কুবিতে রোদে স্বস্তি ছড়ায় ক্যাসিয়া জাভানিকা
এমদাদুল হক, কুবি প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
গ্রীষ্মের শুরুতেই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) ক্যাম্পাসে ফুটে ওঠে নানা রঙের ফুল। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ে তুলনামূলক বিরল ক্যাসিয়া জাভানিকা, যা স্থানীয়ভাবে ‘লাল সোনাইল’ নামে পরিচিত। প্রখর রোদের মাঝে চারপাশ যখন কিছুটা বিবর্ণ লাগে, তখন এই ফুলের রঙিন উপস্থিতি এনে দেয় চোখের আরাম আর মনের স্বস্তি।
তীব্র গরমের মধ্যেও ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলেই বদলে যায় পরিবেশ। প্রধান ফটক পেরোতেই রাস্তার দুপাশে সারি বেঁধে থাকা গোলাপি আভাযুক্ত ক্যাসিয়া জাভানিকা যেন পথচারীদের স্বাগত জানায়। গ্রীষ্মকালীন ফুলের তালিকায় নতুন এই সংযোজনটি প্রায় তিন বছর আগে ক্যাম্পাসে রোপণ করা হয়।
কুবিতে জারুল, কৃষ্ণচূড়া ও সোনালুসহ আরও অনেক গ্রীষ্মকালীন ফুল থাকলেও, ঋতুর শুরুতেই ক্যাম্পাসকে প্রথম রাঙিয়ে তোলে ক্যাসিয়া জাভানিকা। শুধু প্রধান ফটকের আশপাশেই নয়, মুক্তমঞ্চ সংলগ্ন সড়কের দুই পাশেও দেখা যায় এর মনোমুগ্ধকর উপস্থিতি।
এই ফুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ শিক্ষার্থীরাও। লোক প্রশাসন বিভাগের ১৬তম আবর্তনের শিক্ষার্থী রশিদুল ইসলাম শুভ বলেন, “ক্যাম্পাস এখন দারুণ নান্দনিক হয়ে উঠেছে। এই ফুলগুলো দেখলেই মনে প্রশান্তি আসে। প্রতিদিনের ব্যস্ততার মাঝেও এগুলোর দিকে তাকালে নতুন করে প্রাণ ফিরে পাই।”
আইন বিভাগের ১৭তম আবর্তনের শিক্ষার্থী মেহেরুন্নেছা আশা বলেন, “গ্রীষ্মের এই তীব্র গরমেও ক্যাম্পাসে ঢুকলেই অন্যরকম লাগে। প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশ করতেই দুপাশে ফুটে থাকা পিংক ক্যাসিয়া জাভানিকা চোখে পড়ে। মনে হয়, প্রকৃতি যেন আমাদের ক্লান্তি দূর করতেই এই সৌন্দর্য ছড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে বিকেলের আলোয় ফুলগুলো আরও বেশি সুন্দর লাগে।”
‘লাল সোনাইল’ নামে পরিচিত ক্যাসিয়া জাভানিকা দেশের দুর্লভ ফুলগুলোর একটি। গ্রীষ্মকালীন এই ফুল বাংলাদেশ, ভারত, মায়ানমার, জাপান ও ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলে ফোটে। মাঝারি আকারের এই দ্রুত বর্ধনশীল গাছে থোকায় থোকায় ফুল ফোটে এবং এর বীজ লম্বাটে শুঁটির মতো দণ্ডে থাকে। অল্পবয়সী গাছ দেখতে অনেকটা ছাতার মতো হয়। অনেকের কাছে এটি সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত।
ঢাকা/জান্নাত