ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ১৮ জুন ২০২৬ ||  আষাঢ় ৪ ১৪৩৩ || ২ মহররম ১৪৪৮ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার: অর্থ উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:২৮, ১৮ জুন ২০২৬  
উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার: অর্থ উপদেষ্টা

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। ছবি: সংগৃহীত

করের হার বৃদ্ধি না করে অর্থনীতির উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

আরো পড়ুন:

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) গবেষণা প্রতিষ্ঠান র‍্যাপিড আয়োজিত বাজেট-পরবর্তী এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ড. তিতুমীর বলেন, “অর্থনীতিকে আরো শক্তিশালী করতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং উৎপাদনমুখী শিল্পায়নের প্রসারে জোর দেওয়া প্রয়োজন।” তার মতে, শিল্পায়নের সম্প্রসারণ হলে বিনিয়োগ বাড়বে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল হবে।

উপদেষ্টা বলেন, “করের হার বাড়িয়ে নয়, বরং উৎপাদন ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমের পরিধি সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি করা উচিত। সরকার সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই নীতি ও কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।”

তিনি বলেন, “ভবিষ্যতের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ঝুঁকি ও সংকট মোকাবিলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সরকার ধীরে ধীরে উৎপাদনভিত্তিক অর্থনৈতিক কাঠামোর দিকে এগোচ্ছে।”

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন- র‍্যাপিডের চেয়ারম্যান ড. এম এ রাজ্জাক। তিনি বলেন, “সরকারের ‘থ্রি আর’- পুনরুদ্ধার (রিকভারি), সংস্কার (রিফর্ম) ও পুনর্গঠন (রিকনস্ট্রাকশন) কেন্দ্রিক উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও এর বাস্তবায়ন নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

তিনি বলেন, “অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা না গেলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের আগে প্রবৃদ্ধির ওপর অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হলে মূল্যস্ফীতির চাপ আরো বাড়তে পারে।”

ড. রাজ্জাকের মতে, বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করতে হলে দীর্ঘমেয়াদে নামমাত্র জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রায় ৮ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। তবে, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা গেলে ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধিও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি মুদ্রার অতিরিক্ত অবমূল্যায়ন ঠেকানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

জাতীয় রাজস্ব আহরণ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ড. রাজ্জাক। তিনি বলেন, “জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সর্বোচ্চ সক্ষমতা প্রয়োগ করলেও আগামী অর্থবছরে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার ঘাটতি থেকে যেতে পারে। একই সঙ্গে বিদেশি ঋণ সংগ্রহের ক্ষেত্রেও সরকারকে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হতে পারে।”

সরকারি ঋণের বাড়তি চাপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সরকারের ঋণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা অর্থনীতির জন্য ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠছে।” 

২০২৫ সালে সরকারের সুদ পরিশোধে যে অর্থ ব্যয় হয়েছে, তা এনবিআরের মোট রাজস্ব আদায়ের প্রায় ৩৬ শতাংশের সমান। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আর্থিক ব্যবস্থাপনায় চাপ আরও বাড়তে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ঢাকা/তুহিন/মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়