ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ১৮ জুন ২০২৬ ||  আষাঢ় ৪ ১৪৩৩ || ২ মহররম ১৪৪৮ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

‘ওরা ঈর্ষান্বিত বা নির্বোধ’, ইরান চুক্তির সমালোচকদের ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:২২, ১৮ জুন ২০২৬   আপডেট: ১৬:২৯, ১৮ জুন ২০২৬
‘ওরা ঈর্ষান্বিত বা নির্বোধ’, ইরান চুক্তির সমালোচকদের ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে তার সদ্য স্বাক্ষরিত দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারকের সমালোচকদের কড়া ভাষায় জবাব দিয়েছেন। তেহরানের প্রতি তার প্রশাসন নরম মনোভাব দেখাচ্ছে- এমন অভিযোগও তিনি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। 

আরো পড়ুন:

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ইরানের সংবাদমাধ্যম ওয়ানা নিউজ। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্প তার চুক্তির সমালোচনাকারীদের বিরুদ্ধে তোপ দাগান। 

বিবৃতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার বৈদেশিক নীতি কৌশলের পাশাপাশি নিজের অর্থনৈতিক সাফল্যের রেকর্ডও তুলে ধরেন। তিনি ইঙ্গিত দেন, পুঁজিবাজারের ইতিবাচক সূচকগুলোই তার এই সিদ্ধান্তের যথার্থতা প্রমাণ করে। 

ট্রাম্প লিখেন, “এই বোকারা ভাবছে আমি ইরানের প্রতি যথেষ্ট কঠোর হতে পারিনি। অথচ এখন শেয়ার বাজার একটি নতুন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং তেলের দাম ‘হুুড়মুড়’ করে নিচের দিকে নামছে। এরা আসলে হয় ঈর্ষান্বিত, নয়তো খারাপ মানুষ, অথবা নির্বোধ।” তিনি তার বার্তাটি শেষ করেন নিজের চেনা স্লোগান দিয়ে, “মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন! প্রেসিডেন্ট ডিজেটি।”

মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই চুক্তিকে কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দাবি করলেও, তার নিজের দল রিপাবলিকান পার্টির ভেতর থেকেই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি। সিনিয়র রিপাবলিকান সিনেটর বিল কাসিডি এই চুক্তির কঠোর সমালোচনা করে একে মার্কিন বৈদেশিক নীতির ইতিহাসে একটি ‘বিপর্যয়কর ব্যর্থতা’ বলে অভিহিত করেছেন। 

জনপ্রিয় সাবেক রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগানকে স্মরণ করে সিনেটর কাসিডি এক পোস্টে লিখেন, “রিগান আজ কবরে শুয়ে ছটফট করছেন। ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা দমন করা যায়নি, বরং তারা এখন বুঝতে পেরেছে যে হরমুজ প্রণালিতে হুমকি দিলে কাজ হয় এবং ভবিষ্যতে তারা নিশ্চিতভাবেই এর সুবিধা নেবে।” তিনি সতর্ক করে আরো বলেন, “এই নতুন চুক্তির ফলে ইরান একদম নতুন অবকাঠামো গড়ে তোলার সুযোগ পাচ্ছে।”

যুদ্ধপূর্ব পরিস্থিতির সঙ্গে বর্তমানের তুলনা টেনে সিনেটর কাসিডি সরাসরি এর মানবিক ও অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতির দিকে আঙুল তোলেন।

কাসিডি বলেন, “যুদ্ধের আগে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত ছিল, ইরান নিষেধাজ্ঞার চাপে পিষ্ট হচ্ছিল এবং আমাদের ১৩ জন সেনাসদস্য জীবিত ছিলেন। আর এখন ১৩ জন আমেরিকান নিহত হয়েছেন, জনগণকে জ্বালানির পেছনে শত কোটি ডলার গুনতে হয়েছে, অথচ ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হচ্ছে।”

রিপাবলিকান এই সিনেটর আরো বলেন, “এই চুক্তিটি হলো গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় বৈদেশিক নীতিগত ভুল।” 

চুক্তির বিরোধিতা কেবল রিপাবলিকানদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। প্রতিনিধি পরিষদের সাবেক স্পিকার ও প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাট নেতা ন্যান্সি পেলোসিও এই চুক্তির তীব্র সমালোচনা করেছেন। 

পেলোসি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে পূর্বের একটি ভালো চুক্তি বাতিল করে অনর্থক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিল, যার চরম মূল্য দিতে হয়েছে মার্কিন সেনাদের জীবন দিয়ে।” এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে মার্কিন কূটনীতির একটি চূড়ান্ত ও স্পষ্ট ব্যর্থতা বলে তিনি মন্তব্য করেন। 

ওয়ানা নিউজের প্রতিবেদনের তথ্যমতে, এই তীব্র মতভেদ ওয়াশিংটনে মার্কিন-ইরান সমঝোতা স্মারকের ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে একটি ক্রমবর্ধমান লড়াইকে স্পষ্ট করে তুলেছে, যেখানে কংগ্রেসের কট্টরপন্থি নেতারা প্রশাসনের এই কূটনৈতিক কৌশলকে চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

ঢাকা/ফিরোজ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়