ঢাকা, সোমবার, ২২ চৈত্র ১৪২৬, ০৬ এপ্রিল ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

৩০ হাজার টন জ্বালানির কার্যোত্তর অনুমোদন দরকার বিপিসির

কেএমএ হাসনাত : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০২-২৪ ৮:০৫:৪৯ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০২-২৪ ৮:০৫:৪৯ পিএম

জরুরি প্রয়োজনে ১৫ হাজার ২৭৮ দশমিক ৫৯০ মেট্রিক টন জেট এ-১ এবং ১৪ হাজার ৪০১ দশমিক ৬৪২ মেট্রিক টন ডিজেল কম্বি পার্সেলে আমদানির বিপরীতে ১৫৯ কোটি ১২ লাখ টাকার একটি কার্যোত্তর ক্রয়ের অনুমোদনের প্রস্তাব সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে।

বিদ্যুৎ, জ্বালনি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদেশি উড়োজাহাজ যাতায়াত বেড়ে যাওয়ায় জ্বালানি তেলের চাহিদা বেড়ে গেছে। এ অবস্থায় জরুরি প্রয়োজনে জিটুজি ভিত্তিতে বিদেশ থেকে জ্বালানি তেল আমদানি করতে হচ্ছে। গত বছর এপ্রিলে অনুমোদিত পরিমাণের অতিরিক্ত একটি কম্বি পার্সেলে জেট এ-১ এবং ডিজেল আমদানি করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন। জরুরি ভিত্তিতে আমদানি করা ওই জ্বালানির কার্যোত্তর ক্রয় প্রস্তাবে অনুমোদনের জন্য একটি প্রস্তাব সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) বিভিন্ন দেশ থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব প্রতিষ্ঠান থেকে চাহিদার মোট ৫০ শতাংশ জিটুজি ভিত্তিতে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করে। ২০১৯ সালে জিটুজি ভিত্তিতে দুই লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন  জেট এ-১  আমদানির প্রস্তাব অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে ২০১৮ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত বৈঠকে অনুমোদিত হয়। জেট এ-১ এর চাহিদা আকস্মিক বেড়ে যাওয়ায় নিরবিচ্ছিন্ন সরবরাহ বহাল রাখার লক্ষ্যে জিটুজি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ইন্দোনেশিয়ার পিটি ভুমিসিয়াক পুসাকো (বিএসপি) থেকে ২০১৯ সালের এপ্রিলে অনুমোদিত পরিমাণের অতিরিক্ত একটি কম্বি পার্সেলে জেট এ-১ এবং ডিজেল আমদানি করতে হয়।

জ্বালানি তেলের মজুত ও বিক্রয় প্রবণতা অনুযায়ী ২০১৯ সালের এপ্রিলে ৪০ হাজার মেট্রিক টন জেট এ-১ এর চাহিদা নিরুপন করা হয়। জেট এ-১ আমদানির লক্ষ্যে ২০১৯ সালের ১১ মার্চ ইউনিপেক, সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড কাছ থেকে ৩০ হাজার টন ও কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (কেপিসি) কাছ থেকে ১০ হাজার টন জেট এ-১ এবং সরবরাহ সূচি  পাঠানো হয়। জবাবে ইউনিপেক ২০ হাজার টন ও কেপিসি  ১০ হাজার টন জেট এ-১ সরবরাহের সম্মতি জানায়। ফলে অবশিষ্ট ১০ হাজার মেট্রিক টন জেট এ-১ এর চাহিদা পূরণের জন্য বৃহৎ জিটুজি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কেপিসিকে ২০১৯ সালের ১৩ মার্চ ২টি পূর্ণ এ ১টি কম্বি কার্গোর স্থলে ২টি কম্বি  ও ১টি পূর্ণ কর্গো সরবরাহের পুনঃঅনুরোধ করে আমদানি সূচি  পাঠানো হয়। এতে কেপিসি অপারগতা প্রকাশ করে ওই সময়ের জন্য ২টি পূর্ণ ও ১টি কম্বি কাগোর চূড়ান্ত সরবরাহ সূচি  পাঠায়। কেপিসি এপ্রিল মাসে জেট এ-১ সরবরাহে ব্যর্থ হয়। এ কারনে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান পেটকো ট্রেডিং লাবুয়ান কোম্পানি লিমিটেড (পিটিএলসিএল) কে ২০১৯ সালের এপ্রিল সময়ে জেট এ-১ এর ১টি কম্বি পার্সেল (ডিজেল+জেট এ-১) সরবরাহের অনুরোধ করা হয়। এপ্রিলে সংস্থাটি কম্বি পার্সেল সরবরাহ করতে পারবে না বলে ইমেইল মারফত অবহিত করে।

এ অবস্থায় জিটুজি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বিএসপি থেকে ২০১৯ সালের এপ্রিল সমে একটি কম্বি পার্সেলে জেট এ-১ এবং ডিজেল সরবরাহের প্রস্তাব পাওয়া যায়। সাধারণত জেট এ-১ কম্বি পার্সেলে ডিজেলের সঙ্গে আমদানি করা হয়। এর আগে ২০১৮ সালের ৪ নভেম্বর বিএসপি ও বিপিসির মধ্যে ২০১৯ সালের জানয়ারি-জুন সময়ের জন্য অনুষ্ঠিত প্রিমিয়াম নেগোসিয়েশন বৈঠকে বিএসপির পক্ষ থেকে জেট এ-১ পিজেলের সঙ্গে কমিন্বনেশন কার্গো হিসেবে বিপিসির স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী সরবরাহের বিষয়ে প্রস্তাব করা হয়। বিপিসি তাতে সম্মতি জানায়।

সূত্র জানায়, ২০১৯ সালের মার্চে জেট এ-১ এর দৈনিক প্রাক্কলিত গড় বিক্রয় ১১৩০ মট্রিক টন থেকে ১৩৪০ মেট্রিক টন। এ বিক্রয়ধারা ও মজুত বিবেচনায় চাহিদার অবশিষ্ট ১০ হাজার মেট্রিক টন জেট এ-১ এপ্রিল মাসের ১ম সপ্তাহে আমদানি করা না হলে ডেডস্টক বাদ দিযে ৭/৮ দিনের মজুত  থাকত, যা জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আশঙ্কাজনক ছিল। ফলে ওই সময় লে-ক্যানে বিএসপি থেকে একটি কম্বি কার্গো আমদানি করা অত্যাবশ্যক হযে পড়ে। এছাড়া ওই সময়ে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে উদ্ভুত অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে  পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার না করে এরাবিয়ান সী হয়ে যাতায়াতের দূরুত্ব বেড়ে যাওয়ায় জেট এ-১ এর আকস্মিক চাহিদা বেড়ে যায়। তাছাড়া বিভিন্ন বিমান সংস্থার কার্গো বিমান যেমন-রাশিয়ান এয়ারবাস, তার্কিস এয়ারলাইনস ইত্যাদিও সংখ্যাও বেড়ে যাওয়ায় জেট এ-১ এর চাহিদা আগের তুলনায বেড়ে গেছে। আন্তর্জাতিক রুটে চলাচলকারি বিমানসমূহে চাহিদা অনুযায়ী জেট এ-১ সরবরাহ করা না হলে নোটিশ অব এয়ারমেন (এনওটিএএম) ঘোষণা করতে হয়, এতে দেশের সুনাম ক্ষুণ্ন হতে পারতো।

এসব বিষয় বিবেচনা করে বিপিসি প্রয়োজনীয় পরিমাণ জ্বালানি আমদানি করে এবং নিয়ম রক্ষায় কার্যোত্তর অনুমোদনের জন্য এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত বৈঠকে উপস্থাপন করবে বলে সূত্র জানিয়েছে।


ঢাকা/হাসনাত/সাইফ