক ব্যক্তিকে নির্যাতিত হতে দেখে দূর থেকে ঘটনার ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। পরে তিনি জানতে পারেন, নির্যাতিতার নাম মিলন। রান্না করার সময় সবজি পুড়ে যাওয়ায় পপি মিত্র গরম কড়াই দিয়ে মিলনের শরীরে ছ্যাঁকা দেন। এতে ভুক্তভোগী দগ্ধ হন। এ সময় প্রত্যক্ষদর্শীরা ট্রিপল নাইনে ফোন করে পুলিশকে খবর দিলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ মিলনকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করেন। তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন। 

মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা খুলনার সমন্বয়কারী আইনজীবী মোমিনুল ইসলাম বলেন, গৃহকর্মী নির্যাতনকারী দু’জনই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। তারা যে এ ধরণের অপরাধ করবে তা কোনোভাবে মেনে নেওয়া যায় না।  

খুলনা মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অজন্তা দাস এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, আসামি দুজনই আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য। কোনো অবস্থাতেই তাদের দ্বারা এমন অগ্রহণযোগ্য অপরাধ মেনে নেওয়া যায় না। এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি। 

ঢাকা/নূরুজ্জামান//

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়