ঝড়ো ব্যাটিংয়ের মন্ত্র ছিল একটাই, ‘অ্যাটাক’
তাওহীদ- ২৭ বলে ৫১, স্ট্রাইক রেট ১৮৮.৮০। (২ চার ও ৩ ছক্কা);
পারভেজ- ১৪ বলে ২৮, স্ট্রাইক রেট ২০০.০০। (১ চার ও ২ ছক্কা);
শামীশ- ১৩ বলে ৩১, স্ট্রাইক রেট ২৩৮.৪৬। (৩ চার ও ২ ছক্কা)।
বাংলাদেশের চার, পাঁচ ও ছয় নম্বর ব্যাটসম্যানদের শেষ এমন বিধ্বংসী ব্যাটিং কবে দেখেছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে? চট্টগ্রামে ধারাবাহিকভাবে তাওহীদ, পারভেজ ও শামীম এমন কাজ করে দেখালেন। স্রেফ ঝড় তুললেন। লণ্ডভন্ড করলেন নিউ জিল্যান্ডের বোলিং অর্ডার।
নিউ জিল্যান্ডের সেরা বোলিং আক্রমণ নেই। তবুও যারা এসেছেন তারা তাদের ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রমাণ করেই এসেছেন। তাদের নিয়ে ছেলেখেলায় মেতে উঠে ২ ওভার হাতে রেখে ১৮২ রান তাড়া করে বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি জিতবে তা ভাবতে পারেনি কেউই।
আবার শুরুটাও ছিল না ভালো। পাওয়ার প্লে’তে ১ উইকেটে বাংলাদেশের রান কেবল ৪৪। ১০.১ ওভারে ৩ উইকেটে ৭৭। সেখান থেকে ৫৯ বলে বাংলাদেশের প্রয়োজন ১০৬ রানের। তাওহীদ, পারভেজ ও শামীম ম্যাচের সমীকরণ মিলিয়ে দিলেন অনায়েসে।
২৭ বলে ফিফটি পেয়ে ম্যাচসেরা নির্বাচিত হওয়া তাওহীদের দাবি চাপহীন ক্রিকেট খেলার কারণেই আজ ম্যাচটা জেতা সম্ভব হয়েছে, ‘‘দলটা অনেকদিন আমরা সবাই একসঙ্গে খেলছি। বোঝাপড়া অনেক ভালো আছে প্রত্যেকটা খেলোয়াড়ের সঙ্গে। আমার কাছে আজ যেটা ইতিবাচক মনে হয়েছে, আমরা চাপ নেইনি। বাইরে থেকেও আমরা বুঝতে পারিনি যে আমরা চাপে আছি। এরকম ম্যাচ আমরা যত জেতাতে পারবো তত দলের জন্য ভালো এবং খেলোয়াড় হিসেবে তাদের জন্য অনেক আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।’’
শুরুর ব্যাটিং যুৎসই না হলেও মনোবল নষ্ট করেননি তাওহীদ তা তার কথায় বোঝা গেছে, ‘‘আমাদের মিডল অর্ডারে অনেক বড় টার্গেট ছিল। ওটা পার্ট অফ গেম। একদিন পাওয়ারপ্লে ভালো হবে, একদিন মিডল অর্ডার খারাপ হবে, এমনই। যেদিন পাওয়ারপ্লে ভালো হবে না সেদিন অবশ্যই মিডল অর্ডারের দায়িত্ব বেড়ে যায়। এটা খুব স্বাভাবিক।’’
মিডল ও লেট মিডল অর্ডারের ব্যাটিং পরিকল্পনা জানাতে গিয়ে তাওহীদ বলেছেন, ‘‘পরিকল্পনা নির্ভর করছিল পরিস্থিতির ওপর। ওই সময়ে বেশি রান দরকার ছিল। রান একটু কম হয়ে গিয়েছিল। শুধুমাত্র পরিকল্পনা করেছিলাম অ্যাটাক করবো। ওখানে যদি অ্যাটাক না করতে পারি তাহলে হয়তোবা কঠিন হয়ে যেত।’’
ব্যাটসম্যানরা টি-টোয়েন্টি খেলাটা ভালোমতো বুঝতে পেরেছে তা তার কথাতেও স্পষ্ট হয়েছে, ‘‘টি-টোয়েন্টি খেলাটাই এমন। এক-দুই ওভার ভালো হবে, তখন দেখা যায় যে খেলাটা প্রতিপক্ষের হাতে চলে যায়। দুই ওভারের ম্যাচ। দুই ওভার যদি আমরা ভালো ব্যাটিং করি, ভালো বোলিং করি, দুই-তিনটা উইকেট নেই… তাহলে এদিক-ওদিক হয়ে যায়।’’
‘‘যে খেলোয়াড়গুলো আছে তারা সবাই অভিজ্ঞ। এরকম ম্যাচ যদি আমরা না জেতাতে পারি তাহলে তো এটা আমাদের জন্য একটা ভালো দিক না। ব্যাটসম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিতে হবে।’’ – যোগ করেন তিনি।
শেষ দিকে শামীমের ঝড়কে তাওহীদ বলছেন ইমপ্যাক্টফুল ইনিংস, ‘‘শামীমের ইনিংসটি ছিল ইমপ্যাক্টফুল। এই জিনিসটা আমাদের নিজেদেরও বুঝতে হবে ইমপ্যাক্টফুল ইনিংসটা আসলে কতটুকু। অনেক সময় আমরা নিজেরাও চিন্তা করি যে ফিফটি বা হান্ড্রেড। আমার কাছে মনে হয় যে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ১০ রানও ইমপ্যাক্টফুল ইনিংস হতে পারে।’’
শামীমকে নিয়ে আলাদা প্রশংসা করে বলেছেন, ‘‘আমি তো অনেক উপভোগ করি ওর ব্যাটিং। এমন এমন শটস ও খেলে যেটা আমাদের খুব কম ব্যাটসম্যানই আছে যে ঐরকম শটস খেলতে পারে। নাম্বার সিক্স পজিশনে এরকম প্লেয়ারই দরকার যে আপনার সব দিকেই যেকোনো সময় মেরে দিতে পারবে। বোলাররা অনেক চাপে থাকে এরকম শটস খেললে। যেমন যে ছয়টা ও মেরেছে (মাথার ওপর দিয়ে পেছনে) আপনি যদি খেয়াল করে দেখেন এরকম ছয় আমরা খুব কমই মারতে পারি।’’
ঢাকা/ইয়াসিন/আমিনুল