RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     মঙ্গলবার   ২০ অক্টোবর ২০২০ ||  কার্তিক ৫ ১৪২৭ ||  ০৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

আইনজীবী পাচ্ছে না ইসি বিজ্ঞপ্তি দিয়েও

সেন্ট্রাল ডেস্ক : || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৪:৩২, ১৪ জানুয়ারি ২০১৩   আপডেট: ০৫:২২, ৩১ আগস্ট ২০২০
আইনজীবী পাচ্ছে না ইসি বিজ্ঞপ্তি দিয়েও

ঢাকা, ১৪ জানুয়ারি (রাইজিংবিডি টোয়েন্টিফোর ডটকম) : নির্বাচন কমিশন ট্রাইব্যুনালের বিভিন্ন মামলা ও কমিশনের আইন সংশোধনীর জন্য দৈনিক কাগজে একাধিক বিজ্ঞপ্তি দিয়েও আইনজীবী প্যানেল গঠনে যোগ্য ব্যক্তি পাচ্ছে না নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

এ কারণে এখনো গঠিত হয়নি ইসির আইনজীবী প্যানেল।

ইসি সূত্র জানায়, গত বছরের ২৮ জুন ইসি এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ইসির আইনজীবী প্যানেলের জন্য হাইকোর্ট বিভাগে রিট মামলা পরিচালনায় কমপক্ষে ১০ বছরের অভিজ্ঞতা এবং আপিল বিভাগে মামলা পরিচালনায় কমপক্ষে ৫ বছরের পেশাগত অভিজ্ঞতা সম্পন্নদের কাছ থেকে আবেদন চায়। কিন্তু এতে আইনজীবীদের সাড়া না পেয়ে গত ৩০ ডিসেম্বর নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ইসি। এতে হাইকোর্ট বিভাগে এবং আপিল বিভাগে শুধু মামলা পরিচালনার অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়।

কিন্তু শর্ত শিথিল করেও আইনজীবীদের টানা যায়নি নির্বাচন কমিশনে।

এ বিষয়ে একজন নির্বাচন কমিশনার বাংলানিউজকে জানান, আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক ইসির মামলা নিয়ে নিয়মিত কাজ করছেন। কিন্তু নির্বাচন নিয়ে অনেক মামলা হয়। এজন্য প্যানেল আইনজীবী দরকার।

তবে প্যানেল আইনজীবীর বিজ্ঞপ্তি সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না বলে মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশনের আইন বিভাগের উপ-সচিব পদ বেশ কিছুদিন ধরে খালি। আইন বিভাগের উপ-সচিব মূলত আইন বিভাগ ও আইনজীবীর বিষয়ে কাজ করেন। তবে গত সপ্তাহে আইন বিভাগে একজন উপ-সচিব যোগদান করেছেন।”

ইসির এক সিনিয়র সহকারী সচিব এ বিষয়ে বাংলানিউজকে জানান, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের বিধিমালা, গণ-প্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন ও নির্বাচন কমিশন ট্রাইব্যুনালের মামলা শেষ করার জন্য কিছু আইনজীবী প্রয়োজন। কিন্তু নির্বাচন কমিশন যোগ্য ও নিরপেক্ষ আইনজীবী খুঁজে পাচ্ছে না।

তিনি বলেন, “আইনজীবীর অভাবে উপজেলা পরিষদের বিধিমালা চূড়ান্ত করতে পারছে না ইসি।”

এ বিষয়ে সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “বর্তমান সময়ে যোগ্য ও নিরপেক্ষ আইনজীবী পাওয়া খুবই কঠিন। বেশির ভাগ আইনজীবীই দলীয় রাজনীতিতে জড়িত। তাই যোগ্য আইনজীবী পাওয়া গেলেও নিরপেক্ষ আইনজীবী পাওয়া যায় না। আমরাও যোগ্য আইনজীবী প্যানেল গঠনের জন্য কাজ করেছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যোগ্য ও নিরপেক্ষ লোক খুঁজে পাইনি।”

নির্বাচন কমিশন সচিবালয় সূত্রে জানা যায়, আইনজীবী প্যানেলে যোগ দিতে অসংখ্য আবেদন এলেও অধিকাংশতেই যোগ্যতার ব্যাপক ঘাটতি দেখা গেছে।

নির্বাচনী মামলা পরিচালনায় ইসির অবস্থান শক্তিশালী করতে আইনজীবী প্যানেল গঠনের সিদ্ধান্ত নেয় বিগত ইসি। এ প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়।

কিন্তু ইসির বর্তমান আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক ছাড়া তেমন কোনো যোগ্য ব্যক্তির আবেদন পায়নি কমিশন। তাই ভালো আইনজীবীদের ইসির প্যানেলে অন্তর্ভুক্ত হতে অনীহার কারণে কিছুটা হতাশ ইসি।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, সামনে ৭ সিটি করপোরেশন, উপজেলা, শতাধিক ইউনিয়ন পরিষদ ও জাতীয় নির্বাচন রয়েছে। যা নিয়ে ইসিকে অনেক আইনি জটিলতার মুখোমুখি হতে হবে।

এদিকে আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক ২০০৭ সাল থেকে ইসিকে আইনি সহায়তা দিয়ে আসছেন এবং তা অব্যাহত রাখার আশা প্রকাশ করছেন। শুধু হাইকোর্ট বিভাগে ২০০০ সাল থেকে মামলা পরিচালনা করে আসছেন তিনি।

ইসির চাহিদা অনুযায়ী, কাগজপত্র না দিলেও প্রস্তাবিত ফি উল্লেখ করেছেন এই আইনজীবী। গত ৫ বছরে ইসির অন্তত ২০০টি মামলা পরিচালনা করেছেন তিনি। এগুলোর কয়েকটি ছাড়া সব ক্ষেত্রেই ইসির পক্ষে আদালতের রায় আসে।

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়