ঢাকা     বুধবার   ২১ জানুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ৭ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

ম্যারিকোর বিরুদ্ধে সাবেক কর্মীদের ১,৮২৩ কোটি টাকা পরিশোধে গড়িমসির অভিযোগ

নিউজ ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:৫৫, ২০ জানুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ২২:৫৬, ২০ জানুয়ারি ২০২৬
ম্যারিকোর বিরুদ্ধে সাবেক কর্মীদের ১,৮২৩ কোটি টাকা পরিশোধে গড়িমসির অভিযোগ

ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেড ওয়ার্কার্স প্রফিট পার্টিসিপেশন (ডব্লিউপিএফ) ফান্ডের ১ হাজার ৮২২ কোটি ৯৮ লাখ টাকা পরিশোধ করছে না বলে অভিযোগ করেছেন এর সাবেক কর্মচারীরা। ডব্লিউপিএফ ফান্ডের ৫ শতাংশ পাওনা বাবদ এ অর্থ দাবি করেছেন তারা।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের আকরাম খাঁ মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি তুলে ধরেন ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেডের সাবেক কর্মীদের সংগঠন এক্স ম্যারিকোনিয়ান অ্যাসোসিশনের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান। 

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেড সাবেক কর্মীদের ন্যায্য পাওনা না দিয়ে তাদেরকে প্রতিপক্ষ মনে করছে। সাবেক কর্মীদের পাওনা পরিশোধের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির এমন অনীহা কাম্য নয়।

মাহফুজুর রহমান বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর অতিবাহিত হলেও ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেড নানা অজুহাতে প্রাক্তন কর্মচারীদের আইনগত প্রাপ্য টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হচ্ছে। বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এর ২৩৪ ও ২৪০(৩) ধারার বিধান অনুযায়ী সাবেক কর্মীরা ওয়ার্কার্স প্রফিট পার্টিসিপেশন ফান্ড এবং উক্ত ফান্ডের বিনিয়োগ মুনাফা পাওয়ার পূর্ণ আইনগত অধিকারী।

পাওনা পরিশোধের দাবিতে প্রতিষ্ঠানটির সাবেক কর্মীরা আদালতে দুটি মামলাও করেছেন। তবে, গত ১১ বছর ধরে ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেড বিচারিক কার্যক্রমেও সহযোগিতা না করে সময় প্রার্থনা ও নানা অজুহাতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সময়ক্ষেপণ করে প্রাক্তন কর্মচারীদের হয়রানি করছে করছে।

প্রাক্তন কর্মচারীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের শ্রম শাখার উদ্যোগে ১৭ বছরের প্রাপ্য ফান্ডের বিনিয়োগ মুনাফার বকেয়া বিষয়ে একটি সভা মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকালে হওয়ার কথা ছিল। তবে, সভায় মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, মহাপরিচালকগণ, প্রাক্তন কর্মচারীদের প্রতিনিধি এবং ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রতিনিধিদের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও ম্যারিকোর কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত হননি।

ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেড লাভজনক প্রতিষ্ঠান হওয়ার পরও শ্রম আইন অমান্য করে ২০০৬ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত নির্ধারিত ওয়ার্কার্স প্রফিট পার্টিসিপেশন ফান্ড ও ওয়ার্কার্স ওয়েলফেয়ার ফান্ড গঠন করেনি। ২০১৪ সালে (২০১৩-১৪ অর্থবছর) ফান্ড গঠন ও মুনাফা অংশগ্রহণ ঘোষণা করলেও ২০০৬ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত আইনগত প্রাপ্য অর্থ প্রাক্তন কর্মচারীদের দেওয়া হয়নি। ফলে, ওই সময়ে কর্মরত আবেদনকারীরা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হন।

আরো অভিযোগ করা হয়, ওই সময়ে ফান্ড গঠন না করায় শ্রমিকদের ৫ শতাংশ নিট মুনাফার অর্থ কোম্পানি নিজস্ব ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহার করেছে। বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এর ২৪০(৩) ধারা অনুযায়ী, বাংলাদেশের স্বনামধন্য চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ফার্মের মাধ্যমে অডিট সার্টিফিকেট অনুযায়ী ২০২৫ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত শ্রমিকদের মোট প্রাপ্য অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ হাজার ৮২২ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। প্রাক্তন কর্মচারীরা তাদের চাকরির মেয়াদ অনুযায়ী আনুপাতিক হারে এ অর্থ পাওয়ার আইনগত অধিকার রাখেন।

এক্স ম্যারিকোনিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অবিলম্বে প্রাক্তন কর্মচারীদের ন্যায্য ও আইনসম্মত পাওনা পরিশোধের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ ও দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছে।

ঢাকা/রফিক

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়