ঢাকা     মঙ্গলবার   ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ||  বৈশাখ ১৫ ১৪৩৩ || ১১ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

ডাকসু নেতাদের ওপর হামলা, মামলা না নেওয়ায় পুলিশকে লিগ্যাল নোটিশ

ঢাবি প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:১১, ২৮ এপ্রিল ২০২৬   আপডেট: ১৮:১৬, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
ডাকসু নেতাদের ওপর হামলা, মামলা না নেওয়ায় পুলিশকে লিগ্যাল নোটিশ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) দুই নেতা ও কয়েকজন শিক্ষার্থীর ওপর শাহবাগ থানার ভেতরে হামলার ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা (এফআইআর) না নেওয়ায় সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক মো. যুবায়ের বিন নেছারী (এবি জুবায়ের) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেনের মাধ্যমে এ নোটিশ পাঠান।

আরো পড়ুন:

নোটিশটি জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব, বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), ডিএমপি কমিশনার, রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এবং শাহবাগ থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) কাছে পাঠানো হয়।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, গত ২৩ এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভুয়া ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ জানাতে তিনি শাহবাগ থানায় গেলে সেখানে উপস্থিত ছাত্রদলের ১০০ থেকে ১২০ জন নেতাকর্মী তাকে অবরুদ্ধ করে রাখে।

পরবর্তীতে সংবাদ পেয়ে মাস্টারদা সূর্যসেন হল সংসদের কার্যনির্বাহী সদস্য মো. সায়েদুজ্জামান নুর আলভী ঘটনাস্থলে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। পরে বিষয়টি জানতে পেরে ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়েরসহ অন্যান্য নেতারা থানায় যান।

অভিযোগ অনুযায়ী, থানার ভেতরে প্রবেশের পর ছাত্রদলকর্মী জুনায়েদ আবরার এবি জুবায়েরকে মারধর করেন। এ সময় আলামিন, শাহ মুহাম্মাদ রুবায়েত ও সৈকত মোরশেদ তার মাথায় আঘাত করেন। একই ঘটনায় ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদের মাথায়ও হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়। এছাড়া, অজ্ঞাতনামা আরো ৩০-৩৫ জন এ হামলায় অংশ নেয়। পরে তারা থানার একটি কক্ষে আশ্রয় নিলেও সেখানেও হামলার শিকার হন। পরবর্তীতে সহপাঠীরা তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

নোটিশে আরো বলা হয়, চিকিৎসা শেষে ২৬ এপ্রিল এবি জুবায়ের শাহবাগ থানায় লিখিত এজাহার জমা দিতে গেলে থানার ওসি তা এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান।

এ প্রেক্ষিতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৪ ধারা, পুলিশ রেগুলেশনস অব বেঙ্গল (পিআরবি) ১৯৪৩-এর বিধি ২৪৪(ক) এবং সংশ্লিষ্ট আদালতের রায় উল্লেখ করে বলা হয়, কোনো আমলযোগ্য অপরাধের তথ্য পেলে পুলিশ বাধ্যতামূলকভাবে এফআইআর গ্রহণ করবে। নোটিশে দ্রুত মামলা গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানানো হয়েছে। অন্যথায় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।

ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের বলেন, “থানার ভেতরে প্রকাশ্যে হামলার পরও পুলিশ কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। বরং আমরা এজাহার দিতে গেলে সেটিও গ্রহণ করেনি, যা সম্পূর্ণ আইনবিরোধী।”

তিনি আরো বলেন, “দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর থানার ভেতরে হামলা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য হুমকিস্বরূপ। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।”

ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, “স্পষ্ট আইনি বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও পুলিশ আমাদের মামলা নেয়নি। আমরা মনে করি, কোনো চাপ বা নির্দেশনার কারণে তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”

তিনি আরো বলেন, “থানার ভেতরে এমন গুরুতর ঘটনায়ও যদি মামলা না নেওয়া হয়, তবে তা আইনের শাসনের জন্য উদ্বেগজনক। আমরা আশা করি প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।”

ঢাকা/সৌরভ/জান্নাত

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়