ঝড়ের নাম ‘তাওহীদ-পারভেজ-শামীম’
আগের দিনে ঢাকার পড়ন্ত বিকেলের রক্তিম আকাশের সঙ্গে বৈশাখের ঝড় প্রকৃতিপ্রেমিদের আনন্দ বাড়িয়ে দেয়। বৃষ্টিস্নাত সন্ধ্যা ভিজিয়ে দেয় গোটা শহর। ঢাকার সেই তেজটা আজ দেখা মিলল বন্দরনগরী চট্টগ্রামে। কিন্তু প্রকৃতির মায়াবি সৌন্দর্যের পরিবর্তে আজ বৈশাখের ঝড় তুললেন বাংলাদেশের তিন ব্যাটসম্যান তাওহীদ হৃদয়, পারভেজ হোসেন ইমন ও শামীম হোসেন পাটোয়ারী।
তাদের ঝড় তোলা ব্যাটিংয়ে নিউ জিল্যান্ডের বোলারদের স্রেফ এলোমেলো করে বাংলাদেশ জিতেছে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে। চট্টগ্রামে নিউ জিল্যান্ড আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ৬ উইকেটে ১৮২ রান করে। জবাব দিতে নেমে বাংলাদেশ ১২ বল আগে ৬ উইকেট হাতে রেখে লক্ষ্যে পৌঁছে যায়।
বাংলাদেশের অনায়েস জয়ের চিত্র শেষটাতে যত সুন্দর লাগছে ইনিংসের শুরুতে কিংবা মাঝে একবারও মনে হয়নি এমন কিছুও হতে পারে। সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসানের উদ্বোধনী জুটি ৫.৩ ওভারের। এ সময়ে রান তোলে ৪১। ১৬ বলে ২ চার ও ১ ছক্কায় সাইফের ১৭ রানে ভাঙে উদ্বোধনী জুটি। এরপর তানজিদের দৃষ্টিকটু ২৫ বলে ২০ রানের ইনিংস শেষ হয় ১০.১ ওভারে। মাঝে ইশ শোধির নিচু হওয়া বলে লিটন বোল্ড হন ২১ রানে।
১০.১ ওভারে ৭৭ রানে ৩ উইকেট নেই বাংলাদেশের। সেখান থেকে ৫৯ বলে বাংলাদেশের প্রয়োজন ১০৬ রানের। টি-টোয়েন্টিতে এই রান হয়ে যায় বলে কয়ে। কিন্তু বাংলাদেশের জন্য কাজটা কঠিন। কিন্তু সেই প্রশ্ন আজকের পর থেকে কেউ করবে না নিশ্চিতভাবেই। কেননা মিডল ও লেট মিডল অর্ডারে তাওহীদ, পারভেজ ও শামীম যা করলেন তা শুধু বিস্ময়ই ছড়ায়নি, উন্মাতাল করেছে গ্যালারি। উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে দিয়েছে টিভির সামনে। আর মোবাইলের স্কোরবোর্ডে একটু পরপর যারা ঢুঁ মেরেছেন তারা তো করতালিতে ভরিয়ে দিয়েছেন।
ঝড়ের শুরুটা তাওহীদ হৃদয়ের ব্যাট থেকে। ইশ শোধিকে মিড উইকেট দিয়ে ছক্কায় উড়িয়ে। সঙ্গী পারভেজ হোসেনও ক্রিজে এসেই শোধির পরপর দুই বলে চার ও ছক্কা হাঁকান। ১২তম ওভারের তৃতীয় বলে তাওহীদ ক্লার্কসনকে মাথার ওপর দিয়ে যে ছক্কা মেরেছেন তা চোখ ধাঁধিয়ে দেয় সবাইকে। পারভেজ থেমে থাকেন না। পরের ওভারে এই ক্লার্কসনকে দিনের সবচেয়ে বড় ছক্কাটি মেরে পাঠান গ্যালারিতে। ওই ওভারে পারভেজ সীমানায় ক্যাচ দিলেও যা করার তা করে দিয়ে এসেছ্।ে ১৪ বলে ১ চার ও ২ ছক্কায় ২০০ স্ট্রাইকরেটে তার রান ২৮।
এরপর ক্রিজে শামীম যোগ দিলেন। ৩১ বলে বাংলাদেশের লক্ষ্য তখন ৪৯। একটু বিপদ হলেই শেষ। কিন্তু শামীম ক্রিজে গিয়ে যা করলেন তা চিন্তার সীমানাকেও হার মানায়। স্মিথের বলে নো লুক সিক্সে বার্তা দেন, আজ জিততেই এসেছি। এক ওভার পর ফ্লিক করে মিড উইকেট দিয়ে চার। অভিষিক্ত ফ্রিসারকে একই জায়গা দিয়ে ছক্কা।
শামীমের দাপুটে ব্যাটিং ও তাওহীদের ঝড়ে মুগ্ধ হয়ে ক্রিক ইনফোর ধারাভাষ্যে ভেসে উঠে, ‘‘বিশ্বাসই হচ্ছে বাংলাদেশ! টি-টোয়েন্টিতে ব্যাটিং শিখে গেছে।’’
২৭ বলে ২ চার ও ৩ ছক্কায় ফিফটি তুলে তাওহীদ অপরাজিত ৫১ রানে। শামীম ১৩ বলে ৩১ রান করেন ৩ চার ও ২ ছক্কায়। স্ট্রাইক রেট ২৩৮.৪৬। চতুর্থ ও পঞ্চম উইকেট জুটিই পাল্টে দেয় সবকিছু। পারভেজ ও তাওহীদ ২৮ বলে করেন ৫৭ রান। শামীম ও তাওহীদ ৪৯ করেন ২১ বলে। ম্যাচের চিত্র পাল্টে যেতে আর কী লাগে।
এর আগে বাংলাদেশের বোলিংও হয়েছিল যুৎসই। সতেজ উইকেটে নিউ জিল্যান্ডের দুই ব্যাটসম্যান পেয়েছেন ফিফটি। কেটেন ক্লার্ক ৩৭ বলে করেন ৫১ রান। ডেন ক্লেভার ২৮ বলে করেন ৫১ রান। এছাড়া নিক কেলি ২৭ বলে করেন ৩৯ রান। শেষ দিকে জশ ক্লার্কসনের ১৪ বলে ২৭ রানের ইনিংসে নিউ জিল্যান্ড বড় সংগ্রহ পেলেও বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের সামনে টিকতে পারেনি।
রিশাদ হোসেন ৩২ রানে ২ উইকেট নিয়ে ছিলেন দলের সেরা। ১টি করে উইকেট নেন শরিফুল, তানজিম ও মাহেদী।
একই মাঠে একদিনের বিরতির পর দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি অনুষ্ঠিত হবে। একই ধারাবাহিকতা বাংলাদেশ ধরে রাখতে পারে কিনা সেটাই দেখার।
ঢাকা/ইয়াসিন/আমিনুল