ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৪ মাঘ ১৪২৬, ২৮ জানুয়ারি ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

অর্থ পাচার রোধে কৌশলগত বিশ্লেষণ কমিটি হচ্ছে

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১২-১১ ১১:৫৮:১১ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১২-১৩ ২:৪০:৫৯ পিএম

বৈদেশিক বাণিজ্যের আড়ালে বিদেশে অর্থ পাচারকে উচ্চ ঝুঁকি বিবেচনার নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। পাশাপাশি পাচারকৃত অর্থ চিহ্নিত করতে কৌশলগত বিশ্লেষণের জন্য একজন উপমহাব্যবস্থাপকের নেতৃত্বে ৯ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই নির্দেশনা দিয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বৈদেশিক বাণিজ্যের আড়ালে অর্থ পাচার প্রতিরোধে প্রতিটি ব্যাংকের করণীয় বিষয়ে গাইডলাইন তৈরি, বৈদেশিক বাণিজ্যের কাজে নিয়োজিত সকল ব্যাংক কর্মকর্তাকে বাণিজ্যভিত্তিক মানিলন্ডারিং বিষয়ক প্রশিক্ষণের আওতায় নিয়ে আসা, বিদেশে অর্থ পাচারের মামলা তদন্তে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরকে তাৎক্ষণিক সহায়তা প্রদান করতে হবে।

বৈদেশিক বাণিজ্যের আড়ালে অর্থ পাচার বা মানিলন্ডারিং প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগের আওতায় গতকাল মঙ্গলবার গাইডলাইন্স জারি করেছে মানিলন্ডারিং, সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে কেন্দ্রীয় সংস্থা হিসেবে কার্যরত বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বিএফআইইউ, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত ফোকাস গ্রুপ গাইডলাইন্স এর খসড়া প্রণয়ন করে। পরবর্তীতে বিএফআইইউ গাইডলাইন্স জারির আগে সকলের মতামতের জন্য গাইডলাইন্স ওয়েবসাইটে সকলের মতামতের জন্য প্রকাশ করে।

সংশ্লিষ্ট সকল স্টেকহোল্ডারের সাথে আলোচনা এবং প্রাপ্ত মতামত পর্যালোচনা করে গতকাল চূড়ান্ত গাইডলাইন্স সম্বলিত সার্কুলার জারি করা হয়। সার্কুলার অনুযায়ী বিএফআইইউ-এর গাইডলাইন্সের আলোকে প্রতিটি ব্যাংক বাণিজ্যভিত্তিক মানিলন্ডারিং ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে নিজস্ব গাইডলাইন্স প্রস্তুত করে ২০২০ সালের ১০ মার্চের মধ্যে বিএফআইইউ-এ দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

২০২০ সালের ১ জুন থেকে এর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হবে বলেও জানানো হয় ওই প্রজ্ঞাপনে।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায়, পাচারকৃত অর্থের বেশীরভাগ অর্থাৎ, ৮০ শতাংশেরও বেশী বৈদেশিক বাণিজ্যের মাধ্যমে পাচার হয়। বাংলাদেশের বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদন ও সংবাদ মাধ্যমেও বাংলাদেশ হতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশী মানিলন্ডারিং বা অর্থ পাচার হচ্ছে। এছাড়াও বিএফআইইউ, দুদক ও সিআইডি’র যৌথ উদ্যোগে প্রণীত ‘বাংলাদেশের মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন ঝুঁকি নিরূপণ প্রতিবেদন’ এ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং ও বিদেশে অর্থ পাচারকে ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

 


ঢাকা/হাসান/নাসিম