দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে সংসদে শামা–নাহিদের বিতর্ক
ছবি সংগৃহীত
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দুর্নীতি নিয়ে সংসদে বিতর্কে জড়ালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপির সংসদ সদস্য শামা ওবায়েদ অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ করেন। তখন তার প্রতিবাদ জানান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, যিনি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন।
শামা ওবায়েদ বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থান প্রমাণ করেছে যে নতুন প্রজন্ম দেশপ্রেমিক। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত ৫ আগস্টের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের নবীন সদস্যদের বিরুদ্ধেও গত দেড় বছরে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।”
দেশের জন্য সরকার ও বিরোধীদল উভয়কেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরে শামা ওবায়েদ বলেন, “যদি সরকারে থেকে কাজ করতে হয় তাহলে অভিজ্ঞতা, সাহস, বুদ্ধিমত্তাও দরকার। বিএনপি এমন রাজনৈতিক দল, যারা ফেসবুকে রাজনীতি করে না।”
শামা ওবায়েদ বলেন, “শুধু ‘বট বাহিনী’ দিয়ে, স্ট্যাটাস দিয়ে মানুষকে ছোট করে, আজে বাজে কথা বলে ভাইরাল হয়ে রাজনীতি হয় না।”
যদি ১৯৭১ সালে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া থাকত, তাহলে দেশ স্বাধীন হতো কি না, তা নিয়ে সন্দেহের কথা বলেন তিনি।
মুক্তিযুদ্ধ সবকিছুর ঊর্ধ্বে—এমন মন্তব্য করে শামা ওবায়েদ বলেন, “আমি আমার সামনে বসা সংসদ সদস্য নাহিদ ও হাসনাতদের (হাসনাত আবদুল্লাহ) সেন্টিমেন্ট রিলেট করি; আমরাও চাই আমাদের সন্তানেরা এমন এক নতুন বাংলাদেশে বসবাস করুক, যেখানে আইনের শাসন থাকবে, খুনের বিচার হবে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হবে। আমরা যদি কাদা–ছোড়াছুড়ি না করে ঐক্যবদ্ধ থাকি, তবে এই পার্লামেন্ট থেকেই গুণগত উন্নয়নের সূচনা হবে।”
শামা ওবায়েদের বক্তব্যের পর ফ্লোর নেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি নিজের পাশাপাশি বিএনপির বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানেরও অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং বর্তমান আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের অ্যাটর্নি জেনারেলের পদে থাকার বিষয়টি তুলে ধরেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, “দুর্নীতির অভিযোগ যেহেতু উনি বললেন, ওনারা সরকারে আছেন, ওনাদের এটা প্রমাণ করতে হবে। এটার প্রমাণ জাতীয় সংসদে যেহেতু বলেছেন, প্রমাণ দিতে হবে। নাহিদ ইসলামের নামে কী দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, নাহিদ ইসলাম কোথায় দুর্নীতি করেছেন? সে প্রমাণ আমি ওনাদের কাছে চাচ্ছি।”
তবে এই বিতর্কের সুরাহা করে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, “পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে কারো নাম বলেননি।”
ঢাকা/আসাদ/সাইফ
বিমানবন্দরে নিরাপত্তা জোরদার, বাড়ছে নজরদারি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী