ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  ফাল্গুন ১৩ ১৪৩২ || ৮ রমজান ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

উপাচার্য হওয়ার দৌড়ে ওবায়দুলের রূপকল্প: গবেষণা, স্বচ্ছতা, সহাবস্থান

ঢাবি প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:১২, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ১৪:১২, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
উপাচার্য হওয়ার দৌড়ে ওবায়দুলের রূপকল্প: গবেষণা, স্বচ্ছতা, সহাবস্থান

অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শূন্য উপাচার্য পদে নিয়োগ ঘিরে জল্পনা-কল্পনার মধ্যেই নিজের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় শীর্ষে থাকা বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

বর্তমানে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্বে থাকা এই জ্যেষ্ঠ শিক্ষক মনে করেন, দেশের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কেবল পাঠদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; বরং এটিকে আন্তর্জাতিক মানের ‘গবেষণা ও নৈতিকতার প্রাণকেন্দ্র’ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

আরো পড়ুন:

অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলামের মতে, সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিতে হলে গবেষণায় আমূল পরিবর্তন অপরিহার্য।

এ বিষয়ে রাইজিংবিডি ডটকমকে তিনি বলেন, “প্রতিটি বিভাগে গবেষণার উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। আধুনিক ল্যাবরেটরি ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি বৈশ্বিক গবেষণায় পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে হবে।”

শিক্ষাঙ্গনে সুস্থ ধারার রাজনীতি ও সহাবস্থানের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় হবে মুক্তচিন্তার চারণভূমি। পরমতসহিষ্ণু ও সংঘাতমুক্ত একাডেমিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ও নীতিনিষ্ঠ থাকতে হবে।”

তার প্রস্তাবিত রূপরেখায় গুরুত্ব পেয়েছে একাডেমিক উৎকর্ষ, মুখস্থনির্ভর শিক্ষার বদলে গবেষণাভিত্তিক জ্ঞানচর্চা, নৈতিক শিক্ষার প্রসার এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা গড়ে তোলা। পাশাপাশি প্রশাসনিক কার্যক্রমে শতভাগ জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং বৈষম্যহীন, নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়ে তোলার কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি।

শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্ক উন্নয়ন এবং অংশগ্রহণমূলক শাসনব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম বলেন, “সবার মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই একটি কার্যকর ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ তৈরি সম্ভব। সম্মিলিত অঙ্গীকার ও দৃঢ় নেতৃত্বের মাধ্যমেই আমরা এই প্রাচীন প্রতিষ্ঠানকে তার হারানো গৌরব ফিরিয়ে দিতে পারি।”

তার এ স্বপ্ন ও রূপরেখা ইতোমধ্যে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একটি অংশের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। এখন দেখার বিষয়, ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যাপীঠের শীর্ষ পদে দায়িত্ব পাওয়ার সুযোগ তিনি পান কি না এবং পেলে তার পরিকল্পনার বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব হয়।

ঢাকা/সৌরভ/জান্নাত

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়