ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ১৮ জুন ২০২৬ ||  আষাঢ় ৪ ১৪৩৩ || ২ মহররম ১৪৪৮ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

বিএসআরএফ সংলাপ

কোথায় যাচ্ছে রাজধানীর চার বাস টার্মিনাল জানালেন মন্ত্রী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:৩১, ১৮ জুন ২০২৬   আপডেট: ১৬:৪১, ১৮ জুন ২০২৬
কোথায় যাচ্ছে রাজধানীর চার বাস টার্মিনাল জানালেন মন্ত্রী

সড়ক পরিবহন, সেতু, নৌপরিবহন ও রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, রাজধানী ঢাকার যানজট কমানো, বাস ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনা এবং টার্মিনালকেন্দ্রিক বিশৃঙ্খলা দূর করতে বড় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। আগামী দুই থেকে আড়াই বছরের মধ্যে গাবতলী, মহাখালী, সায়েদাবাদ ও ফুলবাড়িয়া এই চার আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল রাজধানীর বাইরে স্থানান্তর করা হবে। একইসঙ্গে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা অস্থায়ী বাস কাউন্টার ও অনিয়ন্ত্রিত যাত্রী ওঠানামার সংস্কৃতিতেও লাগাম টানার ঘোষণা দেন তিনি।

আরো পড়ুন:

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সচিবালয়ে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপ’-এ তিনি একথা বলেন।

বিএসআরএফ-এর সভাপতি মাসউদুল হকের সভাপতিত্বে সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল। 

মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে গাবতলী, মহাখালী, সায়েদাবাদ ও ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনালগুলো কার্যত বাস ডিপো ও ওয়ার্কশপে পরিণত হয়েছে। দিনের পর দিন বাস সেখানে দাঁড়িয়ে থেকে মেরামত ও রং করার কাজ চলে, যা টার্মিনালের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

মন্ত্রী জানান, নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী সায়েদাবাদ টার্মিনাল স্থানান্তর করা হবে কাঁচপুরে, ফুলবাড়িয়া টার্মিনাল যাবে কেরানীগঞ্জে, গাবতলী টার্মিনাল সরানো হবে হেমায়েতপুরে এবং মহাখালী টার্মিনালের জন্য আব্দুল্লাহপুরের কাছাকাছি নতুন জায়গা অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। এর আগে অন্তর্বর্তী সময়ের জন্য কিছু স্থান ডিপো হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

তিনি আরো বলেন, বাসগুলো আর দিনের পর দিন টার্মিনালে অবস্থান করবে না। নির্ধারিত যাত্রার সময়ের আগে এসে যাত্রী নিয়ে আবার গন্তব্যে চলে যাবে। ফলে টার্মিনালগুলো শুধু যাত্রী ওঠানামার স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

শেখ রবিউল আলম আরও বলেন, রাজধানীর কলাবাগান, কল্যাণপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বেসরকারি পরিবহন কোম্পানির কাউন্টার ঘিরে যে অস্থায়ী টার্মিনাল সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, তা ধীরে ধীরে বন্ধ করা হবে। কাউন্টারের সামনে বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানোর সুযোগও সীমিত করা হবে।

পরিবহন খাতে কাঠামোগত সংস্কারের অংশ হিসেবে প্রতিটি রুটে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বাস মালিকদের নিয়ে কোম্পানি গঠনের পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, একই রুটে বিভিন্ন মালিকের বাসের অনিয়ন্ত্রিত প্রতিযোগিতার কারণে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট মান, রঙ, ফিটনেস ও সেবার মান বজায় রেখে কোম্পানিভিত্তিক বাস পরিচালনার ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। এ ক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক যানবাহনকে বিশেষভাবে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।

বাস টার্মিনালগুলোকে যাত্রীবান্ধব করার উদ্যোগের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে গাবতলী, মহাখালী কিংবা সায়েদাবাদ টার্মিনালে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না থাকায় যাত্রীরা সেখানে যেতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে সিটি করপোরেশনগুলোকে আধুনিক টয়লেট, অপেক্ষাকক্ষ, ফ্যান, আলোকসজ্জা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, মেট্রোপলিটন পুলিশও টার্মিনাল এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং পর্যাপ্ত স্ট্রিট লাইট নিশ্চিত করার দায়িত্ব নিয়েছে। বাস মালিকরাও উন্নত পরিবেশ পেলে নিজেদের উদ্যোগে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণে আগ্রহ দেখিয়েছেন।

মন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, আগামী চার থেকে ছয় মাসের মধ্যে পুরোপুরি না হলেও রাজধানীর বাস টার্মিনাল ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখতে পাবেন নগরবাসী।
 

ঢাকা/এএএম//

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়