ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ২৫ এপ্রিল ২০২৪ ||  বৈশাখ ১২ ১৪৩১

কোটি টাকার ঘাটতি পূরণে ৫ মাস সময় পেলো ফারইস্ট স্টকস

নুরুজ্জামান তানিম || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:১৩, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩  
কোটি টাকার ঘাটতি পূরণে ৫ মাস সময় পেলো ফারইস্ট স্টকস

পুঁজিবাজারের ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সদস্যভুক্ত ব্রোকারেজ হাউস ফারইস্ট স্টকস অ্যান্ড বন্ডসের সমন্বিত গ্রাহক হিসাবের ১ কোটি ১৩ লাখ টাকা ঘাটতি রয়েছে। এ ঘাটতি পূরণ করার জন্য সময় চেয়ে ডিএসইর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) আবেদন জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটির সমন্বিত গ্রাহক হিসাবের ঘাটতি পূরণের জন্য পাঁচ মাস সময় বাড়িয়েছে বিএসইসি।

সম্প্রতি এ সংক্রান্ত বিষয়ে ফারইস্ট স্টকস অ্যান্ড বন্ডসসহ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ ও সেন্ট্রাল ডিপজেটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর চিঠি পাঠিয়েছে বিএসইসি।

এর আগে, চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি ফারইস্ট স্টকস অ্যান্ড বন্ডস সমন্বিত গ্রাহক হিসাবের ঘাটতি পূরণের জন্য ডিএসইর কাছে সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন করে। পরে বিষয়টি বিএসইসিকে জানায় ডিএসই।

ওই আবেদনের বিষয়ে উল্লেখ করে বিএসইসির চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ডিএসইর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ফারইস্ট স্টকস অ্যান্ড স্টকসের সমন্বিত গ্রাহক হিসাবের ১ কোটি ১৩ লাখ টাকা ঘাটতি সমন্বয় করার জন্য পাঁচ মাসের সময় অর্থাৎ চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত অনুমতি দেওয়া হলো। এছাড়া ডিএসই, সিএসই এবং সিডিবিএলকে প্রাসঙ্গিক সিকিউরিটিজ আইন অনুযায়ী তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে কোম্পানিটির প্রাসঙ্গিক নবায়নের আবেদন বিএসইসির কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হলো।

তথ্য মতে, ২০১৮ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরে ডিএসইর সদস্যভুক্ত ১৮৬টি ব্রোকারেজ হাউজের দাখিল করা নিরীক্ষিত বার্ষিক প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বিএসইসি। এতে ১৮টি ব্রোকারেজ হাউজ তাদের সমন্বিত গ্রাহক হিসাবের অর্থ আইন বহির্ভূতভাবে ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

পরবর্তীতে ব্রোকারেজ হাউজগুলোর সার্বিক আর্থিক অবস্থা যাচাইয়ের কাজ শুরু করেছে ডিএসই। এছাড়া প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত গ্রাহকদের হিসেবে আরও সিকিউরিটিজ (শেয়ার) ঘাটতি রয়েছে কি-না তাও যাচাই করা হয়। আর ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার হস্তান্তর বা বিক্রির প্রক্রিয়া যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়েছে কি-না তা নিশ্চিত করে বিএসইসিকে অবহিত করে ডিএসই। আর প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত গ্রাহক হিসাবের উপর প্রচলিত ব্যাংক রেটে সুদ আদায় করে গ্রাহকদের হিসেবে যথাযথভাবে জমা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

জানা গেছে, ব্রোকারেজ হাউজগুলোর মধ্যে শাহ মোহাম্মদ সগীর অ্যান্ড কোম্পানির সমন্বিত গ্রাহক হিসাবে প্রায় ১৩ কোটি টাকা ঘাটতি পাওয়া গেছে। এছাড়া আরও ৬টি ব্রোকারেজ হাউসের গ্রাহকদের সমন্বিত হিসেবে ১৮ কোটি টাকা ঘাটতি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে এম সিকিউরিটিজে ১০ কোটি টাকা, আইল্যান্ড সিকিউরিটিজে ৬ কোটি ৪৩ লাখ টাকা, বালি সিকিউরিটিজে ১ কোটি ২২ লাখ টাকা, ডিএমআর সিকিউরিটিজ সার্ভিসের ২০ লাখ ৬৮ হাজার টাকা, হেদায়েতুল্লাহ সিকিউরিটিজের ১০ লাখ ৩০ হাজার এবং শার্প সিকিউরিটিজের ৩ লাখ ২৬ হাজার টাকা সমন্বিত গ্রাহক হিসাবে ঘাটতি পাওয়া যায়।

ঢাকা/এনএইচ

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়