ঢাকা     বুধবার   ২০ মে ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ৬ ১৪৩৩ || ৩ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

আমার ক্যাম্পাস, আমার স্মৃতি

মোবারক হোসেন মোহন || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৫:৫৬, ২২ জুলাই ২০২০   আপডেট: ১০:৩৯, ২৫ আগস্ট ২০২০
আমার ক্যাম্পাস, আমার স্মৃতি

ক্যাম্পাস এক ভালোবাসার নাম। প্রথম যেদিন ক্যাম্পাসে পা রেখেছিলাম, সেদিন এক অদৃশ্য ভয় কাজ করেছিলো ভেতরে। সময়ের ব্যবধানে ক্যাম্পাসকে প্রচণ্ড ভালোবেসে ফেলেছি।

খুব মনে পড়ে সব কিছু। সিনিয়রদের সঙ্গে গল্প করা। বন্ধুরা মিলে ক্লাস করা। এক সুরে সন্ধ্যার পর ‘অদম্যে’ বসে গাওয়া গান। বেলতলার ভর্তা। ক্যাফেটেরিয়ার পরোটা। আম-বটতলার মালাই চা। লেবু মামা। এক সঙ্গে যাওয়া মার্কেট ট্রিপ। কাছের বন্ধু মন খারাপ করে বসে থাকলে তাকে হাসি মুখে ফিরিয়ে নিয়ে আসারে চেষ্টা। সবাই যেন এক ভালোবাসায় আবদ্ধ। মনে পড়ে ক্যাম্পাসে ফেলে আসা দিনগুলোকে। সুস্থ এক পরিবেশে স্বপ্নের ক্যাম্পাসে আবার প্রাণ ফিরে আসুক এটাই প্রত্যাশা। প্রিয় ক্যাম্পাস নিয়ে এমন কিছু গল্প বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে পাঠিয়েছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদালয়ের শিক্ষার্থী মোবারক হোসেন মোহন।

সৃষ্টি পাল, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

ক্যাম্পাস শব্দটা প্রথমে জেনেছি বই বা পত্রিকার মাধ্যমে। বাস্তবে এর স্বাদ নেওয়াটা যে কতো আনন্দের তা ঐ বই বা পত্রিকার "C"A" "M" "P" "U" "S" ওয়ার্ডে কখনোই পাওয়া যায় না। আবার যারা দূর থেকে ক্যাম্পাসটা দেখেন তারাও মনে হয় বুঝবেন না ক্যাম্পাসের বিল্ডিং, তার মাঠ, তার বারান্দা, এমনকি সিড়িতে পর্যন্ত কতো খুনশুটি লুকিয়ে থাকে।

নব্য শিক্ষার্থী হওয়ার কারণে প্রথম দিনেই পেয়েছিলাম বাংলাদেশের একেক কোণা থেকে উঠে আসা প্রচুর বন্ধু। শুরু হয় তাদের সঙ্গে আড্ডা। ক্যাম্পাসের মাঠে এবং পুরো ক্যাম্পাসে দল বেধে ঘোরাঘুরি। ঘুরতে ঘুরতে লিচু গাছ, আম গাছ, ডাব গাছ থেকে ফল চুরির প্ল্যান। বন্ধুদের বার্থডে পালন করা হয় লিচুগাছের নিচে। আর সবাই মিলে সন্ধ্যায় মামার দোকানের চা, দিনের সমাপ্তিটা অসাধারণ হয়ে থাকে। মেসে যাওয়ার পথে ভিতুদের জন্য সুন্দর ভুতের গল্প। সব মিলে আনন্দের সময়। শহরের সুস্থতা কামনা করি। যেন আনন্দগুলো মরিচা না ধরে যায়।

সাদিকা সুলতানা, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

সৌন্দর্যের রানী, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি, স্বর্গ-নগর রয়েছে আরও কত উপমা! নান্দনিক সৌন্দর্যমণ্ডিত আমার ক্যাম্পাস। যেদিকে চোখ যায় মন ভরে যায়। ভোরবেলায় মৃদুমধুর শন শন বাতাস! সূর্যিমামার উঁকিতে কোকিলের কুহুকুহু ডাক! পাখির কিচিরমিচির শব্দ! দরজা খুলে বারান্দায় পা বাড়াতেই চোখে পড়ে বাহারি রঙের ফুলের হাতছানি।

বলছি ‘দ্বিতীয় আতুঁড়ঘর’। ৭০০ একরের নান্দনিক সৌন্দর্যমণ্ডিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা। কোভিড-১৯ এর জন্য প্রায় চার মাস যে ক্যাম্পাস থেকে অনেক দূরে। ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে ওয়াশরুমের জন্য সিরিয়াল দেওয়া, বন্ধুদের সঙ্গে তাড়াহুড়া করে নাস্তা করে ক্লাসে যাওয়া! পড়াশোনা, শহীদ মিনারে আড্ডা, দুপুরে সবাই মিলে বটতলায় খাওয়া, ঘোরাঘুরি, এসবের কিছুই আর হয় না এখন।

কামিনির গন্ধে অলস দুপুরের আড্ডা, পড়ন্ত বিকেলে লেকের জলে নৌকোয় বসে আকাশের অরুণিমা দেখা, সুপারিতলায় বিকেলের বাসে করে ক্যাম্পাস যাওয়া, রাতে ডাইনিংয়ে খাবার শেষ হয়ে যাবে এ জন্য তাড়াতাড়ি খেতে যাওয়া এসব নিত্যদিনের অভ্যাসগুলো এখন শুধুই স্মৃতি। বটতলা, ডেইরি, প্রান্তিক, চৌরঙ্গী, মুক্তমঞ্চ, ক্যাফেটেরিয়া কোথায় ছিল না আমাদের পদচারণা! পৃথিবী! খুব তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠো তুমি! আমরা আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে চাই। শিক্ষা গুরুদের সান্নিধ্যে অন্তরচক্ষুর উন্মেষ ঘটাতে চাই।

জনি হাসান, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়

জীবনের দ্বিতীয় ঠিকানা। আমার ক্যাম্পাস। কেমন আছো তুমি? অনেক দিন হলো ওই জয় বাংলা ভাস্কর্যে গানের আড্ডা হয় না। হয় না কবির স্মৃতি বিজড়িত সেই বটতলার নিচে চায়ের আড্ডাটাও। সকালে ক্লাসের জন্য তাড়াহুড়ো করে ঘুম থেকে ওঠা, ফ্রেশ হয়ে সময় সল্পতায় ক্লাসের জন্য না খেয়ে ক্লাসে উপস্থিত হওয়া, টানা দুই ক্লাস পর সকাল-দুপুরের নাস্তা এক সঙ্গে করা। এসবই যেন এখন শুধুই স্মৃতি। ক্যাম্পাসের দিনগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সময় ছিল প্রশাসনিক ভবনের সামনের পুকুরের সিন্দ শ্বারদে কাপলদের গল্প করা। সময়গুলো সত্যিই এক আবেগে রূপ নিয়েছে। কবে ফিরবো আমার ওই ক্যাম্পাসে? যদি অসুস্থ পৃথিবী আবার সুস্থ হয়, প্রাণ ফিরে পায়। স্বাভাবিক নিয়মে আবার দেখা হবে সবার সঙ্গে।

অনিন্দ্র দাস, ঢাকা কলেজ

প্রিয় ক্যাম্পাস,

আঁখিপল্লবে একটু দিও ঠাঁই

হৃদয়ের গভীরতায় আজও তোমায় দেখতে পাই!

কেমন আছো তুমি? প্রায় শতদিন হয়ে গেলো তোমায় দেখি না। জানি প্রকৃতির সবটুকু সৌন্দর্য নিজের মধ্য গুছিয়ে রেখেছো আমাদের জন্য! আমরা ফিরবো, এইতো আর কয়েকটা দিন! ক্যাম্পাসের প্রথম দিনের মুগ্ধতা এবং ছোট ছোট ভালোলাগা সময়ের বিবর্তনে পরিণত হয়েছে বিশাল এক ভালোবাসার বন্ধনে! আবারও দেখা হবে সেই পরিচিতদের সঙ্গে। আড্ডা জমবে ভীষণ সেই শহীদ মিনার চত্বরে। সিনিয়র জুনিয়রদের হাসির শব্দ ভেসে উঠবে সেই বিজয় চত্বরে। বৃষ্টিস্নাত বিকেল ক্যান্টিনের গরম সিঙ্গারা, পুকুরপাড়ে গানের আসর, মধ্যরাতে হলের প্রাঙ্গন সবই জেগে উঠবে নতুন করে! অন্যায়ের প্রতিবাদে রাজপথের সংগ্রামে আবারো আবিষ্কার করব আমরা নিজেকে! দেখা হবে বিজয়ে, এক সুস্থ শহরে!

সোয়েব সাকলায়েন, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

দিনটা ছিল ৫ই ফেব্রুয়ারী। নবীন বরণ অনুষ্ঠান। মেইন গেট দিয়ে প্রবেশ করে প্রত্যয় ৭১'- এর পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলাম। পুরো বিজনেস ফ্যাকাল্টি সেদিন সিনিয়ররা সুন্দর করে সাজিয়ে রেখেছিলেন। আমাদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানান তারা। শুরু হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবন। ক্লাস শেষে বন্ধুদের সঙ্গে বিজয় অঙ্গনে আড্ডা দেওয়া, বিকেলে সিনিয়রদের সঙ্গে গল্প করা, ক্যাফেটেরিয়ার চা-সিঙ্গারা, মুক্তমঞ্চে ধ্রুবতারার অনুষ্ঠান সহ মনে পড়ে ক্যাম্পাসের মাঠে বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপ ক্রিকেটের সেই দিনগুলো। আবার মনে পড়ে শাহজামান দিঘীর সামনে গাছের ছায়ায় বসে বন্ধুর সেই জন্মদিন পালন করা। খুব দ্রুতই যেন সকলে একটা পরিবারে পরিণত হয়েছিলাম। প্রায় চার মাস ক্যাম্পাস বন্ধ। ফোনে ক্যাম্পাসের ছবিগুলো দেখে মনের ভেতর সেইদিন গুলোর অনুভূতি কাজ করে। দ্রুত পৃথিবী সুস্থ হোক। ফিরে পাই ক্যাম্পাসের সেই দিনগুলো।

 

যবিপ্রবি/মাহফুজ/মাহি

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়